গরমে এখন উদ্বেগ চিকেন পক্স এবং করণীয়

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৩ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : জলবসন্ত বা চিকেন পক্স (ভ্যারিসেলা) তীব্র ছোঁয়াচে একটি রোগ। সাধারণত, বসন্ত কালে এই রোগটি বেশি হলেও বছরের যে কোনও সময়েই চিকেন পক্স হতে পারে।

বড় ছোট যে কোনও বয়সে চিকেন পক্স হতে পারে। বেশি দেখা যায় ৫ থেকে ৯ বছর বয়সের মধ্যে। আক্রান্তের সংস্পর্শে থাকা সদস্যদের প্রায় ৯০ শতাংশ আক্রান্ত হয়। রোগ ছড়ায় সরাসরি সংসর্গে এবং হাঁচি, কাশি, থুতু-লালার সাহায্যে। জলভরা কাঁচা ফোসকায় জীবাণু থাকে।

সাধারণত শরীরে ভ্যারিসেলা জসটার নামক ভাইরাস প্রবেশ করলেই এই রোগটি হয়ে থাকে।

লক্ষণ

মৃদু জ্বর, গা, হাত, পায়ে ব্যথা, দুর্বলতা এবং সারা শরীরে র‌্যাশ— এই হল চিকেন পক্সের মূল কয়েকটি উপসর্গ।

বুকে-পিঠে, হাতে-মুখে ও সারা শরীরে জলভর্তি গোটার মত দেখা দেয়। খুব চুলকায় এবং ৬-৭ দিন পর থেকে র‌্যাশ শুকাতে শুরু করে।

চিকিৎসা ও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা

এটি একটি তীব্র ছোঁয়াচে রোগ। তাই রোগীকে সুস্থ ব্যক্তিদের থেকে দ্রুত আলাদা রাখতে হবে। রোগীর ব্যবহৃত জিনিসপত্র অন্যকেউ যেন ব্যবহার না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলতে হবে।

কষ্ট হলেও শরীর চুলকানো থেকে বিরত থাকা উচিৎ এ সময়ে নয়তো শরীরে দাগ বসে যায়। তবে এ দাগ চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে দাগ এমনিতেই চলে যায়।

প্রয়োজনে নিমপাতা সিদ্ধ পানিতে গোসল করতে পারেন।

জ্বর বেশি হলে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ব্যবহার করা হয়। চিকেন পক্স হলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’-যুক্ত খাবার, ফলমূল ও শাকসবজি খান।

অ্যালার্জি যুক্ত কোনও খাবার এই সময় খাবেন না। যেমন, চিংড়ি মাছ, ইলিশ মাছ, কুমড়ো, পুইশাক এইগুলো এড়িয়ে চলুন। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। ডাবের পানি এ সময় অনেক উপকারী।
গরমে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে চিকেন পক্স? কী করণীয়?

শিশুর ক্ষেত্রে করণীয়

শিশুর স্বাভাবিক খাবার, পানি ও পানীয় বেশি বেশি খাওয়াতে হবে।

চুলকানি কমানোর ওষুধ দিতে হবে। বেশি চুলকাতে যেনো না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। নখ ছোট রাখাসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরাতে হবে।

শিশুদের এ সময় শিং মাছ, কবুতরের মাংস, তাজা শাকসবজিসহ নানা রকম পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে পারেন।

অ্যালার্জির আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে শিশুদের এ সময় ধুলাবালি থেকে দূরে রাখুন।

চিকেন পক্স টিকা যথেষ্ট নিরাপদ। ১২ মাস থেকে ১২ বছরের শিশুকে এক ডোজ টিকা দিতে হবে।

বেশি সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করুন।