এম.জিয়াবুল হক : জেলার শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত ইউএনও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুদ্দিন মুহাম্মদ শিবলী নোমানের পরিকল্পনার আলোকে অবশেষে নিরাপত্তা বেস্টনীর আওতায় আসছে চকরিয়া পৌরশহরের দেড় কিলোমিটার জনপদ। উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও পৌরসভা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে ইতোমধ্যে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া পৌরশহরের বাণিজ্যিক জনপদ চিরিঙ্গা সোসাইটি এবং আশপাশ এলাকার গুরুত্বপুর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়েছে ১০০টি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা।
স্থানীয় সর্বশ্রেণীর জনসাধারণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে চকরিয়া পৌরশহর ও আশপাশ এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসানোর মাধ্যমে বিশাল একটি এলাকা নিরাপত্তা বেস্টনীর আওতায় এসেছে।
সুফল হিসেবে স্থানীয় জনগনের দাবি, শহরজুড়ে সিসি ক্যামেরা বসানোর ফলে এখন থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সবধরণের অপরাধ প্রবণতা বন্ধের পাশাপাশি চকরিয়া পৌরশহরে জেঁকে বসা দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন করা সম্ভব হবে।
অপরদিকে চকরিয়া পৌরশহরের সার্বিক নিরাপত্তা বলয় তৈরী ও পরিকল্পিত কার্যক্রমের মাধ্যমে যানজট নিরসনপুর্বক একটি সুন্দর শহর বির্নিমানের সফল এই কর্মসুচির অগ্রযাত্রা নিয়ে সোমবার সকালে নিজ কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে বিশদ আলোকপাত তুলে ধরেছেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুদ্দিন মুহাম্মদ শিবলী নোমান।
ইউএনও শিবলী নোমান বলেন, চকরিয়া পৌরশহর ও আশপাশ এলাকার গুরুত্বপুর্ন পয়েন্টে অন্তত দেড় কিলোমিটার জনপদে সম্প্রতি সময়ে ১০০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভাসহ শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক সহায়তায় এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো, চকরিয়া পৌরশহরকে যানজটমুক্ত রাখা। পাশাপশি আইন-শৃঙ্খলা, সামাজিক অপরাধ তথা চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং, মাদকের কারবারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাÐ নিয়ন্ত্রণ ও নাশকতা রোধ করা।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে শহরের প্রতিটি গুরুত্বর্পুণ পয়েন্টে এসব ক্যামেরা স্থাপনের কাজও শতভাগ শেষ হয়েছে। এতে ব্যয় হচ্ছে আনুমানিক ১৫ লক্ষাধিক টাকা। এখন চলছে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে। উদ্বোধনী অনুষ্টানে উপস্থিত থাকবেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ জাফর আলম এবং কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।
ইউএনও নুরুদ্দিন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, বসানো এসব সিসি ক্যামেরা নাইট ভিশনের এবং পুরোপুরি আইপি ক্যামেরা। তাই যেখানেই অপরাধ কর্মকাÐ সংঘঠিত হোক বা অন্য কোনো ঘটনা ঘটুক এই ক্যামেরায় ধরা পড়বে। আবার কোনো দুর্বৃত্তচক্র যদি এই ক্যামেরা চুরি বা ক্যাবল কেটে দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে সেই দুর্বৃত্তও নিমিষেই শনাক্ত হয়ে যাবে। এসব ক্যামেরার সার্বিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে তার দপ্তরে। তবে চিরিঙ্গার ট্রাফিক পুলিশ বক্সেই পুরোদমে পর্যবেক্ষণ করা হবে এসব ক্যামেরার ফুটেজ।
চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, ভৌগলিক কারণে চকরিয়া পৌরশহর দক্ষিন চট্টগ্রামের মধ্যে একটি বৃহত্তম বাণিজ্যিক শহর। প্রতিদিন এই শহরে বিভিন্ন খাতে হাজার কোটি টাকার ব্যবসা-বাণিজ্য হচ্ছে। এ অবস্থায় পৌরশহরের নিরাপত্তা বলয় তৈরীতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগটি দেরীতে হলেও প্রশাসনের একটি সফল কার্যক্রম।
তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে এখন চকরিয়া পৌরশহরের যানজট নিরসন ও সবধরণের অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। আমি মনে করি, প্রশাসনের এই উদ্যোগটি পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের একটি জনগুরুত্বপূর্ণ দাবি পূরণ হতে চলেছে। #
