মুহাম্মদ হানিফ আজাদ, উখিয়া :
রোহিঙ্গা ইস্যুকে পুঁজি করে স্থানীয় অসাধূ ব্যবসায়ীরা শাক সবজ্বি, মাছ মাংস সহ সকল প্রকার নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা এ অভিযোগের অস্বীকার করে বলেন, শহরের আড়ৎদার ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে স্থানীয় হাটবাজার গুলোতে মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। ক্রেতাসাধারণ নিত্য প্রয়োজনীয় সহনীয় পর্যায়ে রাখার দাবীতে উপজেলা মনিটরিং কমিটির হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। উপরোন্তু প্রতিটি সবজ্বির বিপরীতে ১০/১৫ টাকা বেড়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ রোহিঙ্গাদের ধোয়াঁ তুলে অসাধু সবজ্বি ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামত সবজ্বির দাম বাড়িয়ে নিচ্ছে।
সরেজমিন উখিয়ার ব্যস্ততম হাট দারোগা বাজার ঘুরে সবজ্বি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত শীতকালীন শাক সবজ্বি চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। উপরোন্তু রোহিঙ্গাদের কারণে সবজ্বির টানা পোড়ন চলছে। বিপুল চাহিদার সুযোগে আড়ৎদার ব্যবসায়ীরাও সবজ্বি সংকট দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এমতাবস্থায় পরিবহন খরচ লোড আনলোড সহ বিভিন্ন ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে প্রতিটি সবজ্বির বিপরীতে কেজি প্রতি ৫/১০ টাকা বেড়েছে। বাজারের সবজ্বি ব্যবসায়ী শামশুল আলম জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সিংহভাগ সবজ্বি রোহিঙ্গারা নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় ভাবে সবজ্বি ঘাটতি পূরণ করতে গিয়ে তাদেরকে বার বার পরিবহন খরচ বহন করতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় সবজ্বির দাম কমার কোন সুযোগ নেই।
গতকাল শনিবার সবজ্বির বাজারে মূল্য যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, বাজারে শীতকালীন নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৫০ টাকা দরে। তাছাড়া টমেটো ৮০ টাকা, সিম ৬০ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, লাউ ছোট সাইজ প্রতিটি ৬০ টাকা, তিত করলা ৫০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, কাচাঁ মরিচ ৬০ টাকা, মিষ্টি লাউ ৪০ টাকা, শাক কেজি প্রতি ৬০ টাকা দরে, গরুর মাংস ৪০০ টাকা, হাসির মাংস ৬০০ টাকা ও মুরগি ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজ্বি বিক্রেতা নুর মোহাম্মদ জানান, শীতকালে স্বাভাবিকগত কারণে শাক সবজ্বির দাম কম থাকে। কিন্তু রোহিঙ্গা আগমনের কারণে সবজ্বির দাম কারণে অকারণে বেড়ে গেছে।
বাজারের নিয়মিত ক্রেতা শ্রমিক নেতা জালাল উদ্দিন, হাজী আব্দুল মান্নান, কাজী জসিম উদ্দিন সহ বেশ কয়েকজন ক্রেতা জানালেন, মাছ, মাংসের চাইতে সবজ্বির দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার কারণে নি¤œ ও মধ্য আয়ের পরিবারের জন্য নাবিশ্বাসের কারণ হয়েছে। এর জন্য দায়ী উপজেলা প্রশাসন। কারণ তারা নিয়মিত হাটবাজার মনিটরিং না করার কারণে সবজ্বি ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামত দাম আদায় করছে। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন জানান, ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় ইচ্ছা থাকার সত্ত্বেও হাটবাজার মনিটরিং করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে মূল্য বৃদ্ধির অপরাধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
