টেকনাফ টুডে ডেস্ক : টেকনাফে মাদক বিরোধী অভিযান যতই জোরদার হচ্ছে ততই মাদক কারবারীদের কৌশল পালিয়ে মাদক চোরাচালান অব্যাহত রয়েছে। এবার মিয়ানমার হতে রাতের অন্ধকারে বড় ধরনের ইয়াবার বড় চালান এনে মাটিতে লুকিয়ে রাখে। সময় সুযোগে এসব মাদকের চালান আনতে গিয়েই এবার বন্দুক যুদ্ধে এক রোহিঙ্গা মাদক কারবারী নিহত হয়েছে। এসময় বিজিবির দুই সদস্য আহত হলেও ঘটনাস্থল হতে বিপূল পরিমাণ ইয়াবা, দেশীয় অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
সুত্র জানায়, ১৫ নভেম্বর (শুক্রবার) রাতের প্রথম প্রহর ১টারদিকে টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের লেদা বিওপির একটি টহল দলের দায়িত্বরত অবস্থায় লেদা ছুরি খাল সংলগ্ন নাফনদীর কেওড়া বাগান মাটি খোঁড়ার শব্দ শুনতে পেয়ে এগিয়ে গিয়ে কয়েকজন লোক মাটি খুঁড়ে পলিথিন মোড়ানো একটি বস্তা বের করছে। বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করে চোখে-মুখে টর্চ লাইটের আলো ফেললে তারা বিজিবি টহল দলকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষন করলে গুলিতে বিজিবির নায়েক আলমগীর হোসেন (৪০) ও সিপাহী মোঃ আল মাসুদ আহত হয়। তখন বিজিবি সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে কিছুক্ষণ পর অপর মাদক কারবারী ও অস্ত্রধারীরা পালিয়ে গেলে পরস্থিতি শান্ত হয়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশী করে ১লক্ষ ২০হাজার ইয়াবা, ১টি দেশীয় তৈরী অস্ত্র, ২ রাউন্ড কার্তুজসহ জাদিমোরা বৃটিশ পাড়ার পশ্চিমের শরণার্থী ক্যাম্পে অবস্থানকারী মোতালেবের পুত্র নুর কবির (২৮) কে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে।
এদিকে আহত দুই বিজিবি সদস্য এবং গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে আহত বিজিবি সদস্যদের চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোহাম্মদ ফয়সাল হাসান খান এই অভিযানে হতাহত, মাদক ও অস্ত্র-বুলেট উদ্ধারের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্ত স্বাপেক্ষে এই ব্যাপারে পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে স্থানীয় একাধিক সুত্রমতে বৃটিশ পাড়া ও পাশর্^বর্তী এলাকার ঈমান হোছনের পুত্র মোঃ নুর, সফিক, নজির আহমদের পুত্র নুর বশর, ছৈয়দ হোছনের পুত্র বার্মাইয়া লম্বা মৌলভী, সিরাজ, জোবাইর, মৃত দুদু মিয়ার পুত্র সেলিম, মৃত ছৈয়দ হোছনের পুত্র মোঃ ইউনুছ, দিল মোহাম্মদের পুত্র মোঃ ইউনুছ, জকির আহমদের পুত্র ফরিদ আলম, সৈয়দ আহমদের পুত্র দিল মোহাম্মদ, জনৈক ফয়েজ, সাইফুল, জামাল, রফিক, এবং আশ্রিত রোহিঙ্গাসহ আরো ৪০/৫০ জনের সিন্ডিকেট এবং মোছনী এলাকার মোছনীর মনির আহমদ ড্রাইভার, শওকত আলী, লোকমান, জনৈক বদিউর রহমানসহ সড়কের পূর্ব পাশের্^র রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৩০/৪০জনের শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট নানা কৌশলে মাদকের চালান খালাস করে মাদক চোরাচালানের পাশাপাশি বিভিন্ন কারবারীদের কৌশলে সরবরাহ দিয়ে আসছে।
সরকারের মাদক বিরোধী অভিযানকে শতভাগ সফল করতে চিহ্নিত এসব মাদক কারবারীদের আইনের আওতায় আনার দাবী উঠেছে। ###
