হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফে সদর ইউপির সাগর উপকূলীয় অঞ্চলের ভূমি দস্যু, ত্রাস, মাদক কারবারী ও ঘাতক আরিফ পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের ৩জন সদস্য আহত হয়। পোস্ট মর্টেম শেষে মৃতদেহ বাড়িতে এনে দাফন করা হয়েছে।
জানা যায়, ১৬ মে (শনিবার) ভোররাত ৩টারদিকে টেকনাফ মডেল থানার একদল পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভূমি দস্যু, ত্রাস, মাদক কারবারী ও হত্যাসহ অর্ধডজনাধিক মামলার মোস্ট ওয়ানটেড ফেরারী আসামী সদর ইউপির মহেশখালীয়া পাড়ার সাবেক মেম্বার নুরুল ইসলামের পুত্র আরিফুল ইসলাম (২২) দলবদ্ধ হয়ে স্বশস্ত্র অবস্থায় মহেশখালীয়া মৎস্যঘাটে অবস্থানের খবর পেয়ে অভিযানে যায়। তারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করলে এএসআই রামধন দাশ, সাইফুদ্দিন ও কনস্টেবল রমন দাশ আহত হয়। পরে পুলিশ শক্তি সঞ্চয় করে বেশ কয়েক রাউন্ড পাল্টা গুলিবর্ষণ করলে হামলাকারী চক্র পালিয়ে যায়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থল তল্লাশী করে অস্ত্রাদিসহ গুলিবিদ্ধ আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে আহত পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গুলিবিদ্ধ আরিফকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরিফকে মৃত ঘোষণা করে। মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
এই অভিযানের বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এদিকে নিহত আরিফের মৃতদেহ পোস্টমর্টেম শেষে বিকেলে বাড়িতে আনা হয় এবং বিকাল সোয়া ৫টায় মহেশখালীয়া পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
স্থানীয় সুত্র জানায়, দীর্ঘদিনের জমি জমা বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার, তুচ্ছ ঘটনায় খুন এবং মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়েই বিশেষ মহলের ছত্রছায়ায় এত অল্প বয়সে এই আরিফ দূধর্ষ হয়ে উঠে। একের পর এক মামলায় সে হয়ে পড়ে বেপরোয়া এবং পুলিশের খাতায় মোস্ট ওয়ানটেড আসামী। বন্দুক যুদ্ধে আরিফ নিহত হলেও এই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট দিয়ে কথিত বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে আরো কয়েকটি গ্রæপ সক্রিয় আছে। পুরো এলাকা শান্তিপূর্ণ বসবাসের উপযোগী করতে হলে সব অপরাধীদের কঠোর হাতে দমনের দাবী উঠেছে। ###
