টেকনাফ টুডে ডেস্ক : মিরপুর শের-ই-বাংলার ২২ গজ যেন রীতিমত এক বিস্ময়। যেখানে উপমহাদেশের বাইরের খেলোয়াড়রা এসে ধাঁধায় পড়ে যান।
অস্ট্রেলিয়াকে যে ফাঁদ পেতে আটকে দিয়েছিল বাংলাদেশ, নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষেও একই ছক এঁকেছে। ফলাফল হাতের মুঠোয়। নিউ জিল্যান্ডকে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ৬০ রানে আটকে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে যায় ৭ উইকেটে। জয়টাও এসেছে খুব সহজে, ৩০ বল হাতে রেখে।
আগস্টে অস্ট্রেলিয়াকে টি-টোয়েন্টিতেই আতিথেয়তা দেয় বাংলাদেশ। ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতে অতি সহজে। যেখানে শেষ করেছিল, সেখান থেকেই আজ শুরু হলো। অস্ট্রেলিয়াকে শেষ ম্যাচে অলআউট করেছিল ৬২ রানে। এবার নিউ জিল্যান্ডকে গুটিয়ে দিল ৬০ রানে। যা নিউ জিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টিতে যৌথভাবে সর্বনিম্ন রান।
এর আগে ২০১৪ সালে বাংলাদেশেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬০ রানে অলআউট হয়েছিল তারা। সেবার রঙ্গনা হেরাথ মাত্র ৩ রানে ৫ উইকেট গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন কিউইদের। আজ অবশ্য সম্মিলিত আক্রমণেই শেষ নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটিং। যেখানে মোস্তাফিজ ২.৫ ওভারে ১৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বোলিংয়ে সেরা। জোড়া উইকেট পেয়েছেন নাসুম, সাকিব ও সাইফউদ্দিন। মেহেদী হাসানও পেয়েছেন ১ উইকেট।
টস জিতে নিউ জিল্যান্ড ব্যাটিং নেওয়ার পর বাংলাদেশের সমর্থকদের নজর ছিল মুশফিকুর রহিমের ওপর। দলে ফিরে কিপিং গ্লাভস ছাড়া মুশফিকের ফিল্ডিং নিয়ে ছিল আগ্রহ। এর আগে ২০১৬ সালে এশিয়া কাপে চার টি-টোয়েন্টিতে তিনি কিপিং গ্লাভস ছাড়া খেলেছেন। সেবারও সোহানের জন্যই জায়গা ছেড়েছিলেন। এবারও তাই। চার ম্যাচে খেলে এক ক্যাচ নিয়েছিলেন। এবার ক্যাচ নিয়ে ফেরান নিকলস ও ম্যাককনচিকে।
টি-টোয়েন্টি মানে চার-ছক্কার ফুলঝুরি। ৬০ রানের দলীয় ইনিংসে চার-ছক্কা যে হবে যৎসামান্য, তা প্রত্যাশিত। কিউইদের ইনিংসে বাউন্ডারি হয়েছে মাত্র তিনটি, ছক্কা হয়নি একটিও। তিন চারের একটি অবশ্য বদলি ক্রিকেটার রুবেল হোসেনের মিস ফিল্ডিংয়ে। নয়তো রানটা আরো কম হতো, নিউ জিল্যান্ডকে টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন রানের লজ্জাটাও দেয়া যেত। কিউইদের হয়ে ১৮ করে রান করেছেন নিকলস ও টম ল্যাথাম। বাকিরা কেউ দুই অঙ্কের ঘরও ছুঁতে পারেনি।
নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বাংলাদেশ আরেকটি ভালো রেকর্ডও করেছে। নিউ জিল্যান্ডের ৬০ রান-ই এখন বাংলাদেশের বিপক্ষে যেকোনো দলের সর্বনিম্ন রান। ২ রান কম করে অস্ট্রেলিয়াকে মুক্তি দিয়েছে সফরকারীরা।
লক্ষ্য তাড়ায় ওপেনিং জুটি মাথা ব্যথা বাড়িয়েছে আরেকবার। দলে ফেরা লিটন (১) স্টাম্পড হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে নাঈম (১) ক্যাচ অনুশীলন করান কিউই ফিল্ডারদের। ৭ রানে ২ উইকেট হারানো স্বাগতিকদের শুরুর ছন্দপতন ভালোভাবে সামলে নেন সাকিব ও মুশফিক। দুজনের ৪২ বলে ৩০ রানের জুটিতে সহজেই বাংলাদেশ এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর অবিচ্ছিন্ন ৩১ বলে ২৫ রানের জুটি বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যায়। ৩৩ বলে ২৫ রান করেন সাকিব। মুশফিক ২৬ বলে ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে আসে ২২ বলে ১৪ রান।
সহজ জয়ে প্রথমবার নিউজিল্যান্ডকে এই ফরম্যাটে হারাল বাংলাদেশ। এর আগে ১০ টি-টোয়েন্টির কোনোটিতেই জিততে পারেনি। এবার বিজয়ের পতাকা উড়িয়ে সিরিজে পথ চলা শুরু হলো। বাকি পথটাও একইভাবে পাড়ি দিতে চাইবে মাহমুদউল্লাহর দল।
