বিশেষ প্রতিনিধি-
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে প্রথমবারের মতো কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সপ্তাহব্যাপী পর্যটন মেলা। এ উপলক্ষ্যে হোটেল মোটেল ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানে বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। মেলা সফল করতে চলছে জোর প্রস্তুতি। কক্সবাজারকে ব্রান্ডিং করতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও উচ্ছসিত মেলা নিয়ে।
আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যটন দিবসে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে এই মেলার উদ্বোধন করা হবে। চলবে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত। সৈকতের লাবনী পয়েন্টে মেলা উপলক্ষে চলছে স্টেজ ও স্টল নির্মাণের কাজ। সেই সাথে চলছে অন্যান্য আনুষাঙ্গিক প্রস্তুতি।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মেলা বাস্তবায়ন করছে বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি। সহযোগীতা করছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, টুরিস্ট পুলিশ ও টুয়াকসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু স্টেক হোল্ডার প্রতিষ্ঠান।
জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান জানান, বিশ্বের দ্বীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার পর্যটনের জন্য খুবই উর্বর ভূমি। প্রতিবছর ২৭ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক পর্যটন দিবসটি ঝাঁকজমক ভাবে পালিত হলেও গেলো দুই বছর করোনা মহামারির কারণে কক্সবাজারে পর্যটন দিবস পালিত হয়নি। এবারে এই দিবসটিকে কেন্দ্র করে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত এই মেলা চলবে।
প্রতিবছর বাংলাদেশে যে সব বিদেশী পর্যটক আসেন, তাদের অধিকাংশের প্রথম টার্গেট কিন্তু কক্সবাজার ভ্রমণ। তার ধারাবাহিকতায় এই মেলার উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্ব সংস্কৃরির সাথে এদেশী সংস্কৃতির মেলবন্ধন সৃষ্টি করা। সেই সাথে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প তথা কক্সবাজারের পর্যটনকে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করা। যেহেতু কক্সবাজার দেশের পর্যটন খাতকে নেতৃত্ব দেয় তাই কক্সবাজারেই এই আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে মেলার অনুষ্ঠান পর্বগুলো বিদেশীদের জন্য তাদের সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সাজানো হয়েছে। পরবর্তীতে কক্সবাজারে বীচ কার্নিভাল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, পর্যটন মৌসুম শুরুর এই সময়টা মেলার জন্য একটি উপযুক্ত সময়। এবারে পূজোর বন্ধে এই মেলা সবাইকে কক্সবাজারের দিকে আকৃষ্ট করবে। দেশের সকল শ্রেণীর পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে আবাসিক হোটেল মোটেল ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান গুলো বিশেষ ছাড় ঘোষনা করেছে।
মেলার প্রথমদিন সকাল ১০টায় ট্যুর অপারেটর ওনার্স এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার- টুয়াক এর সহযোগিতায় রোড শো শেষে ১১টায় মেলা উদ্বোধন করা হবে।
সাতদিন ব্যাপী মেলায় থাকছে ঘুড়ি উৎসব, ফানুস উড়ানো, পিঠা উৎসব, ফানি গেইম, বীচ বাইক র্যালী, ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্টিদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ডিজে শোসহ নানা আয়োজন।
আরো থাকছে অংকন প্রতিযোগীতা, স্থানীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্টান, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের নিয়ে সেমিনার, পর্যটন সম্ভাবনা উপস্থাপন, সী সেইফ লাইফ গার্ড কর্মীদের উদ্ধার কার্যক্রম প্রদর্শন, স্থানীয় খাবার মেলা।
মেলায় আরো থাকছে বিদেশীদের অংশগ্রহনের সাংস্কৃতিক অনুষ্টান, আতশবাজি, ম্যাজিক শো, সাংস্কৃতিক অনুষ্টান, ফায়ার ওয়ার্ক শো। ৩ অক্টোবর পুরস্কার বিতরণ, কনসার্ট ও ডিজে শো’র মধ্য দিয়ে মেলার পর্দা নামবে।
পর্যটন মেলা ও পুঁজোসহ টানা ছুটিতে কক্সবাজারে দেশী বিদেশী লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ হোটেলের ৮০ ভাগ অগ্রিম বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। হোটেল-মোটেলে ছাড়ের পাশাপাশি মেলা উপলক্ষ্যে পর্যটকদের বিনোদনের অন্যান্য মাধ্যম যেমন-প্যারাসেলিং,বীচ বাইক, ওয়াটার বাইক, কিটকট ছাতা, বীচ ফটোগ্রাফাররাও নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে।
