উগ্রপন্থী সংগঠনের প্রভাব এবং এনজিও’র রহস্যজনক আচরণেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ব্যাহত!

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

হুমায়ুন রশিদ / মোঃ রফিক : বাংলাদেশ সীমান্তে ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট হতে আশ্রয় নেওয়া ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবাসনের জন্য দুই বছরে ২য় দফায় প্রস্তুতি গ্রহণের পরও রোহিঙ্গাদের অনিচ্ছায় প্রত্যাবাসন ব্যাহত হয়। এই ঘটনার নেপথ্য কারণ হিসেবে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সমুহে স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী সংগঠনের প্রভাব এবং কতিপয় এনজিও সংস্থার রহস্যজনক আচরণকে দায়ী করা হচ্ছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গত ২২ আগষ্ট ২য় দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য দিনক্ষণ নির্ধারিত থাকলেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অনিচ্ছায় তা ভেস্তে গেলে কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কমিশনার মোঃ আবুল কালাম সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। এসময় চীনের ২জন এবং মিয়ানমারের ১জন প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থার উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। বিগত ২০১৮ ইং সালের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম পদক্ষেপও ব্যর্থ হয়।

এই প্রত্যাবাসন ব্যাহত হওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়েই রোহিঙ্গাদের নিয়ে সুদূর গভীর চক্রান্ত এবং বাণিজ্যিক মনোভাবের চাঞ্চল্যকর তথ্য। রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণকারী উগ্রপন্থী সংস্থার সহিংস মনোভাব এবং দেশী-বিদেশী এনজিও’র বাণিজ্যিক কারণ। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একাধিক সাধারণ মুরুব্বীর সাথে কথা বললে নিরাপত্তা, নাগরিক সুবিধা পেলে স্বদেশে ফিরে যাওয়ার মত প্রকাশ করেন। কিন্তু এসব রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণকারী আরসা, আল ইয়াকিন ও আরএসওসহ বিভিন্ন উগ্রপন্থী সংগঠনের স্বশস্ত্র সদস্যদের কথার বাইরে গেলে রাতে ধরে নিয়ে খুন, নির্যাতন এবং মুক্তিপণের ঘটনা অব্যাহত রাখায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা। এছাড়া মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার এবং ভাড়াটে খুনী হিসেবে ক্যাম্পের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের চরমভাবে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এসব উগ্রপন্থী সংগঠনের স্বশস্ত্র সদস্যরা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণ করছে। এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আস্তানা, বাণিজ্যিক লেন-দেনসহ পুরো নেটওয়ার্ক পাহাড়ী জনপদেই। তারা আলাদা রাষ্ট্র গঠন, ধর্মের দোহাই এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার লোভ এবং প্রাণনাশের আতংক দেখিয়ে জিম্মি করেছে।

এরা নিরস্ত্রভাবে অনুপ্রবেশ করলেও অর্থের বিনিময়ে তাদের সহযোগী, বিদেশী থাকা রোহিঙ্গা নেতা সাগরপথে বিভিন্ন অঞ্চল হতে ভারী অস্ত্রের চালান সরবরাহ করায় এখন রোহিঙ্গারা দিনের পর দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তাছাড়াও মোটাংকের বিনিময়ে অস্ত্রের কারিগর এনে গহীন পাহাড়ে দেশীয় অস্ত্র তৈরীর খবর দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন ক্যাম্পে এসব সংগঠনের নেতৃত্ব আর মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধ হলে গোলাগুলি, খুন, অপহরণ, মুক্তিপণ, ভাড়াটে খুনীসহ বিভিন্ন অপকর্মের খবর বিগত দুই বছরে উখিয়া-টেকনাফবাসীরা অবগত রয়েছেন।

অপরদিকে মানবতার সেবার আড়ালে অনেক কর্মরত এনজিও সংস্থার কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের এখানেই প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে প্ররোচিত করে প্রত্যাবাসনে নিরুৎসাহিত করার অভিযোগ রয়েছে। যা ইতিমধ্যে সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিশ^স্থ সংস্থা এসব তথ্য উদঘাটনে কাজ শুরু করেছে। তা ছাড়াও অনেক কৌশলী রহস্যজনক ভূমিকার কারণে কাংখিত প্রত্যাবাসন সাফল্যের মুখ দেখছেনা।

বাংলাদেশের সুশীল সমাজ এবং উখিয়া-টেকনাফসহ পুরো কক্সবাজারবাসী যত দ্রæত সম্ভব মিয়ানমার প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই দাবী জানিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ববাসীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ###