টেকনাফে ফের নৌকা ডুবি ও শিশুসহ ১৩ জনের মৃত্যু

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

রাশেদ মাহমুদ, টেকনাফ ::
টেকনাফের নাফনদীর শাহপরীরদ্বীপ ও খারাংখালীর পয়েন্টে পৃথক নৌকা ডুবির ঘটনায় শিশুসহ ১০ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। অপরদিকে আহত ও অসুস্থ ৩ রোহিঙ্গার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ৬ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে শাহপরীরদ্বীপের নাফনদী ও খারাংখালীর পয়েন্ট থেকে এ লাশগুলো উদ্ধার করে কোস্টগার্ড, নৌ-বাহিনী ও পুলিশ।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. মাইন উদ্দিন খান বলেন, মিয়নমারে সহিংসতার পর থেকে বঙ্গোপসাগর ও নাফনদী থেকে নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেই চলছে। নৌকা ডুবির ঘটনায় বুধবার সকালে নারী শিশুসহ ১০ রোহিঙ্গার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকালে শাহপীরদ্বীপ জেটি এলাকা থেকে ৫ শিশু, খারাংখালী পয়েন্ট থেকে অপর এক শিশু, নৌবাহিনী কর্তৃক দরগাহছড়া ঘাট থেকে মা-ছেলের মৃতদেহ পুলিশকে হস্তান্তর ও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিম পাড়া সৈকত এলাকা থেকে নারী শিশুসহ দুই জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে তাদেরকে দাফন করা হয়েছে।
এছাড়া আহত ও অসুস্থ হয়ে আরো তিন রোহিঙ্গার মৃত্যু ঘটেছে।
বুধবার সকালে সদর ইউনিয়নের লম্বরী সৈকত পয়েন্টে মিয়ানমার থেকে আসা আহত দুই রোহিঙ্গার মৃত্যু ঘটেছে। মৃতদেহগুলো তাদের স্বজনরা লেদা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় দাফনের জন্য নিয়ে যায় বলে জানান সদর ইউপি চেয়ারম্যান শাহাজান মিয়া।
এদিকে বুধবার সকাল ৬ টার দিকে টেকনাফ বাস ষ্টেশনের আবু ছিদ্দিক মার্কেট চত্বরে অন্যান্য রোহিঙ্গাদের সাথে আসা এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়। সে রাখাইনের মংডু থানার উদং এলাকার অলি আহমদের স্ত্রী গুল নেহের (৭৯)। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে শাহপরীরদ্বীপ সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করে টেকনাফের বাস স্টেশনে চলে আসেন।
উল্লেখ্য, সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে নৌকা ডুবি ও অসুস্থ হয়ে এ পর্যন্ত ৬০ রোহিঙ্গার মৃত্যু ঘটেছে। এর মধ্যে গত বুধবার ৪ জন, বৃহ¯পতিবার ১৯ জন ও শুক্রবার ২৬ জন রোহিঙ্গা শিশু, নারী ও পুরুষের লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ২৪ আগস্ট রাখাইন রাজ্যের সীমান্তের চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলার কথা বলে সেখানে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু করেছে সেনা ও পুলিশ। নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে রোহিঙ্গাদের। তাদের শত শত ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ অনুপ্রবেশ করছে। আর সাগর ও নদী পথে সীমান্তে পাড়ি দিতে গিয়ে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারাচ্ছে।