চকরিয়ায় জমি বিরোধের জেরে দুইপক্ষে গোলাগুলিতে নিহত-১

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া : চকরিয়ায় জায়গা-জমির বিরোধে দুইপক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় আবদুস শুক্কুর (৫৫) নামের এক কৃষক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় স্কুল শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৫ ব্যক্তি কমবেশী আহত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলার সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত আবদুস শুক্কুর ডেমুশিয়া ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডস্থ নয়াপাড়া এলাকার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। বুধবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের আবদুল হাকিম পাড়া এলাকায় দুইপক্ষের মধ্যে ঘটেছে এ সংর্ঘষ ও গোলাগুলির ঘটনা। ঘটনার পরপর পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে খাইরুল বশর নামের হামলাকারী পক্ষের এক কেয়ারটেকারকে আটক করেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার জমিদার বাড়ির জনৈক আক্তার আহমদ চৌধুরীর বিএস রের্কটমূলে কোনাখালী ইউনিয়নে জায়গা-জমি রয়েছে। ওই জমির মধ্যে থেকে কোনাখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুস শুক্কুর (নিহত) গংয়ের লোকজন আরএস দাগমূলে পৈত্রিক জমির মালিকানা দাবী নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে দু’পক্ষের লোকজন আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিরোধীয় জায়গায় বুধবার সরেজমিনে পরিদর্শনে যাওয়ার কথা ছিল। সহকারী কমিশনার (ভূমি) জায়গা পরিদর্শন যাওয়ার পূর্বেই দখল দারিত্ব ও আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের লোকজন দুপুরের দিকে সংঘর্ষে ও গোলাগুলির ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে গোলাগুলিতে আবদু শুক্কুর (৫৫) নামের এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ সময় সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৫ ব্যক্তি কমবেশী আহত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে স্কুলশিক্ষার্থীসহ ৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহতদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে উপজেলা সদরের সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে থেকে গুরুতর অবস্থায় ৩ জনকে উপজেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহতদের মধ্যে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে যাদেরকে ভর্তি করা হয়েছে তাঁরা হলেন উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের আবদুল হাকিম পাড়া এলাকার মৃত ফিরোজ আহমদের ছেলে মো: রুবেল (৩০), ডেমুশিয়া নয়াপাড়া এলাকার আবদু রশিদের ছেলে মনুর আলম (৪৫), তার ভাই নুরুল হোসেন (৪০), একই এলাকার মনছুর আলমের স্কুল পড়ুয়া ছেলে ইমরুল হক (১৬), একই এলাকার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে আবু ছিদ্দিক (৫৫) ও স্কুল পড়ুয়া মো. ইসমাঈল (১৭)। তবে হাসপাতালে ভর্তি না হওয়ায় সংর্ঘষে আহত অপরপক্ষের লোকজনের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোন্দকার মো: ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত বলেন, জায়গা বিরোধ সংক্রান্ত বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১৪৪ একটি আদেশ রয়েছে। বুধবার জায়গাটি সরেজমিনে তদন্তের জন্য সার্ভেয়ার যাওয়ার কথা ছিল। সংঘর্ষের ঘটনার কথা শুনে তিনি আর তদন্তের কাজে যায়নি বলে জানান।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রত্যক্ষদর্শী লোকজনের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুইপক্ষের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার সময় একপক্ষের গুলিতে অপরপক্ষের আবদুস শুক্কুর নামের একজন নিহত হয়েছে।
ওসি বলেন, নিহত আবদুস শুক্কুরের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পরপর পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে খাইরুল বশর নামের হামলাকারী পক্ষের এক কেয়ারটেকারকে আটক করা হয়েছে।
বিকেল ৫টার দিকে চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী মো.মতিউল ইসলামের নেতৃত্বে ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশের কয়েকটি টিম হামলায় জড়িতদের আটক করতে সাড়াশি অভিযান চালাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওসি।