টেকনাফ টুডে ডেস্ক : চলতি বছর অথবা ২০২৪ সালে বিশ্বে গড় তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রত্যাশিতভাবে এল নিনো ফিরে আসায় এ পরিবর্তন হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা। বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু মডেলগুলো ধারণা দিচ্ছে, প্রশান্ত মহাসাগরে তিন বছর ধরে লা নিনা আবহাওয়া ধরন বিরাজ করার পর চলতি বছর পরের দিকে বিশ্বের এল নিনোতে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। লা নিনা চলাকালে সাধারণত বৈশ্বিক তাপমাত্রা কিছুট হ্রাস পায়। বিপরীতে এল নিনোর সময় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
এল নিনো চলাকালে নিরক্ষরেখা বরাবর পশ্চিমমুখী বায়ুপ্রবাহ ধীর হয়ে যায়। পানির উষ্ণ স্রোতগুলোর পূর্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। এতে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে যায়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের পরিচালক কার্লো বুনতেম্পো বলেন, এল নিনো সাধারণত বৈশ্বিক পর্যায়ে রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত, তবে ২০২৩ না ২০২৪-এ এটি ঘটবে তা এখনো জানা যায়নি। আমি মনে করি এটি না ঘটার চেয়ে ঘটার সম্ভাবনাই বেশি।
তিনি আরও জানান, উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মকালের শেষ দিকে এল নিনো পরিস্থিতি ফিরে আসতে পারে এবং বছরের শেষ দিকে এল নিনো শক্তিশালী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা আছে বলে জলবায়ু মডেলগুলো থেকে ধারণা পাওয়া গেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, রেকর্ড অনুযায়ী এ পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর ছিল ২০১৬, ওই সময়ও শক্তিশালী এল নিনো সক্রিয় ছিল। তবে আবহাওয়ার এই প্রপঞ্চ ছাড়াই অন্য বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তন চড়া তাপমাত্রায় ইন্ধন যুগিয়েছে।
রেকর্ড অনুযায়ী, শেষ আট বছর ছিল বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণতম আটটি বছর। এটি গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমণের ফলে সৃষ্ট দীর্ঘমেয়াদী উষ্ণায়ণ প্রবণতার প্রতিফলন।
বৃহস্পতিবার ইইউ কোপার্নিকাস বিজ্ঞানীদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেকর্ড অনুযায়ী ২০২২ ছিল বিশ্বের পঞ্চম উষ্ণতম বছর। শুধু তা-ই নয়, ২০২২ সালে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্মকালের অভিজ্ঞতা পেয়েছে ইউরোপ। একই সময় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিবৃষ্টিতে পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যা হয়, রেকর্ড পরিমাণ হ্রাস পায় অ্যান্টার্কটিক সাগরের বরফের স্তর।
