চকরিয়ায় ৯ ভাইয়ের পরিবারের বিরুদ্ধে একমাত্র বোনের বসত-ভিটার গাছ কেটে লুটের অভিযোগ

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৩ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নে একমাত্র বোনের বসতভিটার গাছ কেটে লুটের অভিযোগ উঠেছে ৯ ভাইয়ের পরিবার সদস্যদের বিরুদ্ধে। এতে ভুক্তভোগী বোনের লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। এ ঘটনায় বসতভিটার মালিক জাহানারা বেগম বাদি হয়ে গত ১৫ ডিসেম্বর চকরিয়া থানায় এজাহার ও স্থানীয় ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বাদি জাহানারা বেগম ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পুর্বমাইজপাড়া গ্রামের মৃত হাজী মোজাফফর আহমদের একমাত্র মেয়ে। প্রায় ৩০ বছর আগে তার বিয়ে হয়েছে চকরিয়া পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের সোসাইটি পাড়া এলাকায়।
Screenshot 2022 12 18 15 44 43 560 com.facebook.orca 2 TEKNAF TODAY - সীমান্তের সর্বশেষ খবর
চকরিয়া থানায় জমা দেওয়া এজাহারে ৯ ভাইয়ের পরিবার সদস্যদের আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের পুর্বমাইজপাড়া গ্রামের মৃত মাস্টার কবির আহমদের ছেলে শহিদুল ইসলাম সোহেল, মৃত আবদুর শুক্কুর মেস্ত্রীর ছেলে মনজুর আলম, মো আফরাইন, মৃত আবদুর রহিম মেম্বারের ছেলে আবদুল করিম, ফরহাদ, মৃত হাজী মোজাফফর আহমদের ছেলে সাইফুল ইসলাম ছাবের, ফখরুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান ও মুফিজুর রহমান। এজাহারটি আমলে নিয়ে চকরিয়া থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী থানার এসআই মোহাম্মদ ইস্রাফিলকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। বাদির ছেলে জুবাইরুল ইসলাম জানিয়েছেন, থানার এসআই মোহাম্মদ ইস্রাফিল ঘটনাস্থলে তদন্ত করে গাছ কাটার বিষয়টি সত্যতা পেয়েছেন।

বাদি জাহানারা বেগম বলেন, আমার বাবার ৯ ছেলে ও আমি একমাত্র মেয়ে। ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের পুর্ব মাইজপাড়ায় আমার পৈত্রিক বাড়ি। আমার এক ভাই মরহুম আবদুর রহিম ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান ছিলেন। আমার বাবা জীবিত থাকাবস্থায় ২০১৭ সালে পৈত্রিক ২১০ কড়া আয়তনের বাড়িভিটাটি ৯ ভাই ও আমি একমাত্র বোনের মাঝে সমানভাবে বন্টন করে দেন। প্রতিজন ২১ কড়া হিসেবে বসতভিটার জায়গার অংশিদার হন। বন্টনের আগে আমার অংশের জায়েদ রকমারি গাছ রোপণ করে বাগান গড়ে তুলেন আমার বাবা।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০১৯ সালে আমার বাবা মৃত্যবরণ করেন। একইসময়ে ইন্তেকাল করেন আমার ভাই আবদু শুক্কুর মেস্ত্রী ও সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুর রহিম। মুলত তাদের মৃত্যুর পর পরিবারের অন্য ভাই ও তাদের ছেলেরা লোভে পড়ে যান। এরই জেরধরে অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে আমার অংশের বাড়িভিটাটি দখলে নানামুখী চক্রান্ত শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে তাঁরা সম্প্রতি আমার বাড়িভিটায় ঢুকে বাগানের অন্তত ২৫টি ছোটবড় আম জাম কাঠাল ও মেহগনি গাছ কেটে সাবাড় করেছে। এখন তারা সেখানে আমার অনুপস্থিতির সুযোগে দখল চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে।

ভুক্তভোগী জাহানারা বেগম, ৯ ভাইয়ের পরিবারের রাহুগ্রাস থেকে তার বাড়িভিটা রক্ষায় চকরিয়া থানা পুলিশ ও স্থানীয় ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জানতে চাইলে ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদর বলেন, একমাত্র বোনের বসতভিটার গাছ কাটার বিষয় নিয়ে পরিষদে অভিযোগ দিলে আমরা গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে সেখানে কোনধরনের কাজ না করতে জড়িতদের বারণ করেছি। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে দুইপক্ষকে পরিষদে ডাকা হয়েছে। তারা আসলে বৈঠকে সমাধানের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। #