টেকনাফে অ/প/হ/র/ণ প্রতিরোধে স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ছাত্র-জনতার মানববন্ধন

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ১ বছর আগে

আজিজ উল্লাহ : দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফের পাহাড়ি পাদদেশ যেন অপহরণ চক্র গোষ্ঠীর মুক্তিপণ বাণিজ্যের ঘাঁটি হয়ে উঠেছে। তা সাম্প্রতিক সময়ে আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একের পর এক অপহরণের প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন বাহারছড়ার ছাত্র-জনতা।

জানা যায়, রবিবার (৬ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে স্থানীয় শামলাপুর বাজারে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।এতে এলাকার সকল সচেতন নাগরিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পেশাজীবী ও গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।

মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, টেকনাফে দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আসা অপহরণ নিরসনে সরকার এবং প্রশাসন নীরব হয়ে আছে। অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চেয়েছেন ছাত্রজনতা। বক্তারা আরো বলেন, প্রশাসন অপহরণ প্রতিরোধে দৃশ্যমান ভূমিকা দেখাতে চরমভাবে ব্যর্থ। যা জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

মানবন্ধনে বাহারছড়া বিএনপি উত্তর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাদুর রানা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের প্রতি অভিযোগ করে বলেন, অপহরণ বাণিজ্য বন্ধ করার ব্যাপারে রাষ্ট্রযন্ত্র উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় অপহরণ চক্র দিনদিন আরও শক্তিশালী ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

উপস্থিত সমাজের বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা বলেন, অপহরণের স্থায়ী সমাধানের জন্য বাহারছড়ার ঝুঁকিপূর্ণ স্থান গুলোতে নিরাপত্তা টহল জোরদার করাসহ অস্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করা অতীব জরুরি।

মানবন্ধনের অন্যতম সংগঠক নুরুল আমিন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, উখিয়া-টেকনাফের মানুষ নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। অতীতে লক্ষ্য করা গেছে, সরকারি কোন কর্মকর্তা অপহৃত হলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু সাধারণ জনগণের ক্ষেত্রে মুক্তিপণ আদায়ের মাধ্যমে মুক্ত হলেও ভিকটিমকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। প্রশাসনের এমন বৈষম্যমূলক ভূমিকার কারণে অপহরণ বাণিজ্য পুরো টেকনাফ অঞ্চলে স্বাভাবিকতা লাভ করেছে।

এই সময় তিনি আরও বলেন, অপহরণের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি অপহরণ বাণিজ্য স্থায়ীভাবে নির্মূল করার জন্য ঝূঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রশাসনিক টহল জোরদারের পাশাপাশি অস্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি জালাল উদ্দীন বলেন,”যদি এক সপ্তাহের মধ্যে প্রশাসন দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পর্যায়ক্রমে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।”