নিজস্ব প্রতিনিধি : দক্ষিন চট্টগ্রামের প্রখ্যাত আলেম চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা হাফেজ মাওলানা বশির আহমদের ঐক্যান্তিক প্রচেষ্ঠায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পুকপুকুরিয়া এলাকায় তিল তিল করে গড়ে তোলা হয় রহমানিয়া বালক-বালিকা হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা নামের একটি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এলাকায় কোরান শিক্ষার মহানবৃত নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি এবার ধংস করতে নানাধরণের অপতৎপরতা চালাচ্ছেন স্থানীয় একটি স্বার্থানেষী চক্র। ইতোমধ্যে চক্রটি অপকর্মের প্রথম ধাপ হিসেবে প্রতিষ্ঠাতা হাফেজ মাওলানা বশির আহমদকে জড়িয়ে বিভিন্ন ধরণের বিষোদাগার ছড়াচ্ছেন। পাশাপাশি প্রশাসনের দপ্তরে কাল্পনিক অভিযোগ দিয়ে হয়রাণির চেষ্ঠা করে যাচ্ছেন।
এতসব চক্রান্তের মধ্যদিয়েও দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষনা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা দক্ষিন চট্টগ্রামের প্রখ্যাত আলেম চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা হাফেজ মাওলানা বশির আহমদ। তিনি শনিবার ২৬ অক্টোবর দুপুরে চকরিয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠান এবং তাকে জড়িয়ে কতিপয় মহলের চক্রান্তের ফুলঝুঁিড় সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে হাফেজ মাওলানা বশির আহমদ বলেছেন, আমি এতিমের টাকা আত্মসাৎ করিনি। ষড়যন্ত্রকারীরা এসব আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে সামাজিকভাবে মানক্ষুন্ন করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে কুচক্রীমহল। আমার জানামতে আমি এতিমের কোনধরনের হক মেরে খায়নি। দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আমার জীবদ্দশায় ৪১বছর ধরে ইসলামপ্রিয় মানুষের মাঝে কুরআনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে খেদমত করে আসছি। এখানে আমার বিরুদ্ধে আনীত মিথ্যা অভিযোগ ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছু নয়।
তিনি বলেন, প্রকৃত বিষয় হচ্ছে এতিমখানা কর্তৃপক্ষ এলাকার এতিম শিশুগণকে যথাযথভাবে সুশিক্ষিত করিয়া সুনাগরিক হিসাবে গড়িয়া তোলার জন্য প্রকৃত বিষয় হচ্ছে গত ০১/০১/১৯৯৫ইং সালে একটি এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন এবং পীরে কামেল শাহ্ আবদুল জব্বারে নামানুসারে শাহ্ জব্বারিয়া এতিমখানা হিসাবে নামকরণ করেন। অধিকন্তু এতিমখানা প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এতিমখানার সভাপতি (আমি) স্থানীয় গণি সিকদার পাড়া জামে মসজিদের খতিব থাকায় এতিমখানার অস্থায়ী কার্যালয় দিগরপানখালী ব্যবহার করা হইয়াছে। পরবর্তীতে গত ২৩/১১/২০০৫ইং সালে শাহ্ জব্বারিয়া এতিমখানা নামে নিবন্ধন নং- ২৯৪/২০০৫ হিসাবে নিবন্ধিত হয়। পরবর্তীতে উপজেলা সমাজ সেবা বিভাগের নির্দেশে এতিমখানার নিবন্ধনের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে নিজস্ব জমি থাকতে হবে বলে প্রজ্ঞাপন জারি করেন। সেই কারণে ওইসময় আমি এতিমখানার সভাপতি আমি হাফেজ বশির আহমদ গত ০৪/০৯/২০০৫ইং তারিখে তৎস্বত্ব দখলীয় পুকুপুকুরিয়া এলাকার ২৯.৩৩ শতক জমি এতিমখানা বরাবরে দান করিয়া দখল হস্তান্তর করেন। গত ২০১৮ইং সালে এতিমখানার নিজস্ব স্বত্ব দখলীয় জমিতে একটি সেমিপাকা ভবন নির্মাণ করা হয় এবং উক্ত ভবনে এতিম শিশুদের লেখা-পড়া ও থাকার ব্যবস্থা করা হইয়াছে।
