জসিম উদ্দিন টিপু :: টেকনাফে অর্ধ শতাধিক ছোট-বড় খাল প্রভাবশালী কর্তৃক জবর দখল দখল হয়ে যাওয়ায় আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে।
জানাযায়, টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যমান খাল সমুহ উদ্ধার এবং রক্ষণা-বেক্ষণ সত্বেও অবৈধ দখলরোধ করা যাচ্ছেনা। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা অর্ধশত খালের মধ্যে পৌর এলাকার বিভিন্ন খাল প্রভাবশালী দখলদারের খপ্পরে পড়েছে। ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে এসব খাল উদ্ধারের চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে পুনরায় বেদখল হয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে বিভিন্ন সড়কের পাদদেশ ও পাহাড় থেকে নেমে আসা খাল ভরাট হয়ে গেলেও খননের উদ্যোগ না থাকায় ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে তা ক্রমান্বয়ে বেদখল হয়ে যাচ্ছে। যত্রতত্র খাল দখল করে বসত-বাড়ি ও স্থাপনা গড়ে উঠায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জনজীবন ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। পৌর এলাকা ও উপজেলা সদর ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রভাবশালী কর্তৃক সরকারী খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, মৎস্য ঘেঁর তৈরী হওয়ার ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই খালের কূলবর্তী গ্রাম সমুহ প্রতিনিয়ত পানির মধ্যে ডুবে থাকে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের থাবায় খালসমুহ আজ স্বকীয়তা হারিয়ে অনেকটা ভরাট জমিতে পরিণত হয়েছে।
উলুচামরী কোনার পাড়ার কৃষক ও লবণ চাষী জাফর আলম বলেন,সরকারের খাল সংরক্ষণের উদ্যোগ না থাকায় হঠাৎ বৃষ্টিতে চাষাবাদ ব্যাহত হয়। খাল-নদী দখল হওয়ায় ২০১০ সনের ১৫জুন ভয়াবহ পাহাড় ধ্বস ও পানির ঢলে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানিসহ কোটি কোটি টাকার মৎস্য ঘেঁর এবং ফসলের মারাত্মক ক্ষতি মূলত গ্রামীণ খাল বেদখল হওয়াকে সচেতন মহল দায়ী করছে। খাল খনন কর্মসূচীর মাধ্যমে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাতে থেকে এসব এলাকাকে রক্ষা করা দরকার।
স্থানীয় সচেতনমহল মনে করেন, কর্মসৃজন প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকা ভিত্তিক কর্মসুচী বাস্তবায়িত হলে উপজেলার হ্নীলার মৌলভী বাজার উত্তর, দক্ষিণ, ওয়াব্রাং, হ্নীলার ১নং ¯øুইস গেইট খাল, চৌধুরী পাড়া, রঙ্গিখালী আমিরী খাল, আলীখালী, লেদা, মুচনী ছুরী খাল, জাদীমুরার জাদীর খাল, দমদমিয়া মগর ছরা খাল, চেকপোষ্ট খাল, কেয়ারী সিন্দাবাদের পাশের খাল। হোয়াইক্যংয়ের সাতঘড়িয়া পাড়া খাল, পূর্ব সাতঘড়িয়া পাড়া খাল, নয়াবাজার চাঙ্গিরী খাল, মিনা বাজার, ঝিমংখালী, নয়াপাড়া, কাঞ্জর পাড়া, উনছিপ্রাং, রইক্ষ্যং, লম্বাবিল, কেয়ামুখী খাল, হোয়াইক্যং, ঘিলাতলী খাল। বাহারছড়ার রাজারছড়া, নোয়াখালী, বাগঘোনা, কচ্চপিয়া, বড় ডেইল, ডাক ছরা, মারিশ বনিয়া, মাথা ভাঙ্গা কবর স্থানের পাশের খাল, মাথা ভাঙ্গা পরিষদের উত্তর পাশের খাল, বাইন্যা পাড়া, হলবনিয়া, গর্জন বনিয়া, জাহাজপুরা বড় খাল, হাজম পাড়া, শীল খালী, বড় শীল খালী, তারের ছড়া খাল, কাদুরার ছড়া খাল, রাইল্যা ছরা খাল, মরিচ্যা ছরা খাল, রকিম্মার ছরা খাল, শামলাপুর খাল। টেকনাফের হাবির ছড়া, মিঠাপানির ছড়া, দরগার ছড়া, উত্তর লম্বরী, দক্ষিণ লম্বরী, মহেশখালীয়া পাড়া, ছোট হাবিব পাড়া, নাজির পাড়া, মৌলভী পাড়া, জাহালিয়া পাড়া, হাতিরায় ঘোনা, করাচী পাড়া, কায়ুক খালী খাল, হেচকে খাল, নাইট্যং পাড়া, কেরুণতলী, জাইল্যা খাল। সাবরাংয়ের জব্বার সিকদার খাল, বাহারছড়া খাল, উঃ নয়াপাড়া, মুন্ডার ডেইল, মন্ডল পাড়া, ও মগপাড়া খাল কোন কোন ভাবে বেদখল হয়ে গেছে।
এই ব্যাপারে হোয়াইক্যং মডেল ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, খাল সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছর সাধারণ মানুষের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। এলাকা ভিত্তিক মাস্টার প্লানের মাধ্যমে মৃত এসব খালকে জীবন দানে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে সমাজের সব পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। এই ব্যাপারে সরকারের উচ্চ পর্যায় হতে খাল সংরক্ষণের উদ্যোগ নাহলে আসন্ন বর্ষায় এই জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করতে পারে।
এই ব্যাপারে টেকনাফ সহকারী কমিশনার (ভুমি) প্রণয় চাকমা জানান,বেদখল হয়ে যাওয়া খাল দখলমুক্ত করতে শ্রীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জরুরী ভিত্তিতে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন বলে জানান। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রবিউল হাসান বলেন,আসলে অধিকাংশ খালের স্বাভাবিকতা নেই। ইতিমধ্যে খাল দখলদারদের তালিকা তৈরীর কাজ চলছে জানিয়ে তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাল খনন কর্মসুচী চালুসহ দখলদারদে বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।
