বিশেষ প্রতিবেদক : কুতুপালং ক্যাম্পে হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামী এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী মুন্না গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড দেলোয়ারকে আটক করার জেরধরে পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ফাঁকা গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এপিবিএন পুলিশের ৪জন সদস্য আহত হয়েছে।
সুত্র জানায়, গত ৮ আগষ্ট রাত ১০টারদিকে কুতুপালং রোহিঙ্গা রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে দায়িত্বরত ১৪এপিবিএন সদস্যরা কুতুপালং ডিমান্ড এর মোড় এলাকা থেকে হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামী এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী মুন্না গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড সন্ত্রাসী দেলোয়ার ওরফে দেলুকে আটক করে। এসময় তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তার সাথে থাকা অন্যান্য সন্ত্রাসীরা এপিবিএন পুলিশকে লক্ষ করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে এপিবিএনের ৪জন সদস্য আহত হয়। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এপিবিএন পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে।
এই ব্যাপারে কক্সবাজার ১৪এপিবিএনের অধিনায়ক এসপি মো: নাঈম উল হক জানান, এই ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। উখিয়া থানায় সংবাদ দিয়ে সাঁড়াশি অভিযান চালানো চলছে।
এদিকে স্থানীয় রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০২০সালের অক্টোবরের মাঝামাঝিতে মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জেরধরে আরসা গ্রæপ এবং মুন্না গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়। এরপর মুন্না কৌশলে ক্যাম্প ত্যাগ করে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ‘‘ আরএসও’’ তে যোগদান করে। লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে টেকনাফ,উখিয়া, নাইক্ষ্যংছড়ি ও লামার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মাদক চোরাচালানের পাশাপাশি রাতের অন্ধকারে কুতুপালং এসে তার গঠিত বিশেষ বাহিনীর সাথে বৈঠকের পর দিক-নির্দেশনা দিয়ে চলে যায়। তার রাজত্ব অক্ষত রাখার জন্য এই মুন্না টাকার বিনিময়ে একাধিক আইন-শৃংখলা বাহিনীর সোর্স সৃষ্টি করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের পাশাপাশি নিজেদের অপকর্ম অব্যাহত রেখেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একাধিক গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে আসছে। আইন-শৃংখলা বাহিনী তাদের দমন বা আটক করতে গিয়েই প্রায় সময় হামলার শিকার হচ্ছে। যা খুবই দু:খজনক। তাই রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক প্রত্যেক অপরাধীদের কঠোর হাতে আইনের আওতায় আনার দাবী উঠেছে। ###
