টেকনাফে এক যুবককে ৩দিনের মধ্যে দেখে নেওয়ার হুমকি ; কৌশলে ডেকে নেওয়ার পরই মৃতদেহ উদ্ধার

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৪ years ago

বিশেষ প্রতিবেদক : টেকনাফের পাহাড়ে এক মৃত মহিষ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের জেরধরে এক যুবককে ৩/৪দিনের মধ্যে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পরই কৌশলে ডেকে নেওয়ার পরই নিখোঁজ হয়ে যায় এই যুবক। এরপরই পাহাড়ি ছড়া হতে রক্তাক্ত ও আঘাত প্রাপ্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

জানা যায়,১৮মার্চ দুপুরের দিকে টেকনাফের বাহারছড়া উপকূলীয় ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড হলবনিয়া গর্জন ছড়ার মুখ থেকে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রর ইন্সপেক্টর নুর মোহাম্মদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ এবং জনসাধারণ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কম্বনিয়া পাড়ার আব্দুল গফুরের ৩সন্তান আবছার উদ্দিন (২২) এর দারকোপে রক্তাক্ত এবং আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য রাতেই টেকনাফ থানায় নেওয়া হয়। সে পরিবারের ৬ বোন ও ৪ ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট।

নিহতের বোন সাজেদা জানান, আমার ভাই পাহাড়ে মহিষ চরানোর সুযোগে বাহারছড়া হলবনিয়ার জনৈক শুক্কুরের বাড়িতে আসা-যাওয়া হয়। এই কারণে শুক্কুরের মেয়ে আরজুমনি এবং স্ত্রীর সাথে পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে প্রায় সময় মহিষের দেখাশুনা নিয়ে কথা-বার্তা হতো। গত কয়েকদিন আগে পাহাড়ে ১টি মহিষ মারা যায় এবং আরো ১টি মহিষ রক্তাক্ত হয়। আরজুমনি ও তার মা বিষয়টি ফোনে আবছারকে জানালে এটি তার মহিষ না বলে কথা-কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে গালমন্দের ঘটনা ঘটলে শুক্কুরের স্ত্রী ৩/৪ দিনের মধ্যে ধরে এনে ভাড়াটে লোক দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ কেটে নিয়ে মারার হুমকি দেয়। আবছার তা পরিবারের সদস্যদের জানায়। ঐ মহিলা গত বুধবারের যেকোন এক সময়ে আবছারকে রক্তাক্ত মহিষটি দেখতে যেতে বলে। সে তর্কাতর্কির কথা ভূলে গিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টারদিকে কম্বনিয়া পাড়ার জনৈক আব্দুল গফুর,তার ছেলে নুর হাশেম এবং আনোয়ার হোসেনসহ আরো একজন গফুরকে নিয়ে মহিষ দেখার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। ফিরে আসা প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা দিয়ে তিনি আরো জানান,গভীর পাহাড়ে কয়েকজন অজ্ঞাত লোক তাদের গতিরোধ করে এবং আবছারকে অস্ত্রেরমুখে জিম্মি করে পাহাড়ের দিকে নিয়ে গেলে সাথে থাকা ৪জন ফিরে এসে আবছারের পরিবারকে বিষয়টি জানায়। এরপর থেকে আবছারের কোন খবর না পেয়ে আরজুমনির মায়ের হুমকির জেরধরে পাশর্^বর্তী এলাকায় সন্ধান করতে গিয়েই আবছারের মাথায় কোপ, শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম অবস্থায় উপুড় করে থাকা মৃতদেহ পায়। তখন পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার করা হয়।

বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ নুর মোহাম্মদ জানান,গহীন জঙ্গল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে মৃতদেহের পোস্টমর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হবে। এই বিষয়ে নিহত যুবকের স্বজনেরা মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ####