জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি
ও অসম্প্রদায়িক চেতনা সুরক্ষিত রাখতে সফল
এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া :
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিঞা বলেছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ ও বিচক্ষন নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিতে যেমন সফল, তেমনি সকল ধর্মের মানুষের মাঝে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন তৈরীর মাধ্যমে অসম্প্রদায়িক চেতনা সুরক্ষিত রাখতেও সফল হয়েছেন। কারণ সম্প্রীতির স্বনির্ভর বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে বিচক্ষন ও জ্ঞানগর্ভ শাসকের প্রয়োজন। অশিক্ষিত বা স্বশিক্ষিতরা এই দায়িত্ব পেলে উন্নয়নের বদলে দেশ পিছনে চলে যায়।
তিনি বলেন, চলতিবছরের শেষ সময়ে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বাংলাদেশকে উন্নয়নের শিখরে পৌঁছাতে এবং সকল ধর্মের মানুষের মেলবন্ধনে দেশের ভেতরে অসম্প্রদায়িক চেতনা সুরক্ষিত রাখতে হলে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবারো আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে। দেশরত্ম শেখ হাসিনাকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেতে হবে। নচেৎ দেশে চলমান যে উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ও অসম্প্রদায়িক চেতনা বিরাজ করছে তা ভুলন্ঠিত হয়ে যাবে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের গুণামেজু বড় বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন সবুজ চত্বরে বাংলাদেশ রাখাইন মারমা সংঘ কাউন্সিলের প্রাক্তন উপদেষ্টা সংঘ মনীষা উ.বিজয় মহাথে’র জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান শেষে সেখানে অনুষ্ঠিত বৌদ্ধ মহাসম্মেলনের সমাপনি দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফজলে রাব্বী মিঞা আরো বলেন, মায়ারমারের সেনাবাহিনী যখন রোহিঙ্গাদের হত্যা করে, নির্যাতন, ধর্ষণ চালাচ্ছিল তখন লাখো লাখো রোহিঙ্গা সীমান্ত ফাঁিড় দিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। তখন সরকার প্রধান মানবতার নেত্রী আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা তাদের আশ্রয় দিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। একদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশের উন্নয়নে নিরলশভাবে কাজ করে যাচ্ছে অন্যদিকে বিএনপির চেয়ারর্পাসন বেগম খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাতের মামলায় জেল খাটছেন।
কক্সবাজারের রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উপ-সংঘরাজ পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের’র সভপতিত্বে অনুষ্টিত মহাসম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার সদর আসনের আওয়ামীলীগ দলীয় সংসদ সদস্য সাইমুন সওয়ার কমল, চকরিয়া-পেকুয়া আসনের জাতীয় পাটি (এরশাদ) দলীয় সংসদ সদস্য হাজি মো.ইলিয়াছ, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরদ্দিন মুহাম্মদ শিবলী নোমান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আজাদ, চকরিয়া থানার ওসি মো.বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফাসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম মিরান, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা পরিমল বড়–য়া, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেরাজ উদ্দিন মেরাজ, গুনামেজু বৌদ্ধ বিহারের অ.সুবর্ণ থের প্রমুখ। মহাসম্মেলনে দেশের বিভিন্ন বৌদ্ধ মন্দির ও বিহার থেকে আগত ভিক্ষুরা উপস্থিত ছিলেন।
মহাসম্মেলনে ডেপুটি স্পীকার ফজলে রাব্বী মিঞা আরো বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেডকোর্স ময়দানে বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিুবর রহমান যে ভাষন দিয়েছিলেন সেই ভাষনে উদ্বদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। সেদিন শুধু মুসলিমরা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষও অংশ নিয়েছিল। কিন্তু র্দূভাগ্যের বিষয় একটি অপশক্তি জাতির পিতার সেই ভাষনটি বন্ধ করার পায়তারা করেছিল। কিন্তু ইউনেস্কো কর্তৃক সে ভাষণ আজকে স্বীকৃতি পেয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশ রাখাইন মারমা সংঘ কাউন্সিলের প্রাক্তন উপদেষ্টা সংঘ মনীষা উ.বিজয় মহাথের’র জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উপলক্ষ্যে হারবাং গুনামেজু বড় বৌদ্ধ বিহারে গত তিনদিন ধরে চলছে নানা অনুষ্টান ও মেলা। এতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ভক্তরাসহ নানা শ্রেনী-পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন। গতকাল শুক্রবার বিকালে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্টানের মাধ্যমে উ.বিজয় মহাথের’র অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। প্রসঙ্গত: হারবাং গুণামেজু বড় বৌদ্ধ বিহারের আজীবন অধ্যক্ষ উ.বিজয় মহাথের ২০১৭ সালের জুন মাসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