তিনি বলেন, চকরিয়া উপজেলার চিরিংগা মৌজায় ও অনুরূপ একটি মসজিদ এবং এতিমখানা রহিয়াছে। এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনাধীন এতিমখানাটি বায়তুশ শরফ কর্তৃপক্ষের আর্থিক অনুদানপ্রাপ্ত অনমোদিত এতিমখানা ছিল না। ফলে চকরিয়া বায়তুশ শরফ কর্তৃপক্ষ এই প্রতিপক্ষের এতিমখানাটির নাম “শাহ্ জব্বারিয়া” ব্যবহার করায় তৎ বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করেন। ফলে এই প্রতিপক্ষ বাধ্য হইয়া গঠনতন্ত্রের ২০ ও ২১ ধারা মতে এতিমখানার নাম সংশোধন করার জন্য গত ১৩/০৪/২০১৮ইং তারিখে একটি সাধারণ সভার আয়োজন করেন এবং উক্ত সাধারণ সভায় সার্বিক আলোচনাক্রমে এতিমখানার নাম শাহ্ জব্বারিয়ার স্থলে “রহমানিয়া বালক-বালিকা এবং ঠিকানা পুকপুকুরিয়া করার সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তৎ প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার, চকরিয়া নিকট স্মারক নং- ৪১.০১.২২১৬০০০.১৬.০০৮.১৮ মুলে আবেদন করা হয়। তৎ প্রেক্ষিতে সার্বিক যাচাই বাছাই করিয়া সমাজ সেবা অধিদপ্তর, ঢাকা পক্ষে জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়, কক্সবাজার। শাহ্ জব্বারিয়া এতিমখানার স্থলে রহমানিয়া বালক-বালিকা এতিমখানা এবং ঠিকানা দিগরপানখালীর স্থলে পুক-পুকুরিয়ার অনুমোদন করেন এবং তৎমর্মে একটি সংশোধিত সনদপত্রও সরবরাহ করেন।
হাফেজ বশির আহমদ বলেছেন, বর্তমানে রহমানিয়া বালক-বালিকা এতিমখানাটি অত্যন্ত সুন্দর ও সুচারুভাবে পরিচালিত হইয়া আসিতেছে। অত্র এতিমখানায় বর্তমানে ৯০ জন এতিম বালক-বালিকা ও ৫ জন সুদক্ষ শিক্ষক রহিয়াছে। এতিমখানা প্রতি ২ বৎসর অন্তর সুষ্টভাবে ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠিত হইয়া সরকারের অনুমোদন লাভ করিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হইতেছে।
এলাকাবাসীর সহযোগিতা ও আমার একক প্রচেষ্টায় এসব উন্নয়ন কর্মকান্ড সহ্য করতে না পেরে প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে একটি স্বার্থান্বেষী মহল উঠে পড়ে লেগেছে। সংবাদ সম্মেলনে হাফেজ মাওলানা বশির দাবি করেন, ওই এলাকার বশির মাহমুদ, মজিদিয়া মাদ্রাসার সুপার মৌলবী নুরুল আবছার ও সালেহ আহমদ সাদেকের নেতৃত্বে কতিপয় চক্রটি মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে প্রতিষ্ঠান ও আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। অতএব, সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমি প্রতিপক্ষগণকে কথিত জমি উদ্ধার তথা আত্মসাতের অবান্তর অভিযোগ তুলে এতিম ও কুরআন হেফজ করার প্রতিষ্ঠান এতিমখানা ও হেফজখানার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র থেকে বিরত থাকার আহবান জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, গত ২৮/০৯/২০১৯ইং তারিখে জনৈক ছাবের আহমদ কর্তৃক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চকরিয়া নিকট যে দরখাস্তটি দাখিল করিয়াছেন তাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্য প্রনোদিত এবং হয়রানীকর হওয়ায় এই দরখাস্ত খারিজযোগ্য হয়।#
