উখিয়ার উপকূলীয় মাদারবনিয়ায় ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা, আটক-১

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক :

উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের উপকূলীয় মাদারবনিয়া এলাকায় ৪র্থ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সে স্থানীয় মাদারবনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী।

এদিকে ধর্ষিতা ছাত্রী কনা (ছদ্মনাম) জানায় গত কয়েক মাস যাবত আমার বাবা একটি মামলায় কারাগারে রয়েছে। তার সুযোগে গত ২৫ জুন সোমবার রাতে বাড়ির সবাই যার যার মতে করে ঘুমিয়ে পড়ি, সেই দিন গভীরে রাতে আমাদের ঘরের দরজার শিকল খুলে স্থানীয় চাকমা পাড়ার চোয়াইনসুর পূত্র লাতু চাকমা, কেজাইয়ংনের পূত্র মঙ্গলা চাকমা, আর রবিন চাকমার পূত্র তাইমং চাকমা আমাদের ঘরে প্রবেশ করে, আর তাদের দেখে আমরা চিৎকার করলে মঙ্গলা ও তাইমং মিলে আমার মাকে বেধেঁ রাখে, তার মধ্যে লাতু চাকমা প্রথমে আমাকে ঝাপটে ধরে গায়ের কাপড় জোরপূর্বক ছিঁড়ে ফেলে, ধর্ষণের চেষ্টা করে, তখন রাতে অনেক বৃষ্ট্রি হচ্ছিল, পাশের কেউ আমাদের চিৎকার শুনেনি, তার কিছুক্ষন পর বৃষ্ট্রির আওয়াজ কমলে আমাদের চিৎকার শুনে পাশের বাড়ির লোকজন এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পালিয়ে যায় বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

এদিকে ঘটনার কয়েক দিন পার হলেও কেন তারা থানায় কোনো মামলা করেনি এমন প্রশ্নের জবাবে উক্ত ছাত্রীর মা জানান আমরা প্রথমে ঘটনার ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক কে জানাই, তার কাছে আমরা গরীব বলে কোনো সুবিচার না পেয়ে তার পরের দিন আমরা উখিয়া থানাতে গেলে একজন অফিসার আমাদের কে একটি মামলা করতে বলে, কিন্তু আমাদের কাছে টাকা না থাকায় কোনো মামলা না নিয়ে তিনি আমাদের অভিযোগটি ইনানী পুলিশ ফাঁড়িতে শালিশের জন্য পাঠিয়ে দেয়, এতে আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে বিষয়টি দুইদিন পর হলেও সাংবাদিকদের জানাই।

আর এই ব্যাপারে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের জানান, আমি ঢাকা থেকে থানায় এসেছি গত কাল ২৬ জুন সন্ধায়, এই রকম কোনো মামলার বিষয়ে আমার কাছে কেউ আসেনি, তবে আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি ভিকটিম পরিবারটি থানায় কার কাছে এসেছিল।

আর উক্ত ঘটনার ব্যাপারে মামলা করলে ভিকটিম পরিবারকে যথাযত আইনি সহায়তা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ধর্ষিতা ছাত্রীর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পাখি আক্তার জানান আমার বিদ্যালয়ের ছাত্রীটি ন্যায় বিচার পেতে যথাযত আইনি সহায়তা করব।

এই নির্মম ঘটনার ব্যাপারে উখিয়া থানা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি এই রকম কোনো অভিযোগ এখনো পাইনি বলে জানান, তবে এই ঘটনার ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করলে দোষীদের বিরুদ্ধে যতাযত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে অভিযুক্ত লাতু চাকমাকে মাদারবনিয়া এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে জানা গেছে। তাকে গ্রেফতার করতে গেলে উপজাতীয় পল্লীর চাকমা সম্প্রদায়ের কয়েকশ লোক পুলিশকে ঘেরাও করে ফেলে পরে উখিয়া থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে নিয়ে আসে বলে জানা গেছে।

ইনানী পুলিশ ফাঁড়ীর আইসি মো. আনিসুর রহমান সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় লাতু চাকমা নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। মেয়েটিকে ধর্ষনের চেষ্টা করা হয়েছে তার আলামত পাওয়া গেছে। তবে যেহেতু মেয়েটি ধর্ষতা হয়নি তাই তাকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়নি বলে জানান তিনি।