চকরিয়ায় স*ন্ত্রা*সী চক্রের রোষানলে ভিলেজার পরিবার : কলেজ ছাত্রসহ ৪জনকে কুপিয়ে জখম

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৩ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়া উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নে ভিলেজারী নির্বাচনের জেরধরে গেল তিনবছর ধরে প্রতিপক্ষের রোষানলে হামলা ও মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন একটি পরিবার। সর্বশেষ গত ৯ফেব্রুয়ারী বিকালে পুরানো বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের অস্ত্রধারী লোকজন হামলা চালিয়ে কলেজ ছাত্রসহ পরিবারটির চারজনকে কুপিয়ে জখম করেছে। ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ৯নং ওয়াঁর্ড দক্ষিণ ছাইরাখালী এলাকার ইলিয়াসের দোকানের সামনে রাস্তার উপর ঘটেছে এ হামলার ঘটনা।
হামলায় আহত হয়েছেন ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ ছাইরাখালী এলাকার নুর আহমদের ছেলে কক্সবাজার সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথমবর্ষের ছাত্র ফয়জুল কাদের (২৪), তার ভাই শফিউল কাদের (১৮), তাদের ফুফাতো ভাই রেজাউল করিম (১৮) ও তৌহিদুল ইসলাম (২২)। ঘটনার সময় প্রতিপক্ষের অস্ত্রধারী লোকজন হত্যার উদ্দেশ্য তাদেরকে সর্বশরীরে কুপিয়ে জখম করেছে।
এ ঘটনায় আহত কলেজ ছাত্র ফয়জুল কাদের এর মাতা রাসেদা বেগম (৪৫) বাদি হয়ে চকরিয়া থানায় একটি মামলা ( নং ২৭/৭০) রুজু করেছেন।
মামলায় একই এলাকার মৃত জালাল আহমদের ছেলে নুরুল হুদা মানিক, মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে রিদুয়ানুল হক রাসেল, ওমর হাকিমের ছেলে মোহাম্মদ ইলিয়াস, ইরান জন্নাত ও মনোয়ারা বেগমকে এজাহারনামীয় এবং আরও ৫-৬ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসীকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বাদি দক্ষিণ ছাইরাখালী এলাকার নুর আহমদের স্ত্রী রাসেদা বেগম বলেন, বনবিভাগের ভিলেজার আমার দেবর অলি আহমদকে ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে অভিযুক্ত আসামি পক্ষের লোকজন ভিলেজারী নির্বাচনের রেশধরে হামলা চালিয়ে মারধর করে। এ ঘটনায় জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় একটি মামলা ( জিআর ১২০/২০) রুজু করা হয়। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন।

মুলত পুরানো আক্রোশের জের ধরে গত ৯ ফেব্রুয়ারী বিকালে আমার ছেলে কক্সবাজার সরকারি কলেজের ডিগ্রির ছাত্র ফয়জুল কাদের বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্ত আসামিরা তার গতিপথ আটকে ধারালো কিরিচ দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। ঘটনার সময় তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে তার ছোট ভাই শফিউল কাদের, তাদের ফুফাতো ভাই রেজাউল করিম ও তৌহিদুল ইসলামকেও একইভাবে কুপিয়ে জখম করে আসামিরা। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাদেরকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সবাইকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করেন।

মামলার বাদি রাসেদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, হামলা চালিয়ে কলেজ ছাত্রসহ চারজনকে কুপিয়ে জখম ঘটনায় আমি চকরিয়া থানায় মামলা করেছি। এজাহারনামীয় আসামিরা এলাকায় বহাল তবিয়তে থেকে এখন উল্টো আমার পরিবার সদস্য এবং আমার দেবর অলি আহমদকে নানাভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। তারা প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে রাতের আঁধারে আমাদের বাড়িঘর আগুনে পুড়ে দেবে। আমার দেবর অলি আহমদ এর মৎস পুকুর থেকে মাছ লুট করবে, পুকুরে বিষ ঢেলে দিয়ে মাছগুলো মেরে ফেলবে।

মামলার বাদি রাসেদা বেগম অভিযোগ করে আরও বলেন, আসামিপক্ষের লোকজনের নানা হুমকির কারণে আমার স্কুলপড়ুয়া মেয়ে বিদ্যালয়ে যেতে সাহস পাচ্ছে না। ঘটনাটি ইতোমধ্যে আমরা বিদ্যালয় কতৃপক্ষকে জানিয়েছি। এব্যাপারে থানা পুলিশ ও চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে জানাবো। এই অবস্থায় আমরা পরিবার সদস্যদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এব্যাপারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। ##