এক কেন্দ্রেই নানামুখী সেবা রোহিঙ্গা নারীদের জন্য ‘শান্তিখানা’ চালু

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

বার্তা পরিবেশক : কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আশ্রিতদের ৫২ শতাংশই নারী ও কন্যাশিশু। তাদের মানসিক স্বাস্থ্য, ডাক্তারের সেবা পাওয়া, মৌলিক প্রয়োজন, আইনগত সহায়তা, নিরাপত্তা এবং আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রমে অপর্যাপ্ত সুবিধার দরুণ তারা অনেকটাই বঞ্চিত।

এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে তাদের অধিকতর সেবা-সুবিধা দিতে গড়ে তোলা হয়েছে ‘শান্তিখানা’। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ই ফেব্রæয়ারি) দুপুরে কুতুপালংয়ের চার নম্বর ক্যাম্পের বর্ধিতাংশে এই ‘শান্তিখানা’ চালু হয়েছে। সুরক্ষা কর্মকর্তা (প্রটেকশন অফিসার) এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পরামর্শ ও মতামত নিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) সহরযাগিতায় বহুমুখি ব্যবহারোপযোগী এই কেন্দ্র নির্মাণ করেছে ব্র্যাকের টেকনিক্যাল টিম।

এই কেন্দ্রের আলাদা আলাদা কক্ষে দক্ষতা উন্নয়ন, বিনোদনমূলক কার্যক্রম, জেন্ডারভিত্তিক ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সচেতনতার প্রশিক্ষণ ও মনোসামাজিক সেবা দেওয়া হবে। এখানে নির্ধারিত স্থানে আলাদাভাবে শিশু, কিশোরী এবং মায়েদের সেবা দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে এই কেন্দ্রে রয়েছে গভীর নলকূপ, গোসলখানা, বিশ্রাম কর্নার, মাতৃদুগ্ধ পান করানোর কর্নার এবং লাগোয়া বাগান। এই বিষয়ে ব্র্যাকের স্থপতি সাদ বিন মোস্তফা বলেন, স্থাপনা হিসেবে এটি ছোট হলেও এখানে বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

এই সমন্বিত কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (আরআরআরসি) প্রধান মো. আবুল কালাম। স্বাগত বক্তব্যে ব্র্যাকের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির প্রধান মো. আবদুস সালাম ইউএনএইচসিআর, আরআরআরসি-র সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। ইউএনএইচসিআর-এর প্রোটেকশন কোঅর্ডিনেটর আন্না পেলোসি, একই সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রেহেমা মিরোসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ইউএনএইচসিআর-এর প্রোটেকশন কোঅর্ডিনেটর আন্না পেলোসি বলেন, ‘এটি নারী ও মেয়েশিশুদের জন্য কেবল নিরাপদ স্থানই নয়, পরস্পরের মতবিনিময়, নতুন নতুন দক্ষতা অর্জন এবং তাদের সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত খেলুন্নিসা নামের এক রোহিঙ্গা নারী বলেন, ‘আগে আমরা একটা পাখির বাসার মতো ঝুপরি ঘরে থাকতাম। কোনো নিরাপত্তাই ছিল না। এখানে এসে আমরা আমরা স্বস্তি ও সমর্থন পাই। তাই আমরা এর নাম দিয়েছি ‘শান্তিখানা’।

বর্তমানে এই ক্যাম্পে ৯টি নারীবান্ধব পরিসর, ৮টি কমিউনিটি সেন্টার এবং ৯টি দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র পরিচালনা করছে ব্র্যাক। আগামীতে আরও ৪টি নারীবান্ধব কেন্দ্র এবং পুরুষ ও ছেলেদের জন্য ৮টি কেন্দ্র স্থাপনসহ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য এই কর্মসূচি বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।