করোনাভাইরাস : নাইক্ষ্যংছড়িতে যেভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্যে মাইকিং প্রচারণা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

শামীম ইকবাল চৌধুরী : নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের এক তংচংগ্যা পল্লীতে করোনাভাইরাস সনাক্ত হওয়া মহিলাকে এলাকায় আনা হয়েছে বলে মাইকিং করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩১ মার্চ মঙ্গলবার রাতের দিকে। এ মাইকিং প্রচারে পুরো উপজেলার মানুষকে উৎকন্ঠায় ফেলেছে।

আর এদিকে মাইকিং প্রচারের সূত্র ধরে সচেতনামূলক প্রচার মনে করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক) এ স্ট্যাটাস লিখেন ঘুমধুম ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ন সম্পাদক সম্পাদক এম,ডি জসিম উদ্দীনের নিজস্ব ফেসবুকে তা হুবুহু তুলে ধরা হয়েছে -” সম্মানিত ঘুমধুম ইউনিয়নস্থ ৯নং ওয়ার্ডবাসী আসলাম ওয়ালাই কুম। এর্লানে অর্থাৎ (মাইকিং প্রচার) শুনতে ফেলাম বরইতলী ৯নং ওয়ার্ডে একজন “করোনা রোগি সনাক্তকরণ” হয়েছে। মহান আল্লাহর নিকট এলাকাবাসী সকলের জন্য দোয়া কামনা করি যেন মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফিজত করেন। আমিন। ঘর থাকেন। নিরাপদে থাকেন।নিজ পরিবার পরিজনকে সুস্থ রাখেন।মাক্স ব্যবহার করেন।বীনাপ্রোয়জনে বাহিরে যাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। যে কোন জরুরী প্রয়োজনে পাবর্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব বীর বাহাদুর এমপি মহোদয়ের নির্দেশে আমরা সব সময় প্রস্তুত আছি।আপনাদের সেবায় প্রশাসনও প্রস্তুত রয়েছে।টেনশন করবেন না।মহান আল্লাহ নিকট দৃঢ বিশ্বাস নিয়ে বাড়ীতে থাকুন”।

এই উক্ত স্ট্যাটাসটি জবাবে বিপন তংচংগ্যা বিভ্রান্তিকর তথ্য বলে দাবী করে তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তংচংগ্যা নারীর হঠাৎ শারীরে জ্বরের অসুস্থতা দেখায় কক্সবাজারে নেওয়া হয় ও রোগীকে। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে অল্প ঔষধ হাতে ধরিয়ে দিয়ে ঘরে বিশ্রাম নিতে পরার্মশ দেন চিকিৎসকেরা।
ওই অসুস্থ রোগির করোনাভাইরাস সনাক্তের কথা মুটেও বলেনি চিকিৎসকেরা ।
এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়ে মাইকিং করাতে উৎকন্ঠায় পড়েছে এলাকার মানুষেরা।

যদি এই রখম কোন সন্দেহ লাগলে পূনঃরায় উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগে জন প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে সন্দেহ দূর করা দাবী জানাচ্ছে।
এরখম গুজবের মতো বিভ্রান্তকর তথ্য সুস্থ মানুষকেও অসুস্থ করে দিতে পারে।

বড়ইতলী গ্রামের তংচংগ্যা পল্লীর অনুময় তংচংগ্যা এ প্রতিবেদকে বলেন, গত এক সাপ্তাহ আগে হ্লা মে চিং তংচংগ্যা নামে এক মহিলা তার ছোট ছেলের (শিশু) অসুস্থতা বোধ করায় কক্সবাজার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে আসেন গত মঙ্গলবার দুপুরে । ওইদিন রাতে হঠাৎ শিশুটির মা হ্লা মে চিং তংচংগ্যার গায়ে জ্বর অনুভব করাতে পার্শ্ববতী উখিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা করতে নেওয়া হয় হ্লা মে চিং তংচংগ্যাকে। সেখানে চিকিৎসকেরা থার্মোমিটার দিয়ে জ্বরের তাপমাত্রা নির্ণয় করা হয়। তাপমাত্রা নির্ণয়ে জ্বর বেশী পাওয়াতে ওই মহিলাকে প্রেসক্রিপশনে ঔষধ লিখে দিয়ে ঘরে বিশ্রাম নিতে পরামর্মশ দেন চিকিৎসকেরা। ঘরে এসে চিকিৎসকের পরার্মশ অনুযায়ি ঔষধ সেবন করে।
পরদিন সকালে মা ও শিশুটি গায়ে গুটির মতো দেখা দিয়েছে। এতে পাড়াবসীরা নাইক্ষ্যংছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি হওয়ার জন্য পরার্মশ দেন।
তবে এই মহিলা রোগির করোনাভাইরাস সনাক্ত হয়েছে বলে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর মাইকিং করেছে এলাকার দফাদার ছৈয়দ আলম। তিনি যাছাই না করে এরখম মাইকিং করাতে এলাকার মানুষের আতঙ্কে বিরাজ করছে।ভূল তথ্যকারীদেরকে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন পাড়াবাসীরা ।

বুধবার দুপুর বেলায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী নয় বলে নিশ্চিত হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু জাফর মো, ছলিম জানান, হ্লা মে চিং তংচংগ্যার গায়ে যে গুটি দেখা দিয়েছে তা হলো হাম রোগ । এই হাম রোগে ভয় পাওয়ার কিছু নেই । শরীরে হাম দেখা দেওয়ার আগে জ্বরে তাপমাত্রা বেশী হয়ে থাকে। সাপ্তাহ ধরে জ্বরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা থাকা স্বাভাবিক। তবে নিশ্চিত যে, মহিলা এবং শিশু সন্তানটি কোন ধরনের কোভিড-১৯ সংক্রমণ সনাক্ত হওয়া রোগী নয়। রোগিকে হাসপাতালে ভর্তিতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুল ভাবে মনগড়া ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার কারনে উৎকন্ঠায় ভূগছে সাধারণ মানুষ।
এসব ভূল তথ্যের মেসেজে আমরাও স্বয়ং চিকিৎসকেরা বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়।
আইন প্রয়োগকারি সংস্থাদেকে এসব সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদানকারীকে শাস্তির ব্যবস্থার উদ্যোগ নিতে হবে।