স্বামী ও সন্তানের হাতেই নির্যাতনে মারা গেলেন টেকনাফের রজিয়া

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক : টেকনাফে রোহিঙ্গা স্বামী ও সন্তানের হাতে শারিরীক নির্যাতনের শিকার এক নারী অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন। গত শুক্রবার চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন ওই নারী মৃত্যুবরণ করলে দাফনের পূর্বে গোসল দিতে গিয়ে শরীরে আঘাতের চিহ্ন থেকে শারিরীক নির্যাতেনে হত্যার লোমহর্ষক এ ঘটনা বেরিয়ে আসে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ দাফন সম্পন্ন করেন। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত নারী টেকনাফ পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের নুর আহমদ ঘোনার আবু বক্করের মেয়ে রজিয়া বেগম(৪০)।

এ ঘটনায় জড়িত রজিয়ার দ্বিতীয় স্বামী রোহিঙ্গা জাবেদ উল্লাহকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিলেও ছেলে হেদায়েত উল্লাহ পলাতক রয়েছে।

নিহতের স্বজন ও প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রজিয়া দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে জমি ক্রয় করে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন । তার আগের স্বামীর দুই পুত্র সন্তান মালেশিয়া প্রবাসে থাকেন । প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর ১৯৯৯ সালে দ্বিতীয় বিয়ে করেন ঘাতক রোহিঙ্গা জাবেদ উল্লাহ ( ৪০ ) কে। ২য় স্বামীর ঘরে জন্ম নেয় পুত্র হেদায়েত উল্লাহর(২০)। ২২ বছর যাবত তার সাথে সংসার করে আসছিলেন রজিয়া। তবে দ্বিতীয় স্বামী জাবেদ উল্লাহ কখনো কাজ কর্ম করতো না। প্রতিনিয়ত তারা পিতা ও ছেলে মিলে বিভিন্ন সময় ব্যবসা – বাণিজ্য করবে মর্মে প্রতিনিয়ত টাকা খোজার কারণে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করতেন রজিয়াকে । এনিয়ে স্থানীয় ভাবে ২/৩ রার শালিশ হয়েছিল ।

নিহতের বোন গোলবাহার জানান, আমার বোনের দুই প্রবাসী ছেলে মালয়েশিয়াতে থাকে। তাদের পাঠানো কষ্টার্জিত অর্থ প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণ আমার বোনের নিকট জমা ছিল প্রবাসী দুই ছেলের । এমনকি বসত বাড়িতে জমির ক্রয়ের কাজগপত্র আমার বোনের নামে ছিল ।

রোহিঙ্গা স্বামী ও সন্তান দু’জনে মিলে প্রায় সময় ব্যবসার অজুহাতে টাকা, জমির কাগজপত্র ও স্বর্ণ বিক্রি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিতে মারধর করে আসছিল । রজিয়া বেগম এগুলি দিতে অপারগতা প্রকাশ করার কারণে তাকে এক সপ্তাহ ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন ও মারধর করা হয় । পরে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাজিয়ার অবস্থা আশংকা জনক হওয়ার থাকে চট্টগ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে এই সুযোগে তার কাছে থাকা নগদ আড়াই লাখ টাকা, স্বর্ণ ও জমির কাগজ পত্র লুটে নিয়ে নেয় ঘাতক স্বামী ।

পরে মৃত্যুর পর রজিয়ার নিকটাত্মীয়দের কাউকে অবগত না করে গোপনে দাফন সম্পন্ন করার সময় স্থানীয় মহিলারা রজিয়াকে গোসল করার সময় তার মৃত দেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখে স্থানীয় মসজিদ কমিটির সভাপতি ছৈয়দ আলমকে অবগত করিলে পরে তিনি স্থানীয় কাউন্সিলর শাহ আলম মিয়ার সহযোগিতা টেকনাফ মডেল থানা পুলিশকে খবর দেয় ।

পুলিশ ঘটনা স্থলে এ এসে লাশ উদ্ধারের পর মর্গে প্রেরণ করে ময়না তদন্তের দাফন সম্পন্ন করার পর দাফন করা হয় ।

টেকনাফ ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহ আলম মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন , নিহত রাজিয়ার পারিবারিক সূত্রে জেনেছি তাকে টাকা ও জমি সংক্রান্ত বিষয়ে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে ।

এদিকে স্থানীয়রা ঘটনার দিন স্বামী জাবেদ উল্লাহকে আটক করে পুলিশর হাতে তুলে দিলেও সন্তান হেদায়েত উল্লাহ পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি ) মো . হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে পরবর্তী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবী যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যেন ঘাতকদের আইনের আওতায় আনা হয়। কোন ভাবেই যেন ঘাতকরা রেহাই না পায় সেই দাবী স্বজনদের।