নিজস্ব প্রতিনিধি : টেকনাফ টুডে ডটকম এ সংবাদ প্রকাশের পর ফের অভিযান চালানো হয়েছে কায়ুকখালী খাল দখলকৃত স্থানে। এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) প্রনয় চাকমা সাংবাদিকদের জানান, সরকারের চেয়ে প্রভাবশালী কেউ নয়। যত বড় প্রভাবশালী হোক না কেন নদী-রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। আর সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যাব আমরা। তিনি বলেন, প্রশাসন কখনো নদী খাল দখলকারীদের কাছে অসহায় হতে পারে না। অবৈধ দখল না ছাড়া পর্যন্ত অভিযান চলতে থাকব এবং পর্যায়ক্রমে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার দুপুরে তিনি পৌরসভার লামার বাজার মসজিদ সংলগ্ন কায়ুকখালী খালের সেই দখলকৃত স্থানে অভিযান চালান। এসময় দখলকৃত স্থানের ঘেরা বেড়া গুড়িয়ে দেন তিনি। টেকনাফ ভুমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা অভিযানে অংশগ্রহন করেন।
তিনি পুনরায় ভরাটকৃত মাঠি সরিয়ে ফেলতে কঠোরভাবে নির্দেশনা প্রদান করেন। অন্যথায় আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান।
খবর পেয়ে সাংবাদিকগন ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। স্থানীয়রা ক্ষোভের সাথে সাংবাদিকদের জানান, ক্য থিন জ্য চৌধুরী প্রকাশ জ্য জ্য চৌধুরীর কাছ থেকে জোত জমি ক্রয়ের বায়না করে রাতারাতি পাশ্ববর্তী খাল ভরাট করার নেপথ্যে রয়েছে ১৩ সদস্যের একটি শক্তিশালী ভুমিদস্যু সিন্ডিকেট। হাবিবশাহ নামে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে দিয়ে পেছন থেকে তারা কলকাটি নাড়ছেন। অপরদিকে এড. কাইয়ুম রেজা নামে এক ব্যক্তি জমি মালিকের কাজ তদারকি করছেন। শুধু অভিযান নয় বরং ভুমিদস্যুদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা দায়ের করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য কায়ুকখালী খাল দখলের সংবাদ পেয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারী উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রনয় চাকমা অভিযান চালিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। দখলকৃত কায়ুকখালী খালের উপর থেকে মাঠি সরিয়ে ফেলতে ও খালের উপর টিন দিয়ে দেওয়া সীমানা সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ প্রদান করেন।
কিন্তু এর দুই সপ্তাহ অতিক্রম হলেও সেই নির্দেশনা অমান্য করে দখলকৃত স্থানে ঘেরা বেড়া দিয়ে দখল ও ভরাট পাকাপোক্ত করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন প্রভাবশালী মহলটি। এনিয়ে রোববার টেকনাফ টুডে ডটকম এ সংবাদ প্রকাশিত হলে সোমবার দুপুরে ফের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি’র নেতৃত্বে ভুমি প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, নাফ নদীর সাথে সরাসরি সংযুক্ত কায়ুকখালী খালটি টেকনাফের প্রধান বানিজ্যিক খাল ও অন্যতম নৌ পথ। এই খাল দিয়েই সেন্টমার্টিন যাতায়াত ও এই খালকে কেন্দ্র করেই টেকনাফের মৎস্য আড়ৎ গুলো গড়ে উঠেছে। সাগরে মৎস্য আহরনকারী শত শত ট্রলার এই খালেই অবস্থান করে থাকে। এই খাল দিয়েই আসে মিয়ানমার হতে আমদানীকৃত বাঁশ। শত বছর আগে এই খালটিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল এই জনপদটি। অথচ গত কয়েক বছর ধরেই এই গুরুত্বপুর্ন খালটির দুইপাশ এতোটাই দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালী মহল অনেক জায়গায় খালটি নালায় পরিণত হয়েছে। তাছাড়া দখলে সংকোচিত হয়ে বর্ষায় পানি নেমে যেতে পারে না ফলে প্লাবিত হয়ে পড়ে উজানের শত শত বাড়িঘর ফসলের মাঠ। তাই অবিলম্বে কর্ণফুলী-বুড়িগঙ্গা নদীর মতো কায়ুকখালী খালের দুইপাশে গড়ে উঠা সবগুলো দখল উচ্ছেদে পরিবেশ সংগঠন ও নদী রক্ষা কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবী করেছে পরিবেশবাদী সচেতন মহল।

সম্প্রতি হাইকোর্ট নদী-খাল-বিল ও জলাশয় রক্ষায় এক ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছেন। এতে দেশের সকল নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়কে রক্ষার জন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে ‘আইনগত অভিভাবক’ ঘোষণা করে নদী দখলকারীদের নির্বাচন করার ও ঋণ পাওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করেন। নদী রক্ষা কমিশন যাতে নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয় রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, সেজন্য আইন সংশোধন করে ‘কঠিন শাস্তির’ ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে সরকারকে। পাশাপাশি জলাশয় দখলকারী ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের তালিকা প্রকাশ, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশের সব নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ের ডিজিটাল ডেটাবেইজ তৈরি এবং সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানায় নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিতে বলা হয়েছে হাই কোর্টের রায়ে।


এদিকে কায়ুকখালী খাল সহ সরকারী খাস জমি দখলের বিরুদ্ধে সহকারী কমিশনার (ভুমি) প্রনয় চাকমা গত কিছুদিন ধরে অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। এতে টেকনাফের সাধারন মানুষ তার এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার জোড়ালো সমর্থন জ্ঞাপন করেছেন।
