টেকনাফের শাপলা চত্বর আল আল মদিনা গ্যাস হাউসের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় গডফাদাররা আইনের আওতায় আসবে কি !

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

নিজস্ব প্রতিনিধি, টেকনাফ টুডে ডটকম :
গত ৭ মে চট্টগ্রামের শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে টেকনাফের অলিয়াবাদ শাপলা চত্বর মসজিদ মার্কেটের আল আল মদিনা গ্যাস হাউসের খালি সিলিন্ডার বোঝাই গাড়ির গ্যাস একটি সিলিন্ডার থেকে ১০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় গডফাদাররা আইনের আওতায় আসবে কি ! এ প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে ।

জানা যায়, গত ৭ মে চট্টগ্রামের শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে টেকনাফের অলিয়াবাদ আল আল মদিনা গ্যাস হাউসের খালি সিলিন্ডার বোঝাই গাড়ির একটি গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ১০ হাজার ইয়াবা করে পুলিশ।

এ সময় এক ট্রাক চালক ও তার সহকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে সিলিন্ডার বোঝাই ট্রাকটি আটক করা হয় বলে বাকলিয়া থানার ওসি প্রণব চৌধুরী জানান।

গ্রেপ্তার ট্রাক চালক মো. হোসেন (৩০) ও তার সহকারী জহির আহম্মেদের (২৪) বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায়।

ওসি জানান, শাহ আমনত সেতুর চেকপোস্টে ট্রাকটি থামানোর সংকেত দিলে চালক নির্দিষ্ট স্থানে না থেমে একটু দূরে গিয়ে গাড়ি থামান। এরপর চালক হোসেন ও জহির দুজনেই ট্রাক থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন।

“এ সময় তাদের আটক করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে গাড়িতে ইয়াবা থাকার কথা স্বীকার করেন তারা।”

ওসি জানান, টেকনাফের আল আল মদিনা গ্যাস হাউস থেকে ৩৮৩টি খালি সিলিন্ডার নিয়ে মিরসরাইয়ের ওমেরা গ্যাস কোম্পানিতে যাচ্ছিল ট্রাকটি।

“তার মধ্যে একটি সিলিন্ডারের ভেতরে ইয়াবা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সিলিন্ডারটি তল্লাশি করে ১০ হাজার ইয়াবা পাওয়া গেছে। এভাবে আগেও ইয়াবা পাচার করার কথা তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

চালক ও তার সহকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে সিলিন্ডারের ভেতর ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছেন, আল মদিনা নামে ধর্মীয় অনুভূতি সম্পন্ন নাম রেখে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা করে বর্তমানে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হয়েছে।

শুধু তাই নই আল মদিনা গ্যাস হাউস, আল মদিনা ইলেকট্রিক এ ধরণের আরও ৬/৭টি বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এই সিন্ডিকেটটি রমরমা ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যা দুদক অথবা অাইন প্রয়োগকারী যে কোন সংস্থা তদন্ত করলেই থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে বলে অভিমত ইয়াবা বিরোধী সচেতন মহলের।

কক্সবাজারের জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর ইয়াবা বিরুধী কঠোর ঘোষনার পর লেবাসধারী ছদ্মবেশী এইসব ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আইনের আওতার দাবী ‍উঠেছে সচেতন মহলে।

নাহলে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা ব্যবসা কখনো বন্ধ করা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন তারা।