আশেক উল্লাহ ফারুক : টেকনাফ সীমান্তে বেঙের ছাতার ন্যায় গড়ে উঠেছে, হুন্ডি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান মূলতঃ নিয়ন্ত্রন করছেন, চোরাকারবারীরা। হুন্ডি চোরাচালানের ন্যায় জাতীয় অর্থনীতির সচল চাকা অচল করে দেয়। এটি চোরাচালানের সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এ তথ্য জাতীয় অর্থনীতিবিদদের। প্রতি মাসে টেকনাফ থেকে মাদক, স্বর্ণ ও গবাধীপশুর বিপরীত প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার মংডু ও আকিয়াবে কোটি কোটি বাংলা মুদ্রা হুন্ডির মাধ্যমে পাচার হয়ে যাচ্ছে। টেকনাফ সীমান্তের, টেকনাফ পৌরসভাসহ হ্নীলা, টেকনাফ সদর ও সাবরাং বাজার পাড়ায় অগনিত হুন্ডি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নীরবে অর্থ লেনদেন করে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রবাশীদের বেশীরভাগ অর্থ ব্যাংকের পরিবর্তে হুন্ডির মাধ্যমে চলে আসে। হুন্ডির অর্থ নিয়ে সীমান্ত বাণিজ্যের অসাধু ব্যবসায়ী, মাদক ও স্বর্ণ চোরাকারবারীরা এসব পণ্য মিয়ানমার থেকে বৈধ ও অবৈধ বাণিজ্যের আড়ালে নিয়ে আসে। টেকনাফ সীমান্তে মাদক বিরোধী চলমান অভিযান অব্যাহত থাকলেও হুন্ডি ব্যবসা ও মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অভিযান চলেনী। এখন মাদকের পাশাপাশি চলছে, স্বর্ণ চোরাচালান ও হুন্ডি ব্যবসার আড়ালে চলছে, মাদক, স্বর্ণ ও গবাধীপশুর কালো ব্যবসা। সীমান্তের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত র্যাব, বিজিবি, পুলিশ, কোষ্টগার্ড বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব কালো ব্যবসা দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে। এর বদৌলতে বনে যাচ্ছে, বিপুল অর্থ ও বিত্তের মালিক। এ ক্ষেত্রে সরকার বিপুল পরিমান রেমিটেন্স ও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হুন্ডি ব্যবসা নিয়ন্ত্রন না থাকায় টেকনাফ সীমান্তের মাদক ও স্বর্ণ চোরাকারবারীদের দৌরাতœয় কমছেনা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টেকনাফ সীমান্তের আলোচিত ও চিহ্নিত এলাকা সমূহে প্রায় ২শতাধীক ছোট বড় হুন্ডি ব্যবসায়ী রয়েছে। তার পাশাপাশি রয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ প্রতিষ্ঠান। মাদকের ছোট বড় অর্থের লেনদেন এ প্রতিষ্ঠানের আড়ালে হয়ে থাকে। একাদিক সীম ব্যবহার করে ঔসব মাদকের কালো টাকা নীরবে লেনদেন হয় বলে একাদিক সূত্র জানায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কতিপয় সচেতন জনপ্রতিনিধি ও সরকারের প্রদস্থ কর্মকর্তা জানায়, মিয়ানমার থেকে মাদক ও স্বর্ণ কি এমনি আসে। এ গুলো বেশীরভাগ হুন্ডি ও মার্কিন ডলারের মাধ্যমে সে দেশের চোরাকারবারী হাতে চলে যাচ্ছে। প্রতি মাসে প্রায় ৫০ কোটি বাংলা মুদ্রার চেয়ে বেশী মিয়ানমারে পাচার হয়ে যাচ্ছে। সূত্র আরো জানায় হুন্ডি ব্যবসায়ীর সাথে স্থানীয় ব্যাংক কর্তার সাথে মধুর সম্পর্ক রয়েছে। তারই সুবাধে টেকনাফ সীমান্তে বেসরকারী ব্যাংকের সংখ্যা বাড়ছে। হুন্ডি ব্যবসা ও ব্যাংকের অবৈধ লেনদেন নিয়ন্ত্রন করতে পৃথক একটি স্থারী সংস্থা থাকা প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এদের বিরুদ্ধে নজরদারী না থাকার কারণে এর আগ্রাসন বাড়ছে। টেকনাফ মডেল থানার বিদায়ী সাবেক ও’সি মাঈন উদ্দীনের আমলে টেকনাফ পৌর এলাকাসহ কয়েকটি স্থানে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কতিপয় হুন্ডি ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করার পর এ পর্যন্ত কোন অভিযান শুরু হয়নি।
