নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া ।
চকরিয়া উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নে দিনদুপুরে সৌদি প্রবাসি পরিবারের বসতভিটার জায়গা দখলে নিয়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছে প্রতিপক্ষের লোকজন। উল্লেখিত বাড়িভিটায় প্রবেশের উপর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আদালতের ১৪৪ ধারার আদেশ থাকলেও অভিযুক্তরা তা তোয়াক্কা করছে না। বরং তাঁরা বহিরাগত অস্ত্রধারী জড়ো করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছে। এই অবস্থার কারণে প্রবাসি পরিবার ও প্রতিপক্ষের মধ্যে যে কোন মুর্হুতে বড়ধরণের সংর্ঘষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের গৃহকর্তা বিএমচর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের উত্তর বহদ্দারকাটা গ্রামের মৃত ছৈয়দ নুরের ছেলে বদিউল আলম বাদি হয়ে চকরিয়া থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন। এতে বিবাদি করা হয়েছে একই এলাকার জাগের হোছন, পুতিয়া, নুরুল ইসলাম, শামসুল আলম, নুরুল আলম, হামিদুল হক ও মানিক নামের সাতজনকে। বাদি বদিউল আলম জানান, চকরিয়া থানার ওসি এজাহারটি তদন্তের জন্য নিকটস্থ মাতামুহুরী পুলিশ ফাঁিড়র আইসিকে দিয়েছেন।
এজাহারে বাদি বদিউল আলম জানান, উপজেলার ভেওলা মানিকচর মৌজার ৫২৯ নং খতিয়ান থেকে সৃজিত ১৮১০ নং খতিয়ানের বিএস ১২২৪ দাগের জিরো দশমিক ১০২৭ একর জমি তাদের বসতভিটার অংশ। উল্লেখিত জমি ১৯৯৩ সালের ৩ জানুয়ারী ৪২ নং রেজিস্ট্রাট দলিলমুলে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী রেনুআরা বেগমের খরিদাসুত্রে মালিক। একইসঙ্গে খরিদা জমিসহ আমার পৈত্রিক জমিতে বংশপরস্পরায় দীর্ঘ একশ বছর যাবত ভোগদখলে আছেন।
বাদি এজাহারে বলেন, উল্লেখিত জমিতে মাটির তৈরী একটি বসতঘর, টিউবওয়েল স্থাপন, গাছপালা রোপনপুর্বক পরিবার নিয়ে শান্তিপুর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু বিগত কয়েকবছর ধরে আসামিপক্ষের লোকজন কোনধরণের দলিল-দস্তাবেজ ছাড়াই পেশি শক্তিতে বলিয়ান হয়ে আমার বাড়িভিটার জমি দখলে নানাভাবে অপচেষ্ঠা চালিয়ে আসছে।
এই অবস্থায় তাদের রাহুগ্রাস থেকে বাড়িভিটা রক্ষায় আমার স্ত্রী রেনুয়ারা বেগম বাদি হয়ে চকরিয়া সহকারি জজ আদালতে একটি অপর মামলা (নং ১৩৫/১৫) দায়ের করেন। ওই মামলায় আদালত ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই তারিখের সর্বশেষ শুনানীতে তফসিলোক্ত আমার বসভিটার হস্তক্ষেপ না করার জন্য প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আদেশ দেন। এরপরও তাঁরা দখলের অপচেষ্ঠা চালাতে থাকে। এতে নিরুপায় হয়ে সর্বশেষ চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি এমআর মামলা (নং ১৫১৮/২১) দায়ের করেন আমার স্ত্রী রেনুয়ারা বেগম।
আদালতের আদেশক্রমে বিরোধীয় জমি নিয়ে তদন্তপুর্বক প্রতিবেদন দিতে চকরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনারকে (ভুমি) এবং জমিতে সবধরণের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে ব্যবস্থা নিতে চকরিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগী গৃহকর্তা বদিউল আলম এজাহারে অভিযোগ করে বলেন, আদালতের নির্দেশক্রমে চকরিয়া থানার ওসি বিরোধীয় জমিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার নিমিত্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাতামুহুরী পুলিশ ফাঁিড়কে নির্দেশ দেন। এরই প্রেক্ষিতে কয়েকদিন আগে পুলিশ ফাঁিড়র এসআই সুজা আবদুল্লাহ উল্লেখিত বিষয়ের আলোকে আসামিপক্ষের কাছে নোটিশ ইস্যু করেন।
এদিকে সর্বশেষ ৯ আগস্ট পুলিশ কর্মকর্তার নোটিশ পেয়ে আসামিপক্ষের লোকজন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এরই জেরধরে তাঁরা দিনদুপুরে আমার বসতভিটার জায়গা দখলে নিয়ে সেখানে বহিরাগত অস্ত্রধারী জড়ো করে স্থাপনা নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছে। এখন আমরা বাঁধা দিতে গেলে উল্টো আমাদেরকে নানাভাবে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। মামলায় জড়িয়ে হয়রাণি ছাড়াও আমাকে বিদেশ যেতে দিবেনা বলেও রাস্তা-ঘাটে হাঁকাবঁকা করছে। এই অবস্থায় বসতভিটা রক্ষা এবং পরিবার সদস্যদের নিয়ে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এব্যাপারে আমি প্রশাসনের কাছে জরুরী হস্তক্ষেপ চাই।
