উখিয়ার রোহিঙ্গা বস্তি ফের অশান্তঃ হিটলিস্টে আরো ৯জন

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

শ.ম.গফুর, উখিয়া :

চাদাঁ আদায়, অপহরণ, গুম – খুন সহ বহুমুখী অপরাধ মুলক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি সহ দিন দিন অশান্ত হয়ে উঠছে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা বস্তি। গত ৪০ দিনের ভিতর২জন রোহিঙ্গা নেতা সহ ৩জন রোহিঙ্গাকে অপহরণ পূর্বক খুন করেছে রোহিঙ্গাদের সৃষ্ট আল ইয়াকিন নামের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন। বর্তমানে রোহিঙ্গা বস্তিতে খুন,ঘুম,অপহরণসহ নানান অপরাধ দেখা দেওয়ায় বস্তিসহ আশ পাশে অবস্থিত স্থানীয়দের মাঝেও বিরাজ করছে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। স্থানীয় এলাকাবাসি সহ রোহিঙ্গাদের দাবী দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার পূর্বক আইনের কাছে সোপর্দ করা না হলে ক্যাম্প এলাকা ও তৎসংলগ্ন কুতুপালং তথা উখিয়াবাসি হুমকির মূখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ককনা হয় দিনদিন এসব সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অপরাধের মাত্রা পুরো গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ার শংকা রয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৩ জুন রাতে আল ইয়াকিনের ২০/২২ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ কুতুপালংয়ের অনিবন্ধিত ক্যাম্পের অভ্যান্তরে হানা দিয়ে ই-১ ব্লক নেতা মোঃ আয়ুব মাঝি ও কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পের শরণার্থী আলী আহমদের ছেলে মোঃ সেলিম (২৬) কে তাদের ঘর লুটতরাজ চালিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তৎমধ্যে গত ১৮ জুন দুপুরে বালুখালী তেলীপাড়া খাল থেকে ভাসমান হাত পা বাঁধা ও গলা কাটা অবস্থায় মোঃ সেলিম এর ২৫জুন সন্ধ্যায় অপহৃত রোহিঙ্গা নেতা মোঃ আয়ুব মাঝির একই অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে উখিয়া থানা পুলিশ। একই ভাবে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গত ২৩ মে কুতুপালং নিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্পের মালয়েশিয়া ফেরত মৃত ইমাম হোসেনের ছেলে মোঃ শফি প্রকাশ বলি (২৬) কে রাতের অন্ধকারে শিবির থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের ৩ দিনের মাথায় ২৫ মে সকালে পার্শ্ববর্তী মধুরছড়া জঙ্গল থেকে রোহিঙ্গা মোঃ শফির প্রকাশ বলির লাশ উদ্ধার করে উখিয়া থানা পুলিশ। ১মাসের ব্যবধানে ৩টি চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড নিয়ে ক্যাম্প এলাকা সহ পুরো উখিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি দেখা দিয়ে চরম নানান শঙ্কা ও আতংক। এতে করে স্থানীয়রা রয়েছে উদ্বেগ উৎকন্ঠায়। কারণ হত্যাকান্ডে জড়িতদের এখনো পর্যন্ত আইনশৃংখলা বাহিনী আইনের আওতায় আনতে পারেনি।এরই মধ্যে গত ২৯জুন কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তুির চেয়ারম্যান আবু ছিদ্দিক কে প্রকাশ্য দিবালোকে সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু ভেবে ফেলে পালিয়ে যায়। তার অবস্থা এখনো শংকামুক্ত নয়।
কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবু ছিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুর সহ রোহিঙ্গা জানান, অপহরণকারী ও খুনীদের মধ্যে কুতুপালং শিবির ও বালুখালী বস্তির রোহিঙ্গা কলিম উল্লাহ, ছলিম উল্লাহ, ইসমাইল কুতুপালং বস্তির সন্ত্রাসী রোহিঙ্গা মোঃ জাবের (৩২), মোঃ নুর (২৮), মনির আহামদ (২৮), খুইল্যা মিয়া মুন্না (৩২), সলিম (২৬), কলিমুল্লাহ (২৮) ও বালুখালীর নতুন রোহিঙ্গা বস্তির মোঃ কালু (৩৫) ও মো ইসলাম (৩৩) এর নেতৃত্বে ২০/২২জনের সশস্ত্র একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গাদের নিকট থেকে অপরণ পূর্বক চাঁদা দাবী, খুন, ঘুমসহ বিভিন্ন হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। এসব সন্ত্রাসীরা সম্প্রতি ৩টি হত্যাকান্ড ঘঠিয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও বস্তিতে। আবু ছিদ্দিক আরো জানান, ঈদের পরের দিন কোন কারণ ছাড়া উক্ত সন্ত্রাসীরা আমাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে। আমার শোর চিৎকারে অন্যান্য রোহিঙ্গারা এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়। আমি কয়েকদিন চিকিৎসা শেষে বস্তিতে ফিরেছি। ওই সময় সশস্ত্র রোহিঙ্গারা হুলকার ছুড়ে বলে যায় “আরো ৯জন “হিটলিস্টে আছে। তাদেরও যান কবজ করে আত্ম সমর্পন করবো। একের পর এক অপহরণ ও খুনের ঘটনা ঘটায় আমরা যারা সরকারের আইন কানুন মেনে এখানে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করি, তাদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। কারণ, অপহরণকারী ও খুনীরা মিয়ানমারের কথাকথিত আল ইয়াকিনের পক্ষ হয়ে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের বিলুপ্ত আরএসওর নেতারা পৃষ্ঠপোষকতা করছে। তাতে বালুখালী ও কুতুপালংয়ের কিছু গ্রামী লোক জড়িত বলে সুত্রে জানা গেছে। তারা মূলত এসবের মূল নায়ক। রোহিঙ্গা মাঝিদের অনেকে নিরাপত্তা ও জানের ভয়ে রাতের বেলায় অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে রাত কাটাচ্ছে। তিনি সহ অনেক রোহিঙ্গা দাবী করে জানান, এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ না পাওয়া গেলে রোহিঙ্গারা বার্মা ও বাংলাদেশে সমানভাবে নির্যাতন, অপহরণ ও খুনের শিকার হলে তাদের আর কোন উপায় থাকবে না বলে তিনি জানান।
রাজাপালং ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বখতিয়ার আহমদ বলেন, কুতুপালং এলাকায় রোহিঙ্গা শিবিরে কারো নিয়ন্ত্রণ নেই। ওখানে দেশী, বিদেশী অনেক অখ্যাত, বিতর্কিত লোক, অবাধ বিচরণ করে থাকে। ফলে সেখানে নানা প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী/গ্রুপের তৎপরতা বৃদ্ধি পায় । তিনি বলেন, আমাকেও বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে ওইসব সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অজ্ঞাত নাম্বার থেকে। তিনি আরও জানান, কুতুপালংয়ের পার্শ্ববর্তী বালুখালীতে নতুন বস্তি হওয়ায় সশস্ত্র রোহিঙ্গারা অপরাধ সংঘটিত করে নিরাপদে কুতুপালং টু বালুখালী আর বালুখালী টু কুতুপালং বস্তিতে ঢুকে পড়ে। দ্রুত সময়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বা স্থানান্তরের দাবী জানান।