নিজস্ব প্রতিনিধি :
গত ২৪মে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়া এলাকায় বাঘগোনা ঝর্ণা দেখতে গিয়ে অপহরণের শিকার হন টেকনাফ বাস স্টেশন এলাকার দুই ব্যবসায়ী রিয়াদ ও রিজওয়ান। তারা দুইজন আপন ভাই। এসময় গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফিরে আসে রিয়াদ। পরে পুলিশ রিজওয়ান কে উদ্ধার করে।
জানা যায়, গত ২৪ মে (শুক্রবার) দুপুরের দিকে টেকনাফ পৌরসভার বাস ষ্টেশন এলাকার আবু হানিফ মার্কেটের ইত্যাদি ইলেকট্রিক এন্ড লাইব্রেরী দোকানের মালিক চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পূর্ব রুপকানিয়া এলাকার মোস্তাক আহমদের দুই পুত্র ফয়জুল কবির রিয়াদ, রিজওয়ান ও কর্মচারী রিদুয়ান ঝর্ণা দেখতে যান। এসময় তারা অপহরণের শিকার হন।
অপহরণকারীদের কবল থেকে ফিরে আসা ফয়জুল কবির রিয়াদ জানিয়েছিলেন, তাদের দোকানের কর্মচারী নোয়াখালী পাড়া এলাকার রিদুয়ান বাঘ গোনা পাহাড়ী ঝর্ণা দেখার কথা বলে আমাদেরকে তাদের এলাকায় নিয়ে যায়। এরপর পাহাড়ী ঝর্ণায় গোসল করার সময় হঠাৎ করে কিছু দূর্বৃত্ত এসে আমাদেরকে দেশীয় তৈরি অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করতে করতে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায়।
রিয়াদের ধারণা, এই ঘটনার সাথে দোকানের কর্মচারী রিদুয়ান জড়িত। সে অপহরণকারীদের সাথে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক এ ঘটনাটি সংঘটিত করেছে।
এদিকে অপহরণের এ ঘটনায় এখনও থানায় মামলা দায়ের হয়নি।
বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ, টেকনাফ টুডে ডটকম কে জানান, অপহৃতরা মুক্তির পর চিকিৎসাধীন ছিলেন পরে অভিযোগ করার কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ প্রদান করেননি।
এব্যাপারে ব্যবসায়ী রিয়াদ ও রিজওয়ানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায় তাদের সেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে। আশেপাশের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার পর থেকে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। রিয়াদের ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও এসময় বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, এঘটনায় জড়িত হিসাবে পাঁচ জনের কথা স্থানীয়রা জেনেছেন। তাদের তিন জন স্থানীয় অপর দুইজন রোহিঙ্গা। স্থানীয়দের মধ্যে আবদুল খালেকের ছেলে মোঃ ফারুক, মৃত আবদুল মালেকের ছেলে দোকান কর্মচারী রিদুয়ান ও দুইজন অজ্ঞাত রোহিঙ্গা। আবার ফারুকের পিতা আব্দুল খালেকের বাড়িতে মুক্তিপণের টাকার ভাগবাটোয়ারার কথাও বলেছেন স্থানীয়রা। যা আইন শৃংখলা বাহিনী গুলো তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে বলে দাবী তাদের।
ঘটনার পর তারা কিছু সময় আত্মগোপনে থাকলেও পরে তারা এলাকায় আনাগোনা শুরু করেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা অনেকের মাঝে আতংক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের দাবী এই উঠতি ডাকাতদলের সদস্যদের এখনই আইনের আওতায় আনা না গেলে তারা ভবিষ্যতে আরও বড় কোন অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়তে পারে।
