এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া :
চকরিয়ায় বিয়ের ১৫দিনের মাথায় শ্বশুর বাড়ি থেকে ফাতেমা বেগম (২২) নামের এক নববধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার প্রথম রমজানের দিন দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম নোনাছড়ি গ্রামে ঘটেছে এ ঘটনা। নিহত ফাতেমা বেগম মধ্যম নোনাছড়ি গ্রামের কাঠমেস্ত্রী সাইফুল ইসলামের স্ত্রী। তার বাপের বাড়ি উখিয়া উপজেলার ইনানী এলাকায়। বিয়ের পর হাতের মেহেদি না শুকাতেই ওই নববধুর মুত্যুর ঘটনায় এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়ে এলাকায় চলছে নানা গুঞ্জন।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, প্রেমের সম্পর্কের সুবাদে প্রায় ১৫দিন আগে কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার ইনানীস্থ রুপপতি এলাকার মোহাম্মদ আলমের মেয়ে ফাতেমা বেগমের সঙ্গে চকরিয়া উপজেলার হারবাং মধ্যম নোনাছড়ি এলাকার নাছির উদ্দিনের ছেলে সাইফুলের বিয়ে হয়।
বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় শুক্রবার দুপুরে শ্বশুর বাড়ির রুমের ভেতর তীরের সাথে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় নববধু ফাতেমার ঝুলন্ত লাশ দেখে স্বামীর বাড়ির লোকজনের চিৎকার শুরু করেন। ওইসময় আশপাশের প্রতিবেশি লোকজন এগিয়ে এসে ঘটনাটি দেখে পুলিশকে খবর দেয়।
এরপর চকরিয়া থানার মো.বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর নির্দেশে হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির আইসি আবুল কালাম নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশদল ঘটনাস্থল থেকে নিহত নববধুর লাশ উদ্ধার করে।
নিহত ফাতেমা বেগমের শ্বশুর নাছির উদ্দিন বলেন, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে জুমার নামাজে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। এসময় সাইফুলের স্ত্রী ফাতেমা (আমার পুত্রবধূ) মোবাইলে কথা বলছিল তার বাপের বাড়ির লোকজনের সাথে। ওই সময় তার স্বামী সাইফুল (আমার পুত্র)বাড়িতে ফার্নিসার তৈরীর কাজ করছিল। আমি তাকে প্রথম রমজানের জুমার নামাজে যাওয়ার জন্য তাগাদা দিলে সে কাজ রেখে অজু করতে যায়।
তিনি বলেন, পুত্রবধু ফাতেমা মোবাইল ফোনে কথা শেষ হওয়ার পরে দেখতে পাই সে কান্নাকাটি করেছে। তবে কি কারনে সে কেঁদেছে তা জিজ্ঞাস করিনি। পরে সাইফুলসহ বাড়ির অন্যদের সাথে নিয়ে আমি নামাজ পড়তে মসজিদে চলে যায়। নামাজ শেষ করে দুপুর দুইটার দিকে বাড়িতে এসে দেখতে পাই আশপাশের লোকজনে বাড়িতে ভিড় করছে। ভিড় টেলে সামনে যেতে দেখতে পাই ফাতেমা বেগম (পুত্রবধূ) তার রুমের ভেতর বাড়ির তীরের সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
গতকাল দুপুরে চকরিয়া থানার সামনে নিহত ফাতেমা বেগমের মা মমতাজ বেগম কান্না করে বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। শুক্রবার দুপুরেও আমার সাথে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। ফাতেমা প্রেম করে সাইফুলকে ভালবেসে বিয়ে করেছে।
মাত্র ১৫দিন আগে তাকে আনুষ্টানিক ভাবে বিয়ের অনুষ্টান করে স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়। আমার মেয়েকে তারা নির্যাতন মাধ্যমে মেরে ঘরের তীরে ঝুঁিলয়ে রেখেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে বিচার চাই প্রশাসনের কাছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক নিহতের শশ^ড় বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়। বাড়ির ভেতরে চালার তীরে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে পুলিশ নববধুর মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি বলেন, লাশটি উদ্ধারের পর প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রির্পোট হাতে আসলে ঘটনাটি আসলে হত্যা না আত্মহত্যা তার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে।
