ফারুক আহমদ : উখিয়া ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত) সিরাজুল হক ও উখিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা খোরশিদা বেগমের ভোগ দখলীয় বসত ভিটার জায়গা জবর দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাসহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা বিরাজ করছে। স্থানীয় চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দফায় দফায় নানা হুমকি-ধমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে ওই শিক্ষক পরিবারের দম্পতি। নিরাপত্তা চেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভ’ক্তভোগী পরিবার।
ভূমিদস্যুর কবল থেকে নিজ পৈত্রিক বসতভিটার জায়গা রক্ষা করার জন্য বিজ্ঞ অতিরিক্ত কক্সবাজার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারা জারী চেয়ে মামলা দায়ের করেছেন। যার নং- আম.আর-২৭৬/২০১৯, তারিখ ০৬ মার্চ। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ শাহজাহান আলী বিরোধীয় জায়গার বিষয়ে সরজমিন তদন্তপূর্বক মতামতসহ রিপোর্ট দেয়ার জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য উখিয়া থানার ওসিকে আদেশ দেন। মামলায় বিবাদী করা হয় গুরা মিয়ার পুত্র কামাল উদ্দিন, গফুর উদ্দিন ও জহির উদ্দিন, মৃত আবদুল জব্বারের পুত্র গুরা মিয়া।
আদালতে দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করা হয়; উপজেলা সদরের রাজাপালংয়ের মৃত বদিউর রহমান সিকদার ১৯৫১-৫২ সালে ১৩নং সার্টিফিকেট মিচ ৪৮নং মামলা মূলে সরকারের নিলাম খরিদদার হিসেবে মালিক হন। মৌজা-ওয়ালাপালং, আর.এস খতিয়ান নং- ৪০৮, ২৬২ নং জোত, আর.এস দাগ নং- ৭১৭৪। তুলনামূলক বি.এস খতিয়ান নং- ১১৯০, বি.এস দাগ নং- ৬৮২৭ এর আন্দর ৯০ কড়া।
উক্ত জায়গার কিছু অংশ সিকদার বিল জামে মসজিদে ওয়াকফ করে দেন। উক্ত মসজিদের মোতয়াল্লি হিসেবে ভূলবশত: মৌলভী ফজলুল হকের নাম লিপিবদ্ধ হলে পরবর্তীতে দেওয়ানী আদালতে মামলা করে ফজলুল হকের স্থলে হাজী নাছির উদ্দিন কে মোতয়াল্লী নিযুক্ত করা হয়। যার মামলা নং- অপর ১৫৮/১৯৯৩।
মামলাতে আরও উল্লেখ করা হয়, মোতয়াল্লী হাজী নাছির উদ্দিন সিকদার বিল জামে মসজিদের ওয়াকফকৃত জায়গা-জমি দেখাশুনার জন্য ছোট ভাই অধ্যাপক সিরাজুল হককে কেয়ার টেকার হিসেবে দায়িত্ব দেন। তৎমতে অধ্যাপক সিরাজ ওয়াকফকৃত জায়গা সংস্কার ও রক্ষণা-বেক্ষনের পাশাপাশি ওই জায়গায় বাড়ি তৈরি করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে।
অধ্যাপক সিরাজুল হক অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী মালভিটা পাড়া গ্রামের গুরা মিয়ার পুত্র কামাল উদ্দিন (৪০), আমাদের ভোগ দখলীয় জায়গা জবর দখল করার জন্য নানা অপতৎপরতা চালিয়ে আসছিল। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৮ ফেব্রæয়ারী ইট, বালিসহ নির্মাণ সামগ্রী মজুত করে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে অবৈধভাবে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা চালায়। বাঁধা দিলে সন্ত্রাসী বাহিনীরা ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলাসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়। স্থানীয় জনগণ শোর চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসলে বড় ধরনের রক্তপাত থেকে আমরা রক্ষা পায়।
হয়রানীর শিকার উখিয়া ডিগ্রী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আরও জানান, ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে কামাল আমার পরিবারের সদস্যদেরকে প্রতিনিয়ত হুমকিসহ প্রকাশ্য আস্ফালন ও হাঁকাবকা করছে। বর্তমানে তাদের ভয়ে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগতেছি। অথচ, গুরা মিয়া কিংবা কামাল উদ্দিনের কোন স্বত্ত¡ বা দখল ওই জায়গায় কোন সময় ছিল না বা নেই। এমনকি কামাল উদ্দিনের পিতা গুরা মিয়া বর্তমানে যে জায়গায় বসবাস করছে উক্ত জায়গাটি আমাদের মালিক স্বীকার করে ভাড়াটিয়া হিসেবে আছেন বলে, তিনি আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন। কেবল গায়ের জোরে সন্ত্রাসী কায়দায় জবর দখলের মাতোয়ারায় মেতে উঠেছে।
এদিকে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, বড় ভাই বাদী হাজী নাছির উদ্দিনের দায়েরকৃত মামলায় বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনোনীত একজন প্রতিনিধি ঘটনাস্থল তদন্ত করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করেছে। এছাড়াও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় উখিয়া থানার এসআই ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ শিক্ষক পরিবারের বসত ভিটায় মামলার বিবাদীকে অনধিকার প্রবেশ কিংবা জবর দখল থেকে বিরত থাকতে বলা হয়।
