কক্সবাজার প্রতিনিধি |
কক্সবাজার শহরে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসী ঘটনায় আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী আশরাফ আলী ওরফে আশু আলী (২৭) র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে।
শনিবার (১৭ জুলাই) ভোরে কক্সবাজার শহরের ৬নং ওয়ার্ডের সাহিত্যিকা পল্লী বড়বিল মাঠ এলাকায় এ ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে। নিহত আশু আলী কক্সবাজার শহরের বিজিবি ক্যাম্প ফরেস্ট অফিস পাড়ার জাফর আলমের ছেলে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি স্যুটারগান, একটি দেশীয় তৈরি এলজি, ২টি গুলি ও ৪টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাবের কক্সবাজারের উপ অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার তানভির হাসান সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কক্সবাজার শহরের সাহিত্যিকা পল্লী বড়বিল মাঠ এলাকায় শহরের শীর্ষ সন্ত্রাসী আশরাফ আলী ওরফে আশু আলীর অবস্থানের খবর পেয়ে র্যাবের একটি দল অভিযানে যান। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে আশু আলী বাহিনীর সদস্যরা গুলি করে। র্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি করে। গোলাগুলির এক পর্যায়ে আশু আলী বাহিনীর সদস্যরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি করে একটি স্যুটারগান, একটি দেশীয় তৈরি এলজি, ২টি গুলি ও ৪টি গুলির খোসা ও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সন্ত্রাসী আশু আলীকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, পরে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। তার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। নিহত আশু আলী সম্প্রতি শহরের রুমালিয়ারছড়ায় সংগঠিত হওয়া ডাবল মার্ডার মামলার প্রধান আসামি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে হত্যা, ছিনতাই, অস্ত্র ও ডাকাতি প্রস্তুতিসহ প্রায় ১২টি মামলা রয়েছে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন পূর্বে আমির খান ও আশু আলীদের সমন্বয়ে শক্তিশারী একটি চক্র সাহিত্যিকা পল্লী ও সমিতি বাজারের মর্ধবর্তী এলাকায় অভয়ারণ্য গড়ে তুলে। এই চক্রটি অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়,চুরি-ছিনতাই, ভাড়াটে খুনসহ নানা অপতৎপরতা চালিয়ে শহরের আইন-শৃংখলার চরম অবনতি ঘটিয়ে আতংকের নগরীতে পরিণত করে। এই বাহিনীর প্রধান আমির খান ২০১৯ সালে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যায়। তবুও তাদের তাদের অপকর্ম বন্ধ হয়নি। অবশেষে সেকেন্ড ইন কমান্ড আশরাফ আলী ওরফে আশু আলীও বন্দুকযুদ্ধে মারা গেলেন। আপাতত স্থানীয় সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বস্তি দেখা দিলেও আগামীতে এই গ্রুপটি মাথাচড়া দিয়ে উঠছে কিনা তা নিয়ে ও জল্পনা-কল্পনা চলছে।
