টেকনাফে ব্যবসায়ীদের কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা সেই ইমরানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৩ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক :
টেকনাফে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যাওয়া আরএফএল এর সাবেক এসআর ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছে আদালত । মো. আলমগীর নামে একজন ব্যবসায়ীর দায়ের করা প্রতারনা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় (নং-৫৬২৩) কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রবিবার তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানাটি জারী করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবি এড. একেএম সায়েম।

তিনি জানান, টেকনাফের ব্যবসায়ী মো. আলমগীর কিছুদিন পূর্বে প্রতারনা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন ।
আদালত সেই মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন।

টেকনাফের ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, ইমরান নামে ওই যুবক দীর্ঘদিন যাবত আরএফএল কোম্পানীর সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসাবে কাজ করার সুবাধে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে। এসসময় ইমরান সুরাইম এন্টারপ্রাইজ নামে নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্লাস্টিক দ্রব্য সাপ্লাইয়ের কাজ শুরু করে। একপর্যায়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বড় অংকের সাপ্লাইয়ের অর্ডার পেয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের জানিয়ে তাদেরকে লভ্যাংশ প্রদানের আশ্বাসে আলমগীর সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা ধার নেন।

একপর্যায়ে ব্যবসায়ীদের টাকা ফেরত না দিয়ে মাস দেড়েক পূর্বে সে পরিবার নিয়ে গোপনে টেকনাফ ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে ব্যবসায়ীরা তাদের টাকা উদ্ধারে তারা আইন শৃংখলা বাহিনীসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ প্রদান করেন।

এতেও ব্যর্থ হয়ে ব্যবসায়ী আলমগীর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। সেই মামলায় আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন।

এছাড়া টেকনাফ বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তার, জামেয়া মার্কেটের ব্যবসায়ী আজিজুল হক, কবির, ইলিয়াছ, মো. নুর, লামার বাজারের মুজিব, স্টেশন এলাকার জসিম সহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ইমরান কয়েক কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান।

এর কিছুদিন আগে সে আরএফএল এর এসআর এর চাকরী ছেড়ে দেয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা। কিছুদিন পর ব্যবসায়ীরা ইমরান এর লাপাত্তা হওয়ার বিষয়টি টের পেয়ে তাকে ফোন দিলে সে কাল পরশু বলে তাদেরকে ঘোরাতে থাকে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কাউকে কোন টাকা ফেরত দেননি বলে জানান ভোক্তভুগি ব্যবসায়ীরা।

টাকা ফেরতের বিশ্বাস স্বরুপ সুচতুর ইমরান ব্যবসায়ীদের কাছে নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকের চেক জমা রাখেন। তবে সেসব একাউন্টে কোন টাকা পাননি উক্ত ব্যবসায়ীরা।

এদিকে ব্যবসায়ীদের কোট কোটি টাকা মেরে দিয়ে ইমরান বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন পাওনাদার ব্যবসায়ীরা।

এব্যাপারে তারা প্রশাসন আইন শৃংখলা বাহিনী পুলিশ ইমিগ্রেসন পাসপোর্ট অফিস সহ সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইমরানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা যায় নি। এমনিক তার ওয়াটসআপ নাম্বারে ক্ষুধেবার্তা প্রদান করেও কোন জবাব পাওয়া যায়নি।