মোঃ আশেকুল্লাহ ফারুকী,টেকনাফ : টেকনাফ সীমান্ত উপজেলার যে, ক’টি ইউনিয়ন রয়েছে তার মধ্যে সাবরাং ইউনিয়ন হচ্ছে, ইয়াবা স্বর্গরাজ্য ঘাটি। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের প্রেক্ষিতে দুদেশের সীমান্ত এলাকার রুট পরিবর্তন করে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সাবরাং এর নৌপথ ও সাগর পথকে ইয়াবা পাচারের একটি নিরাপদ স্থান হিসাবে বেঁচে নিয়েছে। সাবরাং এর সাগর উপকূলীয় এলাকার কাটাবনিয়া ও খুরেরমূখ এলাকার অধরা মানবপাচার রক্ষাকারীরা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের নেপথ্যে নিয়ে আসছে বস্তা বস্তা ইয়াবার চালান। অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবরাং ইউনিয়ন ভৌগলিক, দিক থেকে পূর্বে নাফ নদী ও দক্ষিণ পশ্চিমে বিস্তীর্ণ সাগর। মিয়ানমারের মংডু শহর থেকে এর কাচাকাচী। কাটাবনিয়া ও খুরেরমূখ মৎস্য ঘাট সীমান্তের প্রত্যান্ত এলাকা এবং আইন শৃংখলা বাহিনীর কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ায় তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সাগর উপকূল দিয়ে প্রতিনিয়তই জেলেদের মৎস্য বোট এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আড়ালে ইয়াবার বড়ধরনের চালান এ দুইটি ঘাট দিয়ে খালাস হচ্ছে। সাবরাং সীমান্ত এলাকার তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা আইন শৃংখলা বাহিনী কর্তৃক অধরা থাকায় ইয়াবা ব্যবসা ও পাচাারে এখন মহাধুমধাম চলছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে মানবপাচারকারী নব্য ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। এ দুইটি আলোচিত এলাকায় মানবপাচার বন্ধ হবার পর মানবপাচারকারীরা ইয়াবা ব্যবসা ও পাচারের নেমেছে। শীতকালের ৩ মাস সাগর শীতল থাকা। তাই মানবপাচারকারী বনাম ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মিয়ানমার মংডু শহর থেকে ফিসিং ট্রলার যোগে নিয়ে আসছে বস্তা বস্তা ইয়াবা। সম্প্রতি সাবরাং প্রত্যান্ত অঞ্চল কাটাবনিয়া ও খুরের মূখ মৎস্য ঘাট এলাকায় এ প্রতিবেদক সরেজমিন পরিদর্শন করে একাদিক সূত্রের প্রেক্ষিতে জানা যায়, কাটাবনিয়া এলাকার মোঃ শফিক জাহাংগীর আলমের নেতৃত্বে ১০/১৫ জনের একটি ইয়াবা সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এ সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছেন মোঃ ওসমান, আবুল ফয়েজ প্রকাশ ভোতা, ওমর হাকীম ও মোঃ ফারুক। কাটাবনিয়ার ইয়াবা ঘাট নিয়ন্ত্রন করছেন, কথিত মোঃ শফিক ও জাহাংগীর। সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই সাগর উপকূলীয় এলাকা দিয়ে বস্তা বস্তা ইয়াবার চালান নিয়ে আসছেন। ওদের অপকর্মের কারণে স্থানীয় পেশাদার জেলেরা সাগরে মাছ আহরণ করতে বাধাগ্রস্থ এবং নিরাপত্তার অভাবে ভোগছেন বলে জেলেদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি হারিয়াখালী এলাকার এক জেলে সাগরে মাছ আহরণ করা কালে প্রতিবেশী ইয়াবা ব্যবসায়ী হেলাল বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে খুন হয়। এছাড়া কাটাবনিয়ার শফিক বাহিনীর সদস্য আবুল ফয়েজ অতীতে আইন শৃংখলা বাহিনীর পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করেছিল। অতি সম্প্রতি কাটাবনিয়ার খালেদা বেগমসহ ৩ জনকে ৩০ হাজার ইয়াবাসহ কক্সবাজার বিসাল বন্দর থেকে বিমান বন্দর থেকে আটক করে। এসব ইয়াবা উক্ত আলোচিত সিন্ডিকেটের বলে জানা যায়।
