চকরিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে হামলা-ভাংচুর ; ৫জনকে কুপিয়ে জখম, উল্টো ছেলেকে পুলিশে সোর্পদ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ৫ জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এসময় আহত আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ির দরজা, জানালা ভেঙ্গে ব্যাপক লুটপাট চালিয়ে পরিবারকে প্রায় একঘন্টা ধরে জিম্মি করে রাখা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে সাহারবিল ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের শাহপুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার সদস্যরা জানান, গত ৬ মার্চ সকালে সাহারবিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তার আহমদের ছেলে মিনহাজ উদ্দিন একটি প্রত্যয়নপত্র আনতে পরিষদে যান। ওইদিন মিনহাজ প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষরের জন্য চেয়ারম্যান নবী হোসেনের কাছে যান। ওইসময় চেয়ারম্যান প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর না করে তাকে তাড়িয়ে দেন। পরে মিনহাজ উদ্দিন প্রত্যয়নপত্র না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। এতে ক্ষুব্ধ হন চেয়ারম্যান ও তার সহযোগিরা।
আহত আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার আহমদ অভিযোগ করে জানান, ১১ মার্চ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান নবী হোসেন লোকজন নিয়ে তার বাড়িতে যান। ওইসময় চেয়ারম্যান তার বিরুদ্ধে ছেলে মিনহাজের ফেসবুকে কেন স্ট্যাটাস দিয়েছে জানতে চান। তার ছেলে ফেইসবুকে কোন ধরণের স্ট্যাটাস দিয়েছে কিছুই জানে না বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যানকে। এতে চরমভাবে ক্ষুব্ধ হন চেয়ারম্যান।
তিনি আরও বলেন, এসময় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে তার সহযোগিরা তাকে মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে তার স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে মিনহাজ এগিয়ে আসলে তাদেরকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এসময় তার স্ত্রী রাশেদা বেগম (৫০), মেয়ে শারমিন আক্তার (৩০), রেশমি আক্তার (২৫) ও ছেলে মিনহাজ (৩৪) মারাত্মকভাবে আহত হন। তাৎক্ষনিক খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে। পরে তাদেরকে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এরমধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্ত্রী রাশেদা ও দুই মেয়েকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। উল্টো চেয়ারম্যানের উপর হামলা চালানো হয়েছে বলে মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে মিনহাজকে পুলিশের হাতে তুলে দেন চেয়ারম্যান।
চকরিয়া থানার ওসি ওসমান গনি জানান, সাহারবিল ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে শুক্রবার দুপুরে ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় মেম্বার ৭নং ওয়ার্ডে একটি বিচার বিষয় নিয়ে ওইএলাকায় গেলে তাদের উপর পাথর ছুটা হয়। এসময় তারা আহত হয়। এঘটনায় মিনহাজ নামে এক ছেলেকে আটক করা হয়েছে। আক্তার আহমদের পরিবারে কেউ আহত হলে অভিযোগ ফেলে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। ##