বিশেষ প্রতিনিধি :
টেকনাফে আওয়ামী লীগের উপজেলা চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী বাছাই কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। সভায় নেতৃত্ব নির্বাচনে তৃণমুলের সদস্যরা ভোটের দাবী জানালে একপর্যায়ে সভাকক্ষ ত্যাগ করে চলে যান সভাপতি ১ ফ্রেব্রুয়ারী ছিল টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের বিশেষ বর্ধিত সভার মুলতবি সভা। হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে বিকাল সাড়ে ৩টায় উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে সাধারন সম্পাদক নুরুল বশরের সঞ্চালনায় সভা শুরু হয়। এতে সাবেক সাংসদ আব্দুর রহমান বদি, জেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি শফিক মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আনোয়ার মিয়া, উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এইচএম ইউনুছ বাঙ্গালী সহ উপজেলা কার্যকরী কমিটি, পৌরসভা, বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। যথারীতি সভা শুরুর একপর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী ৯জনকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। ওই বৈঠকে ৫জন মনোনয়ন প্রত্যাশী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, মো: শফিক মিয়া, সোনা আলী, কামাল উদ্দিন, রফিক আলম তাদের নাম প্রত্যাহারের ঘোষনা দেন। যা তৃণমুলের সভায় ঘোষনা দেওয়া হয়। পরে অবশিষ্ট ৪ প্রার্থী জাফর আহমদ, এইচএম ইউনুচ বাঙ্গালী, নুরুল বশর ও নুরুল আলমকে তৃণমুলের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেওয়া হয়। বক্তব্যে তারা তৃণমুলের মতামতকে মেনে নেওয়ার ঘোষনা দেন ও সহযোগীতা কামনা করেন। তৃণমুলের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড নেতারা এসময় ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী চুড়ান্ত করতে একযোগে দাবী জানান। এতে একপর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ কয়েকটি ওয়ার্ডের কমিটির ব্যাপারে আপত্তি তুলে তৃণমুলের ভোটে না যাওয়ার পক্ষে মতামত দেন। এর পরপর সভার সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী ভোট না করার পক্ষে মত দেন। এসময় সাবেক এমপি সবার সমন্বয়ক আব্দুর রহমান বদি নিজেও ভোটের পরিবর্তে সমঝোতার পক্ষে মত দেন। এতে কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা শেষ হয়।

এব্যাপারে জানতে চাইলে অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জানান, ৯জন প্রার্থীর মধ্যে আলাপ আলোচনা করে ৫জন প্রার্থীতা প্রত্যাহারে সম্মত হলে বাকি ৪জন থেকে যায়। কিন্তু ৩জন প্রার্থীর নাম প্রেরনের বাধ্যবাধকতা থাকায় এবং দুইজন প্রার্থী সহোদর হওয়ায় কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভার সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়। পরবর্তীতে জেলা নেতৃবৃন্দের সাথে পরামর্শ করে ৩জন প্রার্থীর নাম চুড়ান্ত করে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে প্রেরন করা হবে বলে জানান তিনি। তৃণমুলের ভোটের দাবীর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী বাছাইয়ের কথা বলা নেই, তৃণমুলের মতামত নিয়ে প্রার্থী বাছাইয়ের কথা বলা হয়েছে।
এদিকে সাধারন সম্পাদক নুরুল বশর জানান, সভায় উপস্থিত তৃনমুলের ২১৬জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। যাদের মধ্যে অধিকাংশ সদস্য ভোটের মাধ্যমে ৪জন প্রার্থীর মধ্যে ৩জন চুড়ান্ত করার সম্মতি দিলেও একজন প্রার্থী তা না মেনে সভাস্থল ত্যাগ করেন। এব্যাপারে জেলা নেতৃবৃন্দের সাথে পরামর্শ করে ৩ জনের নাম চুড়ান্ত করে তৃণমুলের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের কাছে প্রেরন করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি দাবী করেন দুইজন সাবেক সাংসদ একজন ইয়াবা গডফাদারকে প্রার্থী করতে তৃণমুলের মতামত উপেক্ষা করে প্রার্থী বাছাই নিয়ে টালবাহানা করছেন।
এদিকে তৃণমুল নেতাকর্মীদের মনোভাব অনুধাবন না করে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে স্থবির হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি জাবেদ ইকবাল চৌধুৃরী।
