এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া :
পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনার ব্যাপারে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম। তিনি দাবি করেন, আওয়ামীলীগের কতিপয় একটি মহল আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে টুনকো ঘটনার সাথে আমাকে জড়িয়ে দিয়ে বিগত কয়েকবছর ধরে নানা ধরণের অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। এলাকায় তাদের কোন ধরণের সাংগঠনিক ভিত্তি বা জনপ্রিয়তা নেই। দলের নেতাকর্মীদের কাছে তাদের পরিচয় ‘বসন্তের কোকিল’। এই ধরণের একটি চক্র একে অপরের সাথে আঁতাত করে পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে সংগঠিত ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে অপপ্রচারে মেতে উঠেছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম বলেন, মগনামার ঘটনার সাথে আমার কোন ধরণের সম্পৃক্ততা নেই। যাঁরা আমাকে ঘটনার সাথে জড়িয়ে ঘায়েল করার অপপ্রচারে লিপ্ত দেখবেন তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে উল্টো তাদের সম্পৃক্ততার রহস্য।
চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম বলেন, পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে ঘটনাটি চলাকালীন সময়ে চকরিয়া ও পেকুয়ায় ঘুর্ণিঝড় মোরায় আক্রান্ত এলাকা পরির্দশনে আসেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে পরিদর্শন ও ত্রান বিতরণকালে আমি মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ছিলাম। মগনামার সৃষ্ট ঘটনায় বিষয়ে শুরু থেকেই আমি অবগত ছিলাম না। কিন্তু গত রোববার কক্সজাবার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তাফা ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন সাহেব ঘটনাটি দেখভাল করার জন্য অনুরোধ জানালে আমি পেকুয়ার ইউএনও মো. মাহবুব-উল করিম এবং পেকুয়া থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম খানের উপস্থিতিতে সংঘাতে জড়ানো উভয়পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করি।
চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম বলেন, অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দুইপক্ষের সকলকে নিয়ে বিষয়টির শান্তিপুর্ণভাবে নিষ্পত্তিও করি। ভবিষ্যতে আর কোনপক্ষই এই ধরণের অনাকাঙ্খিত ঘটনায় জড়াবেন না মর্মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসি’র সামনে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, সমাধাণের পর দুই পক্ষ সংঘাতে জড়ালে আওয়ামীলীগের কিছু সুবিধাভোগী নেতার ইন্ধনে কতিপয় চক্রটি ওই ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত আছে এ ধরণের ভিত্তিহীন অভিযোগ সাজিয়ে গণমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে প্রকাশ করেছে। উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম অভিযোগ করে বলেন, আমি কোনদিন বিএনপি-জামায়াতের সাথে আঁতাত করিনি, ভবিষ্যতেও করবো না। দেশরত্ম শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অবিচল কোন কর্মী এই ধরণের বিশ^াস ভঙ্গ করতে পারেনা। বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে যখন চকরিয়া-পেকুয়ার রাজপথে আওয়ামীলীগের তৃনমুলের নিবেদিত নেতাকর্মীদের নিয়ে আমি অগ্রভাগে থেকে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন কঠোর হাতে দমন করি,তখন সুবিধাভোগী আওয়ামীলীগ নেতারা ঘরের কোনে বসে থেকে টেলিভিশনে খবর দেখছিলেন। এখন যখন দলের মধ্যে সুসময় বিরাজ করছে তখনই লুকিয়ে থাকা সেইসব নেতারা রাজনীতির মঞ্চে উঠে আমাকে ঘায়েল করার জন্যই কলাকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলাবাসি এবং আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা তাদেরকে সনাক্ত করেছে। সময় হলে তাঁরা যথাযথ মুল্যায়িত হবে নেতাকর্মীদের হাতে।
উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম বলেন, নিন্দুকেরা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতে পারবে, কিন্তু জনতার বিজয় কোনদিন রুখে রাখতে পারবেনা ইনশাল্লাহ। সংগ্রামী চকরিয়া ও পেকুয়াবাসিকে আশ^স্থ করতে চাই, এই ধরণের ঘটনার সাথে আমি কোনমতেই জড়িত নই।
