বিশেষ প্রতিবেদক : টেকনাফে মাদ্রাসায় পড়ুয়া মেয়ের কথিত প্রেমিক দাবী করে বিয়ের পিঁড়িতে বসাতে ব্যর্থ হয়ে যাদুমন্ত্র, অপপ্রচার এবং সামাজিকভাবে হেয়পন্ন করায় নিরুপায় হয়ে আত্নহত্যার মধ্যদিয়ে শেষ পরিণতি হয়েছে। এই অপমৃত্যু নিয়ে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে ভিন্ন বক্তব্য থাকলেও কথিত প্রেমিক উধাও হয়ে গেছে।
২৭ ডিসেম্বর (সোমবার) সকাল সাড়ে ১০টারদিকে টেকনাফের হ্নীলা ১নং ওয়ার্ড আলী আকবর পাড়ায় জাফর আলম বাইট্টার মেয়ে মোহছেনা আক্তার সুমি (১৬) এর শয়ন কক্ষে গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেলে কান্নাকাটি শুরু হয়। তা নিয়ে এলাকায় তুমুল হৈ ছৈ পড়ে যায়। পরে বিষয়টি স্থানীয় মেম্বারের মাধ্যমে থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে বিকালে টেকনাফ মডেল থানার এসআই রফিকুল ইসলাম সর্ঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরীর পর মৃতদেহ নিয়ে যায়।
হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান,স্থানীয় মেম্বার বশির আহমদ বিষয়টি আমাকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মৃতদেহ পোস্টমর্টেমের জন্য নিয়ে গেছে। এই ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর এলাকার মানুষের মধ্যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ আব্দুল আলিম জানান,প্রেম গঠিত বিষয়ে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা অবহিত হয়েছি। মৃতদেহ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী প্রবাসী ভূলু মিয়ার পুত্র মুজিবুর রহমান ভোতাইয়ার সাথে এই সুমির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এরই মধ্যে ভোতাইয়া সুমিকে বিয়ে করার জন্য পারিবারিকভাবে প্রস্তাব পাঠায়। কিন্তু সুমির মা-বাবা ভূট্টোর সাথে বিয়ে দিতে রাজি হয়নি। এতে ভোতাইয়া ক্ষুদ্ধ হয়ে যাদুমন্ত্রের আশ্রয় নেয় এবং বিভিন্ন কটুক্তির মাধ্যমে সুমিকে অপমানিত করতে থাকে। এরই মধ্যে হ্নীলা পানখালীর দুবাই প্রবাসী এক ছেলের জন্য সুমিকে দেখতে যায়। সুমির মা-বাবা পারিবারিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে তার সাথে বিয়ে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করে। এই সুযোগে প্রেমিক ভোতাইয়া পানখালীর সুমির হবু শ^াশুড় বাড়ির লোকজনকে গিয়ে তাদের সম্পর্কের কথা জানায়। সে কথা সুমির পরিবারে জানানোর পর বিয়ে ভেঙ্গে যায়। এতে সুমি চরম অপমানবোধ করে এবং বাবা-মায়ের নিকট হতে গালমন্দ শোনে। সে পত্র মারফতে প্রেমের সম্পর্কের অজুহাতে তাকে ও তার পরিবারকে অপমানিত করার কারণ জানতে চায়। এতে ভোতাইয়া ক্ষুদ্ধ হয়ে সুমিকে মাতাল করার জন্য যাদুমন্ত্রসহ বিভিন্ন অপপ্রচারের আশ্রয় নেয়। সুমির মা-বাবা সম্মান রক্ষার্থে সুমিকে বাড়ির নিজ রোম হতে বের না হওয়ার জন্য নিষেধ করে। সকালে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে উঁকি দিয়ে দেখলে তার ঝুলন্ত মৃত দেহ দেখতে পায়। এই ঘটনার পর কথিত প্রেমিক মুজিবুর রহমান ভোতাইয়া পলাতক রয়েছে।
নিহতের পিতা জাফর আলম জানান,লম্পট মুজিবুর রহমান ভোতাইয়ার জন্য আমার মেয়ে আতœহত্যা করে আমাদের একা করে চলে গেছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চ্ইা। ###
