টেকনাফে অপহৃত ৩সিপিজি সদস্য গভীর পাহাড় থেকে উদ্ধার ; অস্ত্রসহ ডাকাত সদস্য আটক

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৩ years ago

হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফের দমদমিয়া নেচার পার্কের সংরক্ষিত বনাঞ্চল পাহারা দিতে গিয়ে স্বশস্ত্র পাহাড়ি দূবৃর্ত্ত দলের হাতে অপহৃত ৩জন সিপিজি সদস্যকে গভীর পাহাড়ে ডাকাত দলের আস্তানায় যৌথ অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় অস্ত্রসহ এক ডাকাত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জানা যায়, ৪ঠা সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টারদিকে টেকনাফের হ্নীলা মোচনী বিটের আওতাধীন মোচনী এলাকা হতে পাহাড়ি পথ বেয়ে টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, মোচনী বিট কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, টেকনাফ মডেল থানার ওসি (অপারেশন) আব্দুর রাজ্জাক এবং স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে বনকর্মী, সিপিজি সদস্য এবং এলাকাবাসীর সমন্বয়ে বিশাল একটি বহর বন পথ দিয়ে অপহৃতদের উদ্ধারের সন্ধানে বের হয়। দুপুরের দিকে বাহারছড়া ইউপির দক্ষিণ কচ্ছপিয়া সংলগ্ন গহীন পাহাড়ে হাতির ডোবা এলাকায় পৌঁছলে ডাকাত দলের সন্ধান পায়। এসময় ডাকাত দল জনতার বিশাল বহর দেখে প্রাণরক্ষার্থে দিক-বিদ্বিগ পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল হতে অপহৃত হওয়া সিপিজি সদস্য হ্নীলা উত্তর দমদমিয়ার আব্দুল মালেকের পুত্র মোহাম্মদ শাকের (২৪), মৃত আব্দুল শুক্কুরের পুত্র আব্দুর রহিম (৩৭) এবং মৃত বকসু মিয়ার পুত্র আব্দুর রহমান (৩২) এর সন্ধান পায়। এছাড়া ডাকাত দলের ফেলে যাওয়া ২টি একনলা লম্বা বন্দুক, ৫রাউন্ড তাঁজা কার্তুজসহ রসদ-সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। এসময় পাহাড় থেকে পালিয়ে যাওয়ার অপর একটি আভিযানিক দল ও জনতার সহায়তায় কক্সবাজার কালারমার ছড়ার আজিজুর রহমান ওরফে মনুর পুত্র ফায়সাল (২৮) কে আটক করা হয়।

এদিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে আনা ৩জন সিপিজি সদস্যদের বিকাল সাড়ে ৩টারদিকে লেদা পয়েন্ট দিয়ে পাহার থেকে বের করে আনা হয়। এসময় বনবিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধি ও স্বজনেরা বরণ করে নেন। তারপর চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসা শেষে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ৮টারদিকে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ সংবাদ সম্মেলন করে পাহাড়ে ঘটে যাওয়া লোমহর্ষক বিষয়াদি এবং অভিযান নিয়ে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন উদ্ধারকৃত ভিকটিম ও পুলিশ।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ আলী জানান-পুলিশ, বনবিভাগ, স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে আমরা গভীর পাহাড়ে গিয়ে অপহৃতদের উদ্ধার করতে পেরেছি। মহান আল্লাহর নিকট অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি।

হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান, স্থানীয় জনসাধারণের আন্তরিক ভূমিকায় আমি অত্যন্ত খুশি। আমি তাদের সাধুবাদ জানায়। আগামীতে যেকোন ধরনের অপরাধ ও নাশকতা জাতীয় ঘটনারোধে স্থানীয় জনসাধারণকে দল,মত নির্বিশেষে একযোগে কাজ করার আহবান জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য,গত ১লা সেপ্টেম্বর সকালে সিপিজি সদস্যরা প্রতিদিনের ন্যায় দমদমিয়া নেচারপার্কের সংরক্ষিত বনে পাহারা দেওয়ার জন্য যায়। দুপুরের দিকে তাদের কোন সাড়া-শব্দ না পেয়ে অপর সহকর্মীদের মধ্যে পাহাড়ে অবস্থানরত স্বশস্ত্র বনদস্যুদের হাতে অপহৃত হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ জাগে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করা হলে স্থানীয় ইউপি মেম্বার, বিট কর্মকর্তা, সিপিজি সদস্যসহ স্থানীয় জনসাধারণ পাহাড়ের ভেতরে নিখোঁজদের সন্ধানে যায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত সন্ধান না পেয়ে তারা হতাশ হয়ে ফিরে আসেন।

পরদিন ২রা সেপ্টেম্বর সকালের দিকে অপহৃত শাকেরের মায়ের মুঠোফোনে অপহৃতদের নির্যাতনের আওয়াজ শুনিয়ে শাকেরের মুক্তির জন্য ২০লাখ করে মোট ৬০লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। মুক্তিপণ না দিলে প্রাণে মারার হুমকি দেয়। এরপর বিষয়টি বনবিভাগসহ বিভিন্ন প্রশাসন গুরুত্বের সাথে নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। এই খবরে গত ৩রা সেপ্টেম্বর এবং ৪ঠা সেপ্টেম্বর কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন সংরক্ষক মোঃ সরওয়ার আলম এবং সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ মনিরুল ইসলাম টেকনাফ অবস্থান করে অপহৃতদের উদ্ধারে বিভিন্ন দপ্তরের সাথে শলা-পরামর্শ করে আসছেন।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন সংরক্ষক মোঃ সরওয়ার আলম জানান,স্থানীয় জনসাধারণ, প্রশাসন ও বনবিভাগের সহায়তায় অপহৃত সিপিজি সদস্যদের অক্ষত অবস্থায় ফিরে পাওয়ায় মহান সৃষ্টি কর্তার নিকট বিশেষ শুকরিয়া প্রকাশ করছি। এই উদ্ধার অভিযানে যারা সার্বিক সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ সদর ও বাহারছড়ার পাহাড়ি জনপদে বসবাসরত এবং চাষাবাদে সম্পৃক্তদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছে। বিভিন্ন স্থানের চাষীরা অপহরণকারী চক্রের সদস্যদের উৎকোচ দিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দিনযাপন করছে। পাহাড়কেন্দ্রিক এসব অপরাধীদের কঠোর হাতে দমন করে সীমান্ত জনপদে শান্তির সুবাতাস ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইন-শৃংখলা বাহিনীর উর্ধ্বতন মহলের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ##