টেকনাফে নিগ্রহের শিকার নারী উদ্যোক্তা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৪ years ago

বিশেষ প্রতিনিধি :

ছমুদা বেগম, একজন নারী উদ্যোক্তা। টেকনাফে একটি বীমা কোম্পানীর নারী শাখার প্রধান। ২০১৫ সালে এই শাখাটি প্রতিষ্টা করেন। স্বপ্ন ছিলো নিজের আর্থিক উন্নতির পাশাপাশি অবহেলিত সমাজে নারীদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এগিয়ে নেয়া। কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তিনি, হারিয়ে ফেলেছেন সেই উদ্যম।

টেকনাফ পৌরসভার শাপলা চত্ত্বর এলাকায় প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর নারী শাখার কার্যালয়। এই শাখায় কর্মরত আছেন ৪৫ নারী কর্মী। সম্প্রতি একদল উশৃংখল যুবক শাখাটিতে তালা লাগিয়ে দেয়। পরে থানা পুলিশের সহায়তায় অফিসটি খোলা হলেও এই ঘটনায় রেশ কাটছেনা কিছুতে। একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছমুদাকে নিয়ে অশোভন অপপ্রচার চালানো হয়।

ঘটনাটির পেছনের কারন অনুসন্ধানে গিয়ে জানাযায়, জালিয়া পাড়ার আব্দুল জাব্বার নামে এক যুবক বিগত ২০১৭ সালে ওই নারী শাখায় নিজ নামে একটি বীমা করেন। এর পর থেকে সে লাপাত্তা হয়ে গেলে তার কোন হদিস ছিলোনা। তবে চলতি বছর এসে সে টাকা দাবী করে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং ওই নারী উদ্যোক্তাকে নিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে বিভিন্ন অপপ্রচার চালায়।

এই বিষটি নিয়ে আমরা নারী শাখার প্রধান ছমুদা বেগমের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আব্দুল জাব্বার নামের একজন গ্রাহক প্রথম কিস্তির ১ লক্ষ টাকা পরিশোধের পর তার কোন হদিস ছিলোনা। পরে আমাদের কর্মীরা তার খোজ নিয়ে জানতে পারে ওসি প্রদীপ টেকনাফ থানায় দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে সে এলাকা ছাড়া ছিলো। তার পরেও তাকে কোম্পানীর নিয়ম অনুযায়ী বিষটি সুরাহা করার প্রস্তাব দিলেও সে তা না মেনে গায়ের জোরে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

এই ঘটনায় হতাশ সমুদা বলেন, মাদকসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত নিজ এলাকায় নারীদের কর্মমূখী করতে এই উদ্যোগটি নিয়েছিলাম। এখন এই ঘটনার পর বিব্রত বোধ করছি।

  • 58FF0DC3 C0B4 4DD0 BCBB 7062EF74F4FE TEKNAF TODAY - সীমান্তের সর্বশেষ খবর

চট্টগ্রাম ওমেন চেম্বারের সাথে জড়িত রোটারিয়ান ছমুদা টেকনাফে আসার আগে চট্টগ্রামে নারীদের নিয়ে একটি খাবারের প্রতিষ্টান চালাতেন।

অভিযোগের বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা টেকনাফ থানার এসআই নকিব অভিযোগের বিষয়ে আইনী প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে জানান।

তবে ছমুদা যে প্রতিষ্টানে কর্মরত সেই প্রতিষ্টানের কর্মকর্তাদের জোড়ালো কোন ভূমিকা চোখে পড়েনি।

ওই প্রতিষ্টানের কক্সবাজার জেলা কর্মকর্তা সেলিম উল্লাহ জানান, এই বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কোন সুযোগ নেই। তবে ব্যক্তিগত ভাবে আইনীপদক্ষের গ্রহনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় অভিযুক্ত জব্বার দাবী করেছেন, ৩ বছর মেয়াদী বীমার কথা বলে খালি চুক্তি পত্রে দস্তগত নিয়ে চুক্তি পত্রটি বিভিন্ন তাল বাহানায় গোপন রেখে ১লক্ষ টাকা আত্মসাতের পায়তারা করে। পরে ওই চুক্তি পত্রে পাঁচ বছর পর ১২ বছর মেয়াদী পলেসি সৃজন করে একটি বানোয়াট চুক্তি পত্র আমাকে প্রদর্শন করে। তাই আমার টাকা ফেরত দেয়ার দাবী করেছিলাম।

এদিকে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওই নারী উদ্যোক্তাকে নিগ্রহকারী যুবক টেকনাফ জালিয়া পাড়ার আবু তাহেরের ছেলে আব্দুল জব্বার।

একসময় টেকনাফ পৌর এলাকায় বিভিন্ন শ্রেনী পেশার নিরিহ মানুষকে লাঞ্চিত ও মারধর করা তার নিত্য দিনের ঘটনা ।

অতীতে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা হলেও এখন জব্বারের বিত্ত-ভৈবব চোখে পড়ার মতো। এসব কিছুর পেছনে মাদকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধারনা অনেকের।