টেকনাফের বাহারছড়া রাত হলেই লোকালয়ে বন্য হাতি আতংক

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৪ years ago

আজিজ উল্লাহ : টেকনাফের বাহারছড়া বন্য হাতির আতংকে অতিষ্ঠ পাহাড়ি পাদদেশের মানুষ।রাত হলে বন্য হাতি বাহারছড়ার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের একপাশ থেকে বের হয়ে বিভিন্ন লোকের বসতভিটায় তান্ডব চালিয়ে ভোর হলে আবার পাহাড়ে চলে যায়। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে হাতির আতংক বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এসব বাগানে কলা গাছ,কাঁঠাল থাকলে আরো বিপদ।

জানা যায়, এই সাপ্তাহে বাহারছড়ার শামলাপুর, শিলখালী, জাহাজপুরা ও মারিশবনিয়া এলাকায় বেশ কয়েকবার পাহাড়ি হাতির আগমন ঘটেছে। এমনকি হাতির আক্রমণে মানুষের মৃত্যুও হয়েছে। রাতে বন্য হাতির আতংকে বাড়ি থেকে ভয়ে মানুষ বের হতে পারছে না। স্থানীয় বন বিভাগের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

উল্লেখ্য, গত৫ জুন বাহারছড়া শামলাপুর নয়াপাড়া ঢালারমুখ এলাকায় মসজিদের সামনে রাস্তায় বন্য হাতির আক্রমণে স্থানীয় নয়াপাড়া মো. আলমের বৃদ্ধা স্ত্রী নুর বেগম(৪৫)কে আহত করা হয়।পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সদর হাসপাতালে একই রাত অনুমানিক ১২.৩০ ঘটিকায় তার মৃত্যু হয়।
গত সাপ্তাহে ক্ষুধার্ত বন্য হাতির তান্ডবে মারিশবনিয়া মো. হামিদ নামে এক তরুণ কৃষকের আম বাগানে হাতির তান্ডবে বড় বড় ফলদায়ক ৭টি আম গাছসহ বেশ কয়েকটি সুপারি গাছ ভেঙে ফেলা হয়।এসময় হাতি পাশ্ববর্তী আরেকটি বাড়িও মুড়িয়ে দেয় তবু সেদিন বাড়ির সবাই টের পেয়ে সতর্কতার সহিত বের হয়ে গেলে কোন ধরনের শিকার হয়নি।

এদিকে স্থানীয়রা জানায়,প্রায় প্রতিদিন বাহারছড়ার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ে খাদ্য সংকটের কারণে খাবারের খোঁজে বন্য হাতির দল তাণ্ডব চালায়।গত সাপ্তাহে মারিশবনিয়া এলাকায় মো. হামিদ নামের একজনের আম বাগানে ব্যাপক তান্ডব চালায়,এসময় আরেকটি বাড়ি ভেঙে দেয়। এছাড়া লোকালয়ে হাতির আগমনে অতিষ্ঠ পাহাড়ি পাদদেশে বসবাসরত জনতা। রাতে ভয়ভীতি নিয়ে মানুষের চলা করতে হয়।

কক্সবাজার দক্ষিণ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা( ডিএফও) সারওয়ার আলম বলেন,” বন্য হাতির আবাসস্থল মানুষ দখল করে নিয়েছে এই জন্য হাতি মানুষের দ্বন্দ্ব। তবু হাতি বন্য থেকে খাদ্যের সন্ধানে নামলে উত্তেজিত না করে স্থানীয় বন বিভাগের সহায়তা নিয়ে পাহাড়ে ফেরার ব্যবস্থা করতে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয় এবং চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন করতেও অনুরোধ করেন এই সিনিয়র বন কর্মকর্তা।”