সংবাদ বিজ্ঞপ্তি : কক্সবাজার জেলার ভৌগলিক অবস্থান, জলবায়ু এবং ভ‚-প্রকৃতি এমনযে এখানকার স্থানীয় জনগনকে একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধ্বস, আকস্মিক বন্যা, জলোচ্ছাস, মুষলধারে বৃষ্টিসহ চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে হয়। এছাড়াও, ২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আগমন দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা জনসংখ্যার আকার বৃদ্ধি করেছে এবং সেইসাথে পরিবেশের উপর চাপ বাড়িয়ে জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা কমিয়েছে।
এই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চরম আবহাওয়া বা দুর্যোগ বিষয়ে দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কার্যকরভাবে সাড়া প্রদানে সরকার, উন্নয়ন এবং মানবিক সংস্থাদের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পর্কিত পরিকল্পনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করার জন্য উন্নততর পূর্বাভাস তথ্য এবং মৌসুমী পূর্বাভাস প্রদান খুবই গুরুত্বপূর্ন।
যদিও বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের একাধিক পূর্বাভাস পদ্ধতি রয়েছে কিন্তু সতর্কতার এই তথ্যগুলি উচ্চ রেজোলিউশনে সহজে পাওয়া যায় না এবং সর্বদা অনলাইন প্লাটফর্মে আপডেট হয় না।
এর আলোকে, ইউএনডিপি কক্সবাজারে দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য উন্নততর পূর্বাভাস প্রদানের জন্য বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) এবং আঞ্চলিক ইন্টিগ্রেটেড মাল্টি-হ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের (রাইমস) সাথে অংশীদারীতে¦ যোগ দেয়।
ইকো এবং এসডিসির অর্থায়নে “কক্সবাজারে দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” কর্মসূচির সহায়তায়, ইউএনডিপি বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরকে উখিয়া এবং টেকনাফ উপজেলার স্থানীয়ভাবে স্বল্প-পরিসরের আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং কক্সবাজার জেলার জন্য মৌসুমী পূর্বাভাস প্রদানে সহায়তা করবে।
ইউএনডিপি, এরই ফলশ্রæতিতে ২০১৯ সালের ৩০শে ডিসেম্বর কক্সবাজারে দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য পূর্বাভাস প্রয়োগ সম্পর্কিত একটি ইনসেপশন ওয়ার্কশপ আয়োজন করেছে।
ইউএনডিপি’র প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর জনাব মীর আসগর আলী বলেছেন, “উপজেলা পর্যায়ে উখিয়া ও টেকনাফের জন্য সরকারীভাবে স্বল্প-পরিসরের পূর্বাভাস পাওয়া না। এই অংশীদারিত্ব স্থানীয়দের পূর্বাভাস সম্পর্কিত তথ্য প্রদান করে বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীর দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে”।
আঞ্চলিক ইন্টিগ্রেটেড মাল্টি-হ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (রাইমস) কান্ট্রি প্রোগ্রাম লিড রায়হানুল হক খান বলেছেন, “এই উদ্বোধনী কর্মশালাটি সকল অংশীদার এবং অংশগ্রহণকারীদের আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রকল্পের কার্যক্রমগুলি নিয়ে একটি সাধারণ বোঝাপড়া প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেবে”। কল্পের উন্নতির জন্য সুপারিশও সংগ্রহ করবে”।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামসুদ্দিন আহমেদ বলেছেন যে, “আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রধান অগ্রাধিকার হলো স্থানীয়ভাবে স্বল্প-পরিসরের পূর্বাভাস সিস্টেমগুলিকে শক্তিশালী করা এবং পাশাপাশি পূর্ববর্তী সতর্কতা এবং জনগোষ্ঠী পর্যায়ে পূর্বাভাসের তথ্যের যথাযথ প্রচার নিশ্চিত করা উচিত যাতে জনগণ সময়মতো জীবন বাঁচাতে এবং সম্পদের ক্ষতি হ্রাস করতে করতে পারে ”।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুল হক আলোকপাত করেছেন যে, “বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কতা সংকেত ও পূর্বাভাস পদ্ধতিকে উন্নততর ও আরও উদ্ভাবনী করার জন্য আন্তর্জাতিক স¤প্রদায় ও প্রযুক্তিগত সংস্থা যেমন রাইমস এবং ইউএনডিপির সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ”।
