চকরিয়ায় মানিকপুর রাখাইন পল্লীতে একলাখ লিটার মদ উদ্ধার, আটক-৩

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া :
চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের মানিকপুর রাখাইন পল্লীতে এবার চোলাই মদ তৈরীর কারখানার সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। গতকাল সোমবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের একটিদল নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে ছয়টি কারখানা থেকে এক লাখ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করেছে।
অভিযানের সময় দক্ষিন মানিকপুর গ্রামের মৃত কচিং এর ছেলে মেমং (৬৫), কক্সবাজার সদর উপজেলার মহাজনপাড়ার মৃত আছন আলী সিকদারের ছেলে মোঃ রহিম (৪৫) ও রামু উপজেলার মন্ডলপাড়া গ্রামের মৃত নুরুচ্ছফার ছেলে মোঃ সেলিম (৩১) সহ তিনজনকে আটক করা হয়।
র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট খন্দকার ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত ও র‌্যাব কক্সবাজার ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মো.রুহুল আমিনের নেতৃত্বে র‌্যাব সদস্যরা গতকাল সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত টানা পাঁচঘন্টা অভিযান চালান উপজেলার দক্ষিণ মানিকপুর রাখাইন পল্লীতে। অভিযানের সময় ওই এলাকার ৬টি কারাখানা থেকে মদ তৈরীর সরঞ্জামাদিসহ এক লাখ লিটার মদ জব্দ করা হয়। অভিযানে স্থানীয় সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম, ভুমি অফিসের সহকারী তপন কান্তি পালসহ র‌্যাবের বিপুল পরিমাণ সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে র‌্যাব সেভেন কক্সবাজার ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মো. রুহুল আমিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চকরিয়া উপজেলার মানিকপুরে রাখাইন পল্লীতে একাধিক কারখানা গড়ে তুলে চোলাই মদ তৈরী করা হচ্ছিল। গোপন সুত্রে খবর পেয়ে গতকাল সকালে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতি মানিকপুরের রাখাইন পল্লীতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে বেশ কয়েকটি ঘরের ভেতরে বাইরে চোলাই মদ তৈরীর ৬টি কারাখানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখান থেকে জব্দ করা হয় ৫ হাজার লিটার তৈরী চোলাই মদ ও ৯৫ হাজার কেজি মদ তৈরীর উপাদান। অভিযানের সময় মদ তৈরী ও বিক্রিতে জড়িত মেমং রাখাইন (৬৫) নামের একজনকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। পরে মুছলেকা নিয়ে তাকে ছেঁেড় দেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট। অপর দুইজনকে কক্সবাজার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত চোলাই মদে আনুমানিক মূল্য তিন কোটি বিরানব্বই লাখ টাকা। এসব মদ ও তৈরীর উপাদান অভিযানের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।#