মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
দেশের সর্বদক্ষিণ টেকনাফ সীমান্তের স্থল ও নৌ-পথের বিভিন্ন ব্যবহ্নত চোরাইপয়েন্ট দিয়ে প্রতিনিয়তই উদ্ধার করা হচ্ছে, ছোট-বড় ইয়াবা পাচারকারীকেও আটক করা হচ্ছে। এসব ঘঠনায় মামলা ও হচ্ছে। আটক হচ্ছে, ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান। এর সাথে জড়িত থাকার পাচারকারীকেও আটক করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় মামলা হচ্ছে। আটক হচ্ছে ইয়াবা স্বর্ণ চ্রোাচালানচক্রের সদস্যরা। তবে দ্রুতই জামিনে আবার বের হয়ে আসছেন। ফলে দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে পাচারকারীচত্রু।
টেকনাফ সীমান্তের স্থল ও নৌ-পথের বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত অভিযান থাকা সত্বেও ইয়াবা ও স্বর্ণ চোরাচালান বন্ধ হচ্ছেনা। ইয়াবা ও স্বর্ণ চোরাকারবারীরা আইন শৃংখলা বাহিনীর কঠোর নজরদারীর তোয়াক্কা করছেনা। ইয়াবা ও স্বর্ণ পাচারের অংশ হিসাবে তারা বেঁচে নিচ্ছে অভিনব নিত্য নতুন কৌশল। সংশ্লিষ্ঠ সূত্র জানায়, ইয়াবা ও স্বর্ণ চোরাচালান নির্বিগ্ন রাখতে একের পর এক কৌশল পাল্টাচ্ছে পাচারকারীরা। এসব নিত্যনতুন কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে তথ্য ইয়াবা ও সোনার চালান ধরতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সীমান্ত দায়িত্বে নিয়োজিত স্থল ও নৌ-পথে বিজিবি ও কোষ্টগার্ডদের অভিযোগ উঠেছে, হ্নীলা ওয়াব্রাং, জাদিমুড়া, নাজিরপাড়া, সাবরাং আলোগুল্লা প্রজেক্ট ০৫নং স্লুসগেইট, শাহপরীরদ্বীপ জালিয়াপাড়া ও গোলার পাড়া সীমান্ত রক্ষীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আহরিত মৎসের আড়ালে মধ্যে মধ্যে ইয়াবার চালান কৌশলে চলে আসে বলে একাধিক সূত্র জানায়। তবে বিজিবি ও কোষ্ঠগার্ডের অভিযোনে প্রায় সময় এসব চিহ্নিত পয়েন্ট দিয়ে আসা ইয়াবা ও স্বর্ণ জব্দ হয়ে থাকে।
বিজিবির সিজার তালিকা অনুযায়ী গেল ২০১৬ সালের ৩ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ ১৬ পর্যন্ত মোট ১১ দিনে বিজিবির পৃথক অভিযানে ১৭ লাখ ২৬ হাজার ১৯৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ২ জন আসামীসহ আটক করেছে। যার মূল্য ৫১ কোটি ৭৮ লাখ ৫৭ হাজার ৯শত টাকা। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার অভিযানে চুনোপুতুড়ী ইয়াবা পাচারকারী আটক হলেও ইয়াবার স¤্রাটরা ধরা পড়ছেনা। অথচ সংশ্লিষ্ঠদের অভিযানে ইয়াবার বড়ধরনের চালান জব্দ হচ্ছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ওরা ধরা পড়ছেনা। ফলে ইয়াবা ও স্বর্ণ চোরাচালান স্থীরভাবে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসনের হাতে ইয়াবাসহ পাচারকারী এবং ব্যবসায়ী আটক হলে ও আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে আদালত থেকে স্বল্প সময়ে জামিনে চলে আসে এবং কিছুদিন যেতে না যেতে পূনরায় এর সাথে জড়িত হয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে পুলিশের অভিযানে বিত্তশালী ইয়াবা ব্যবসায়ী আটক হলে, পরে তারা ধারা বাণিজ্যের মাধ্যমে আদালত থেকে জামিনে চলে আসে। শুধুমাত্র জেল হাজতে ধুকে ধুমে মরছে ইয়াবা ক্ষুদে ব্যবসায়ী এবং পাচারকারীরা।
এদিকে গত ১৯ ফেব্রুয়ারী (রোববারে) একদিনে কোষ্টগার্ডের পৃথক অভিযানে নাফ-নদীর মোহনায় ও কেরুনতলী স্থল বন্দরের উত্তর পার্শ্বে সাইরিংখাল থেকে ৯লাখ মালিক বিহীন ইয়াবাসহ একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা জব্দ করে। কোষ্টগার্ড কর্তৃপক্ষ বলেছেন, অভিযান চালানোর সময় ওরা টের পেয়ে ইয়াবা পুটলাগুলো রেখে পালিয়ে যায়।
সম্প্রতি টেকনাফ সীমান্তের হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ সদ্র, সাবরাং ও টেকনাফ পৌরসভায় আইনশৃংখলা বাহিনীর লোক পরিচয় দিয়ে তালিকা ও অতালিকাভূক্ত ইয়াবা ও হুন্ডি ব্যবসায়ীদের আটক করে নিয়ে যায়। পরে ওরা রহস্যজনক কারণে চলে আসে। এনিয়ে টেকনাফ সীমান্তে সাধারণ মানুষেরাও আতংকের মধ্যে ভোগছেন।
