টি-টুয়েন্টিতে আজ ফাইনালে মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ; কার ঘরে যাচ্ছে ট্রফি

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৪ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : দুবাইয়ে আজ তাসমান সাগরের দুই প্রতিবেশীর দুর্দান্ত ফাইনাল দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব ক্রিকেট। তাসমান সাগরের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অস্ট্রেলিয়া এবং পূর্ব উপকূলে নিউজিল্যান্ডের অবস্থান। অস্ট্রেলিয়া কতটা

পেশাদার আর ঠাণ্ডা মাথার সেটি তাদের কাজই বলে দেয়। পরশু তারা বিশ্রাম নিয়েছে। গতকাল ফাইনালের আগের দিন অনুশীলন করে নিয়েছে ঐচ্ছিক। মানে কেউ ইচ্ছা করলে হোটেলে বসে ভিডিও গেমস খেলে বা বিশ্রাম করে কাটিয়ে দিতে পারে। নিউজিল্যান্ড দল আগের দিন রাতে অনুশীলন করেছে। গতকাল তো করেছেই। অস্ট্রেলিয়া ‘বিগ ফাইনাল’-এর আগে কোনো চাপ নিতে চাইছে না। ২০১৫ সালের পুনরাবৃত্তি করতে চাইছে তারা। সেবার ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল ছিল। অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়ন হয়। নিউজিল্যান্ড ২০১৯ সালের ‘ভূত’ তাড়াতে চাইবে। সেবারও তারা হেরে যায় ভাগ্যের কাছে। ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায়। আরও একটি ফাইনালে উঠে এবার আর নিউজিল্যান্ড হতাশ হতে চায় না।

সুপার টুয়েলভে ৫ ম্যাচের ৪টিতে জিতে ৮ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া। তবে নিউজিল্যান্ডকে সমীহ করলেও ফাইনাল জিততে চান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। তিনি বলেন, ‘এটি ফাইনাল ম্যাচ। প্রতিপক্ষ হিসেবে নিউজিল্যান্ড অনেক ক্যালকুলেটিভ দল। তারা অনেক পরিকল্পনা নিয়ে খেলতে নামবে। আমাদের সেভাবেই প্রস্তুত থাকতে হবে। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ফাইনাল জিততে হবে এবং প্রথমবারের মতো শিরোপার স্বাদ নিতে হবে।’

নিউজিল্যান্ডকে শক্তিশালী ও পরিকল্পিত দল মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার ফিঞ্চও। প্রতিপক্ষের অধিনায়কের সেই মন্তব্যের প্রতিফলন সুপার টুয়েলভ ও সেমিফাইনালে দেখিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ২০০৭ ও ২০১৬ সালের সেমিতে খেললেও ফাইনালে খেলার সুযোগ এবারই প্রথম হলো নিউজিল্যান্ডের।

প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেই বাজিমাত করতে চায় নিউজিল্যান্ড। দলের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন বলেন, ‘ওয়ানডে বিশ্বকাপে শেষ দুই আসরের ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা আমাদের আছে; কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই প্রথম ফাইনাল খেলছি আমরা। শিরোপা জিতে এই প্রথমকে স্মরণীয় করতে চাই। অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে জিততে হলে তিন বিভাগেই তাদের চেয়ে ভালো খেলতে হবে। ম্যাচের শুরু থেকেই অসিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।’

পুরো আসরেই এ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের ব্যাটার ও বোলাররা ভালো পারফর্ম করেছে। দলের সেরা ব্যাটাররা রানের মধ্যেই আছেন। আসরে মিচেল ১৯৭, গাপটিল ১৮০, উইলিয়ামসন ১৩১ ও কনওয়ে ১২৯ রান করেছেন। তবে ফাইনালের মঞ্চে কনওয়ের সার্ভিস পাবে না নিউজিল্যান্ড। নিজের ভুলে হাত ভেঙে ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়েন কনওয়ে।

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪তম ওভারে আউট হয়ে হতাশায় নিজের ব্যাটে হাত দিয়ে আঘাত করে হাত ভেঙে ফেলেন কনওয়ে। ফলে বিশ্বকাপের ফাইনালে কনওয়েকে পাচ্ছে না নিউজিল্যান্ড। ফাইনালের আগে কনওয়েকে হারানোটা বড় ধাক্কা মনে করছেন নিউজিল্যান্ড কোচ গ্যারি স্টিড। তিনি বলেন, ‘এমন সময় তার ছিটকে পড়াটা হতাশার। তাকে আমরা মিস করব। তবে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়াই। ১৪ ম্যাাচে মুখোমুখি হয়ে ৯ বার জিতেছে অসিরা; পাঁচ জয় অসিদের।

আর বিশ্বকাপের মঞ্চে একবার দেখা হয় অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের। সেটিতে জয় পেয়েছিল কিউইরা। ২০১৬ সালে সুপারটেনে গ্রুপ ২-এর ম্যাচে ৮ রানে জিতেছিল নিউজিল্যান্ড।

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে সর্বশেষ দেখা হয়েছিল নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার। নিউজিল্যান্ড সফরে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জিতেছে অসিরা