বিপুল পরিমাণে ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার
মো.শফি, টেকনাফ :
পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ইয়াবা সাম্রাজ্যের অধিপতি সাইফুল করিম ওরফে হাজী সাইফুল।
ঘটনাস্থল থেকে নয়টি এলজি, এক লাখ ইয়াবা ও ৪২ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ মে) রাত সাড়ে ১২টার দিকে স্থলবন্দর সংলগ্ন এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ কুমার দাস । নিহত সাইফুল করিম টেকনাফের শীলবনিয়া পাড়া এলাকার ডা. হানিফের ছেলে।
ওসি প্রদীপ কুমার দাস আরো জানান, সাইফুল করিমকে গ্রেফতার পূর্বক ব্যাপক জিজ্ঞেসাবাদে সে জানায় যে, গত কয়েক দিন পূর্বে ইয়াবার একটি বড় চালান ইঞ্জিন চালিত বোট যোগে মায়ানমার হইতে আনিয়া টেকনাফ মডেল থানাধীন টেকনাফ সদর স্থল বন্দরের সীমানা প্রাচীরের শেষ প্রান্তে নাফ নদীর পাড়ে মজুদ করিয়াছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে ইয়াবা উদ্ধারের জন্য ৩১/০৫/২০১৯খ্রিঃ তারিখ রাত ০০.৩০ ঘটিকার সময় উক্ত স্থানে পৌঁছলে পুলিশের উপস্থিতি টের পাইয়া তাহার অপরাপর সহযোগী অস্ত্রধারী ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। এতে ঘটনাস্থলে এসআই/রাসেল আহমেদ, কং/ইমাম হোসেন, কং/মোঃ সোলেমান আহত হয়। তাৎক্ষণিক আমার নির্দেশে নিজেদের জীবন সরকারী সম্পত্তি রক্ষার্থে পুলিশ ৫২ রাউন্ড গুলি করে । এক পর্যায়ে আটককৃত মোঃ সাইফুল করিম (৪৫) গুলিবিদ্ধ হয়। গোলাগুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে থাকলে আমরা গুলি করা বন্ধ করি। এক পর্যায়ে ঘটনাস্থল হইতে অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি করিতে করিতে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থলে সাইফুলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখান থেকে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এতে ঘটনাস্থলে এসআই রাসেল আহমেদ, কনস্টেবল ইমাম হোসেন, মোঃ সোলেমান আহত হয়। নিজেদের জীবন সরকারী সম্পত্তি রক্ষার্থে পুলিশ ৫২ রাউন্ড গুলি করে ।
নিহত সাইফুলের বিরুদ্ধে ৭টির মতো মাদক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি ।

সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে করা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সর্বশেষ তালিকায় ‘এক নম্বর ইয়াবা ব্যবসায়ী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে টেকনাফের শীলবনিয়া পাড়ার এই হাজী সাইফুল করিমকে।
এদিকে কয়েকদিন আগে যমুনা টেলিভিশনের কক্সবাজার প্রতিনিধি ইমরুল কায়েস সাইফুলের সাথে তার ভিডিওকলের একটি রেকর্ড ফেইসবুক টাইমলাইনে আপলোড করেন। এতে সাইফুলকে বলতে শুনা যায় তিনি শীঘ্রই দেশে ফিরে আত্মসমর্পন করবেন।
এরপর থেকে সাইফুলের আত্মসমর্পনের খবর ছড়িয়ে পড়ে।
বিভিন্ন অনলাইন ও পত্রপত্রিকায় সাইফুল আত্মসমর্পন করছেন বলে সংবাদ ও প্রকাশিত হয়েছিল।
এছাড়া সাইফুলকে নিয়ে সীমান্ত এলাকায় নানা ক্যারিশম্যাটিক গল্প চালু রয়েছে।
যতটুকু জানা যায়, বিবিএ পাশ করে সাইফুল ২০০০ সালের দিকে টেকনাফ স্থল বন্দর কেন্দ্রিক সিএন্ডএফ ব্যবসা শুরু করেন।
নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে অল্পদিনে সে ব্যবসায় সফলতা অর্জন করেন। বিয়ে করেন টেকনাফের প্রভাবশালী পরিবারের মেয়ে বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহর বোনকে।
কিন্তু পরবর্তীতে ইয়াবার অন্ধকার সাম্রাজ্যে ঢুকে পড়েন তিনি। অল্পদিনে বনে যান ইয়াবা সাম্রাজ্যের অধিপতি।
এসময় সীমান্ত এলাকার রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, পুলিশ, সাংবাদিক, প্রশাসন, ব্যাংকার, ধর্মীয় নেতা সবাই তাকে সমীহ করে চলতে শুরু করেন। বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী অনুষ্ঠান ছাড়াও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও সাইফুলের সরব উপস্থিতি লক্ষ করা যেত।
শুধু সীমান্ত এলাকায় নয় দেশের বহু উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সাথে তার দহরম মহরম সম্পর্কের কথা সীমান্ত এলাকায় প্রচার আছে।
গতবছরের মে মাসে দেশব্যাপী চল যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে শ্লোগানে দেশব্যাপী মাদকবিরুধী অভিযান শুরু হলে সাইফুল আত্মগোপনে চলে যান। সেই থেকে তাকে প্রকাশ্যে আর দেখা যায়নি।
অবশেষে বন্দুকযুদ্ধে ইয়াবা কিং সাইফুলের ক্যারিশম্যাটিক চ্যাপ্টারের সমাপ্তি ঘটলো।
