মুক্তিযোদ্ধা সোলতান আহমদ : এই পৃথিবী বড়ই কৃতজ্ঞ। কৃতজ্ঞতার সামান্য উপযুক্ততা যারই মাঝে থাক না কেন, এমন কি অতি নিম্মশ্রেণীর (?) মানুষের প্রতিও এই পৃথিবী কৃতজ্ঞতা জানাতে মোটেই কার্পণ্য করেনা। শুনেছি কিন্তু দেখি নাই মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেছে এমন এক জেলে যার নাম রাম দয়াল (নামটি সঠিক নাও হতে পারে)।
রাম দয়ালের ছেলে আজ হতে প্রায় শতবর্ষ আগেই পাঠশালায় লেখাপড়া করতে যেত। জেলে রাম দয়াল ছেলেকে পাঠশালায় না গিয়ে তারই সঙ্গে মাছ ধরার কৌশল শিখতে নিয়ে গেল। ছেলের লেখাপড়া করার প্রতি প্রচন্ড আগ্রহ থাকা সত্বেও বাবার আচরণে প্রতিবাদ না করে বাবার সঙ্গেই মাছ ধরায় রত ছিল। এভাবে বেশ কিছু বছর কেটে যাবার পর জেলে রাম দয়াল একদিন মারা গেল। ছেলে মাছ বিক্রির টাকা জমিয়ে জমিয়ে বেশ কিছু জায়গা-জমি খরিদ করল। তারপর ৯ ইঞ্চি ইটের গাথুঁনি দিয়ে বিরাট এক কলেজ প্রতিষ্ঠা করল। সেই কলেজ আজো আছে। আজো সেই কলেজের প্রতিষ্ঠাতার নামটি পৃথিবী কৃতজ্ঞতার সহিত বার বার উচ্চারণ করে জানিয়ে দেয়। সেই কলেজটির নাম গুরু দয়াল গর্ভমেন্ট কলেজ। কিশোরগঞ্জ জেলাতে এই কলেজের অবস্থান। সামান্য একজন জেলের এই বিশাল অবদানটি আজোঁ পৃথিবী কৃতজ্ঞতার সহিত স্মরণ করে। এই পৃথিবীতে কেউ যদি কিছু দান করলে সেই দানের উপযুক্ততা অনুসারে পৃথিবী কম-বেশী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে যায়। আর যারা ধনৈশ^র্য্যরে বিরাট মালিক হবার পর পৃথিবীকে কিছুই দিয়ে যায় না। তাদের নাম কোত্থাও মনে করে না।
কৃতজ্ঞতার অপূর্ব প্রতিফলন দেখি পৃথিবীর অবয়বে। নিষ্ঠুরতার প্রতিফলনটি দেখতে পায় ওই একই অবয়বে। পৃথিবী যেন বলছে খেয়েই গেলে! আনন্দ করেই গেলে! সুখ-ভোগের পুকুরে ডুবে রইলে! একটা কানাকড়িও পৃথিবীকে দান করে গেলেনা এটাই কি মানবের জীবন ? এই চিরন্তন সত্য কেউ বুঝে আর কেউ বুঝেনা। বোঝাটাও তকদির এবং না বোঝাটাও তকদির।
পরিশ্রম আঘাত আর ত্যাগেই যার জীবন।
সোলতান আহমদ মুক্তিযোদ্ধা
০১৮৬৬-৪৬৪১০৬
(মুজিব বাহিনী, ১নং সেক্টর, চট্টগ্রাম)
হ্নীলা, টেকনাফ, কক্সবাজার।
