বিশেষ প্রতিবেদক : টেকনাফ উপকূলীয় বাহারছড়ায় অবৈধভাবে ব্যাটারি চালিত অসংখ্য মিনি টমটম ও অটোরিক্সা এখন রোহিঙ্গাদের দখলে। অতীতে এই ইউনিয়নের মাছ ধরার ট্রলার সমুহ রোহিঙ্গাদের দখলে থাকলেও বর্তমানে উল্লেখিত যান রোহিঙ্গাদের দখলে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় শামলাপুর বাজারে যত যানজট, দূর্ঘটনা সংগঠিত হয় তার জন্য বেশি ভাগ দায়ী রোহিঙ্গা চালিত মিনি টমটম ও অটোরিক্সা। কোনো বৈধ কাগজ পত্র ছাড়া তারা বেপরোয়াভাবে এই যানবাহন গুলো রাস্তায় চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আর তাদের সুবিধা দেওয়ার নাম করে স্থানীয় কিছু কতিপয় প্রভাবশালী ও ধান্দাবাজ চিহ্নিত ব্যক্তি মোটা অংকের টাকা চাঁদা তুলে নিজেদের পকেটে ঢুকাচ্ছে বলে সূত্র জানায়। স্থানীয়দের অভিযোগ দেশি ও বিদেশি এনজিওরা মিলে রোহিঙ্গাদের কল্যাণে বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছে। প্রত্যেক মাসে তাদের পরিবারের চাহিদা মত নিত্যপন্য সহ বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা পূরণ করতেছে। এমনিতে রোহিঙ্গাদের জন্য বাজারে যে কোনো জিনিস দ্বিগুন দামে স্থানীয়দের ক্রয় করতে হয়। তার মাঝে তারা উল্যেখিত যান গুলো দখলে নিয়ে নগদ টাকার মালিক হচ্ছে। ফলে তারা দুই দিক থেকে সুবিধা পাচ্ছে। তার কারণে স্থানীয়রা কেনাকাটায় তাদের সামনে এক ধরণের অসহায় বললে চলে।
অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের দ্বারা শত শত এই অবৈধ যানবাহন চলার কারণে মাঝে মধ্যে বাহারছড়ার বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার ধারণ করে। কারণ বাহারছড়ার স্থানীয়দের জন্য বরাদ্দকৃত বিদ্যুতের অর্ধেকেরও বেশি ব্যয় হয় এই অবৈধ যানবাহনে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। আর কমবেশি অবৈধভাবে এই যানবাহন গুলো আবাসিক বৈদ্যুতিক মিটারে চার্জে দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের লক্ষ লক্ষ টাকা বিল ফাঁকি দিচ্ছে। কারণ বাণিজ্যিক মিটারের বিলের চেয়ে আবাসিক মিটারের বিল অর্ধেক। বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে এই অবৈধ চার্জ দেওয়ার ব্যাপারে জরিমানা করা হলেও চুরি করে আবার মিটারের মালিক লোভে এই অপরাধ করে বলে দাবী বিদ্যুৎ বিভাগের। অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের এমন কার্যক্রমে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় মানুষ ও সমিতি মিলে প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দরখাস্ত করলেও এখনো তার কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই বাহারছড়ার সকল স্তরের মানুষের দাবী রোহিঙ্গাদের দ্বারা চালিত এই বেপরোয়া যানবাহন গুলো বন্ধ করে দেওয়া হোক। যাতে মানুষ নির্বিগ্নে রাস্তায় চলাফেরা করতে পারে এবং জানজট মুক্ত থাকতে পারে।
এ ব্যাপারে বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দীন বলেন রোহিঙ্গাদের দ্বারা যে অবৈধ যানবাহান গুলো চালিত হচ্ছে তার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। আর এ বিষয়ে টেকনাফ বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (ওসি) মোঃ লিয়াকত আলী বলেন উল্যেখিত বিষয়ে আমি অবগত আছি এবং খোঁজ নিয়ে দেখছি। আমি এই যানবাহনের সমিতির নেতৃবৃদ্ধদের ডেকেছি। কোনো রোহিঙ্গা অবৈধ ভাবে যানবাহন চালালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে সার্বিক বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলামকে অবগত করা হলে তিনি জানান ব্যাটারি চালিত মিনি টমটম ও অটোরিক্সা গুলো রাস্তায় চালানো কোনো আইনগত বৈধতা নেই। তার মধ্যে রোহিঙ্গারা চালানোরত কোনো সুযোগ নাই। এই বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিব।
