শ.ম.গফুর, উখিয়া :
ঘুমধুমে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে জহির আহমদ নামের এক ব্যক্তি হামলা, মিথ্যা মামলার আসামী হয়ে প্রতিনিয়ত প্রাণ নাশের হুমকির মূখে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ভূক্তভোগী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম জলপাইতলী এলাকার সৌদি প্রবাসী ছৈয়দ আলমের পুত্র জহির আহমদ অভিযোগ করে জানান, তার বাবা ২০০৯ সালে আপন মামা ছৈয়দ আলমের নিকট থেকে ক্রয় করা ৬ শতক ও তার আপন শ্বশুরের ৬ শতক সহ ১৮ শতক জায়গার উপর বসত বাড়ি নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোগ দখল করিয়া আসিতেছিলেন। জায়গা জমির দাম বাড়ায় জমি বিক্রেতা একই এলাকার মৃত জবর মুল্লকের ছেলে ছৈয়দ আলমের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে ক্রয় করা জায়গার উপর। উক্ত জায়গা জবর দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এমনকি উক্ত জায়গা দাম বাড়তি হওয়ায় আরো মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে প্রত্যাখ্যাত হয়ে বিভিন্ন উপায়ে জহির আহমদকে ভিটে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে ষড়যন্ত্র করে আসছিলেন। ধারাবাহিকতায় গত ২৯ মে দুপুর আড়াই টার দিকে উক্ত জায়গা জবর দখলে নিতে জমি বিক্রেতা আপন মামা ছৈয়দ আলম, মামী, মামাত বোন ও কয়েকজন ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে জহিরের বসত বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়িতে রক্ষিত নগদ ৩৭ হাজার টাকা ২ ভরি স্বর্ণালংকার, মালামাল লুটপাট, তছনছ, ভিটে জায়গায় রোপিত অর্ধলক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কর্তন করে ফেলে। ফলে জহির আহমদের অন্তত ২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন হয়। এতে বাঁধা দিতে গেলে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জহির আহমদ (৩০), স্ত্রী শামীমা সোলতানা রেহেনা (২৬) কে ছৈয়দ আলম গং উপর্যুপুরি লোহার রড, দা, কোড়াল দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে কাটা, ফোলা, নীলা, গুরুতর জখম করে। এর আগে ও কয়েকবার এভাবে তাদের ও তাদের পরিবারকে মারপিট করেছে বলে অভিযোগ করেন জহির আহমদ। এ ব্যাপারে আহত জহির আহমদ প্রতিপক্ষ ছৈয়দ আলম গং এর বিরুদ্ধে হামলার ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ০১/২০১৭, তাং- ০১/০৬/২০১৭ইং। এতে ছৈয়দ আলম সহ ৯ জনকে আসামী করা হয়। জহির আহমদের স্ত্রী শামিমা সুলতানা বলেন, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কয়েক দফা শালিশ বৈঠক করলেও বারবার এরা শালিশ অমান্য করে জোর জবরানে আমাদের ভিটা ভোগ করতে চায়। এদিকে জহির আহমদ তার বাবার ক্রয় করা স্থিত জমির উপর বসত বাড়ি নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোগ দখল করে আসলেও প্রতিপক্ষ ছৈয়দ আলম গং তাদেরকে ভিটে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে হামলা চালিয়ে একাধিক বার রক্তাক্ত জখম করে। উল্টো বান্দরবান কোর্টে জহির আহমদ, তার স্ত্রী, মাতা ও শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করে আসছেন। উক্ত মামলার পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ও ছৈয়দ আলম গংদের অব্যাহত প্রাণ নাশের হুমকির মূখে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। পাল্টাপাল্টি মামলার তদন্তকর্মকর্তা ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্র পুলিশের উপ-পরিদর্শক আলমগীর কবির জানান, তদন্ত অব্যাহতধীন আছে। সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত পূর্বক আসামীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
