হ্নীলায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে ইউপি চেয়ারম্যান এইচকে আনোয়ার
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম,টেকনাফ।
রোহিঙ্গা ইস্যু ও সামাজিক বিষয় নিয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান এইচকে আনোয়ার (সিআইপি)। সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনি অত্র ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের সহায়তা কামনা করেন।
১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় হ্নীলা জামিয়া দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসা মিলনায়তনে সংবাদকর্মীদের সাথে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এইচকে আনোয়ার (সিআইপি) মতবিনিময় করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন হ্নীলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জালাল উদ্দিন চৌধুরী,জালাল আহমদ মুন্সি, কর্মরত সাংবাদিক মমতাজুল ইসলাম মনু,হুমায়ূন রশিদ,জসিম উদ্দিন টিপু,আমান উল্লাহ আমান,মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম,হেলাল উদ্দিন,এটিএন ফায়সাল,সাদ্দাম হোসাইন,মোঃ রফিক,ফরিদুল আলম ও আব্দু শুক্কুরসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এসময় তিনি বলেন,আমরা টেকনাফ উপজেলায় যারা বসবাস করে আসছি তারা দীর্ঘ ৪০বছর ধরে রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভূক্তভোগী হয়ে আছি। বর্তমানে হ্নীলা ইউনিয়নের ৫৩হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে ৮৭হাজার নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এইসব রোহিঙ্গাদের কারণে মাদক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ,পরিবেশ দূষণ,আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ও এইডসের মতো মরণব্যাধি রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করে আসছি। অতিরিক্ত রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয় মানুষ চরম আতংক ও ঝুঁিকর মধ্যে রয়েছে। গত মাসের ২৫ আগষ্ট হতে মিয়ানমার সরকারী বাহিনীর হাতে খুন ও ধর্ষণের শিকার এবং নির্যাতিত-নিপীড়িত হয়ে উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অন্যান্য স্থানের মতো হ্নীলা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার ভাড়াবাসা,স্বজন ও পরিচিত জনদের বাসায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। আনুমানিক আড়াই থেকে তিন লক্ষ রোহিঙ্গা এখন পুরো হ্নীলা ইউনিয়নে অবস্থান করছে বলে তিনি দাবী করেন। অনেকে লোক দেখানো ত্রাণ বিতরণের নামে স্বার্থ হাসিলের পাশাপাশি প্রধান সড়কে বিশৃংখল পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। কেউ মানবিক সহায়তায় অত্র ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণ করতে এসে পরিষদকে অবহিত করে সহায়তা চাইলে হ্নীলা ইউপির পক্ষ থেকে বিশৃংখল পরিস্থিতি এড়াতে সার্বিক সহায়তা দানের আশ্বাস প্রদান করেন। কেউ সহায়তার নামে এসে আইএস,জঙ্গিবাদ,আল ইয়াকিন এবং আরশার মতো সংগঠনের সন্ত্রাসবাদের মতো অপতৎপরতায় জড়িয়ে পড়ছে কিনা সেই ব্যাপারে সবাইকে সর্তক থাকার আহবান জানানো হয়। অনেক বিত্তবান রোহিঙ্গা কক্সবাজার,চট্টগ্রাম ও ঢাকা শহরে ফ্লাট বাড়ি কিনে অবস্থান করছে। তাদেরও চিহ্নিত করে নিবন্ধনের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে জানান। তাই টেকনাফ উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সিদ্বান্তমতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এসব রোহিঙ্গাদের সরকার প্রণীত তালিকায় অর্ন্তভূক্তি করে নির্ধারিত স্থানে আনা হলে তারা যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে। এই ব্যাপারে অত্র ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড মেম্বার,সংরক্ষিত মহিলা মেম্বারসহ সচেতন মহলকে আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়। অন্যথায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দাতাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,কতিপয় ওয়ার্ড জনপ্রতিনিধি,প্রভাবশালী ব্যক্তি সীমান্ত রক্ষী বাহিনী,আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অন্যান্য সদস্যদের সাথে আতাঁত করে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের জিম্মি করে এবং সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এপার থেকে ওপারে গিয়ে চোরাই পথে গরু-মহিষ এনে পকেটভারী করছে বলে অভিযোগ তোলেন। অভিযুক্তদের অবিলম্বে আইনের আওতায় জন্য তিনি উপজেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
